২৫শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার, ৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

স্বৈরশাসক সিসির পতন হবে কবে?

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : এপ্রিল ৩০ ২০১৬, ০০:৩৭ | 671 বার পঠিত

সেনাবাহিনীর জেনারেল থেকে মিশরের প্রেসিডেন্ট বনে যাওয়া আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকির সম্মুখীন। প্রেসিডেন্টের সর্বোচ্চ ক্ষমতা দ্বারা নিজের মসনদ রক্ষার শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই স্বৈরশাসক।

সিসি ও তার সেনা মিত্ররা দেশটির ৬৫ লক্ষ বেসামরিক সরকারি কর্মচারীকে অবিশ্বাস করে। নিরীহ পুঁজিপতি ব্যবসায়ী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে স্থিতিস্থাপক সম্পর্ক স্থাপনে সিসি প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী নিরাপত্তা প্রদানের চেয়ে নিরাপত্তাহানীর কাজেই বেশি মনোযোগী।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সিসি যে সিদ্ধান্তই গ্রহণ করুক না কেন তা মিশরের রাজনৈতিক, সামাজিক অথবা অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা দূর করার ক্ষেত্রে কোনো কাজে আসবে না বলে নিশ্চিত করেই বলা যায়। জেনারেল সিসির সংকীর্ণ নীতি মিশরের শাসন ব্যবস্থাকে ‘ভূতগ্রস্থ’ করে রেখেছে।

বিপ্লব পরবর্তী সময়ে জনগণের দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০১১ সালের পরে যারাই মিশরের শাসন ক্ষমতায় এসেছেন তাদের সকলকেই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

বর্তমানে পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করেছে। ২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি প্রথম বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার পর থেকে ৫ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পথে। কিন্তু এই সময়ের ব্যবধানে হোসনি মুবারকের নির্মম শাসনের হাত থেকে মুক্ত হওয়ার বদলে মিশরীয়রা পড়েছে আধুনিক যুগের সবচেয়ে অত্যাচারী শাসকের কবলে। শুধু তাই নয়, পুলিশি নির্যাতনের বর্বরতা ছাড়িয়ে গেছে মধ্যযুগীয় পৈশাচিকতাকেও।

রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের ফলে ভিন্নমতাবলম্বীরা প্রতিবাদ করার শক্তি হারাবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু এর পরিবর্তে মিশরীয়রা খুনি পুলিশ বাহিনী, হিংসাত্মক বিচার বিভাগ ও অবিচারের বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব প্রতিবাদে সরব হয়ে উঠেছে।

বর্তমান সিসি প্রশাসনের অবস্থা মোবারকের শেষের দিনগুলো থেকেও ভয়াবহ ও নাজুক।

২৫ বছরের মধ্যে মিশরের অর্থনীতি বর্তমানে সবচেয়ে ভঙ্গুর সময় পার করছে। প্রধান শিল্প পর্যটন ধ্বংসের পথে, বর্ধিত সুয়েজ খাল কোনো আশার আলো দেখাতে ব্যর্থ এবং আরব মিত্ররাও সাহায্য-সহযোগিতা করতে করতে ক্লান্ত।

মিশরীয় পাউন্ডের মূল্যমান প্রতিনিয়ত হ্রাস পাচ্ছে। আর এর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম। সময় মতো প্রদান করা হচ্ছে না সরকারি কর্মচারীদের বেতন, বেকারত্বের হার যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পথও সুগম নয়।

২০১২ সালের ডিসেম্বরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির সরকার সংবিধান পুর্নগঠনের ঘোষণা দিলে ‘প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে’র সূত্রপাত ঘটে। মুরসি সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সিসি সে সময় বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্টের এই বিভক্তিমূলক উদ্যোগ দেশকে বিপর্যয়ের মুখে পতিত করবে’। এর ৭ মাস পরে সিসি মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করেন।

একইভাবে গত সপ্তাহে সেনাবাহিনীর সুপ্রিম কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট সিসিকে বলেছে, সৌদি আরবের নিকট দ্বীপ দু’টি হস্তান্তর করলে দেশের ‘জাতীয় গৌরব ধুলিস্যাৎ হবে এবং জনগণ নাখোশ হবে’।

সেনাবাহিনীর সুপ্রিম কাউন্সিল কি তাহলে সিসির সাথে দূরত্ব তৈরি করছে এবং নিরপেক্ষভাবে দেশ রক্ষার কাজে মনোনিবেশ করছে?

সিসির প্রেসিডেন্সির পিছনে অনেক বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবে সেসব বিনিয়োগকারীরা সিসির দিক থেকে পাওনা লভ্যাংশ বুঝে না পেলে তাকে ত্যাগ করতে এক মিনিটও চিন্তা করবে না। যদিও সমাজ বিজ্ঞানীরা ২০১১ সালের মতো আরেকটি গণঅভ্যুত্থানের সম্ভাবনার কথা এখনো জোর দিয়ে বলছেন না।

অনেকেই ধারণা করেন ২০১৩ সালের ক্যুর পিছনে আন্তর্জাতিক মদত ছিল বলেই সিসি বিনা বাঁধায় ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে পেরেছিলেন। আর সিসির বিরুদ্ধেও এমন মদতদাতার যে অভাব নেই একথা অনায়াসে বলা যায়।

বাস্তবতা হলো, রাষ্ট্রযন্ত্র ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম। দেশের ভেঙ্গে পড়া অর্থনীতিকে সোজা করা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে দেয়ার কোনো উপায় স্বৈরাচারী জেনারেল সিসির হাতে নেই।

প্রশ্ন হল, স্বৈরাচারী সিসির পতন হবে কখন?

আসলে ইতিমধ্যেই তার পতন হয়েছে। শুধুমাত্র মঞ্চস্থ হওয়াটাই বাকি।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4156894আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 14এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET