৩০শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

সোনাগাজীতে উপকূলীয় জনগন ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : জুলাই ০৫ ২০১৬, ১৪:১৫ | 622 বার পঠিত

মাতামুহুরী_resized_4সোনাগাজী ( ফেনী)প্রতিনিধি: জহিরুল হক খাঁন (সজীব)-
চীন দেশের জনগনের দুঃখ হোয়াংহো নদী আর সোনাগাজীর কিছু জনগনের দুঃখ মাতা মুহুরী নদী। ঈদের আনন্দে যখন সারা দেশ ভাসছে, তখনই সে ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়ে মুখ ফিরিয়ে চোখে জলে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিতে পারছেন না সোনাগাজী উপজেলার নদী উপকূলীয় অঞ্চলের জনগন। বড় ফেনী নদীর/মাতা মুহুরী নদীর অব্যাহত ভাংঙ্গনে উপজেলার চরচান্দিয়া, চরদরবেশ ও সদর ইউনিয়নের ৮/১০টি গ্রামের হাজার হাজার একর ফসলিয় জমি, রাস্তাঘাট, স্কুল, মাদ্রাসা, আশ্রায়ণ কেন্দ্র, মন্দির, মসজিদ, শত শত ঘরবাড়ি সহ বেশ কিছু স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে উক্ত এলাকার হত দরিদ্র জনগন। বিশেষ করে উপজেলার চর চান্দিয়া ইউনিয়নের দক্ষিন পূর্ব চরচান্দিয়া, দক্ষিণ চরচান্দিয়া, সদর ইউনিয়নের চর খোন্দকার, চর খোয়াজ, থাক খোয়াজের লামছি, চর দরবেশ ইউনিয়নের মৌল্লার চর, চর আবদুল্লা, পশ্চিম আদর্শ গ্রামসহ ৮/১০টি গ্রামের জনগন চোখের জলে ঈদ উদযাপন করবে। নদী ভাংঙ্গন কবতিল এলাকার জনগন জানান, দ্রব্য মূলের উর্ধ্ধগতির কারণে অভাবের সংসারে হত দরিদ্র পরিবারে ছেলে, মেয়েদের ভরন পোষণ করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। পূর্বে গোলা ভরা ধান, মাঠ ভরা ফসল, গোয়ালের গরু,পাল ভরা মহিশ,পাল ভরা বেড়া সহ পরিবারে নিত্য প্রয়োজনীয় সব কিছু ছিল তাদের। অভাব কি জিনিস এলাকার অনেক পরিবারের ছেলে মেয়েরা দেখেনি। কিন্তু বর্তমানে নদী ভাংঙ্গনে সর্বশান্ত হয়ে সব কিছু হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে হচ্ছে। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাঁস ঠিকমত প্রতিদিন পেট ভরে খাবার দিতে পারছে না ছেলে মেয়েদের। ঈদ উপলক্ষ্যে নতুন জামা-কাপড় কিনে দেয়া এই যেন দুঃস্বপ্ন হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি দক্ষিণ পূর্ব চর চান্দিয়া গ্রামের জিন্নাত আলী জামে মসজিদ, বায়তুল্লা আমান জামে মসজিদ,ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় উক্ত এলাকার ধর্মপ্রাণ মসুলমানরা ঈদের জামাতে নামাজ আদায় করবে রাস্তায় পাশে টিনসেড খোলা মসজিদে। উক্ত এলাকার জনগন সর্ব হারিয়ে নিঃস্ব অবস্থায়  জীবন-যাপন করছে। এলাকার জনগনের আত্ম চিৎকার ও কান্নার রোলে প্রতিনিয়ত আকাশ, বাতাস ভারী হয়ে ওঠছে। বিভিন্ন স্থান থেকে উৎসুক জনতা ভাংঙ্গনের দৃশ্য দেখতে এসে এলাকার জনগনের সাথে কান্নায় সামিল হয়ে পড়ে। কেউ যেন চোখের পানি সামলাতে পারে না। তাদের কি দেখার কেউ নেই? দুঃখে যাদের জীবন গড়া মানুষ সরকারী ও বেসরকারী সাহায্য থেকে বঞ্চিত নদী ভাংঙ্গন এলাকার জনগন। নদীভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ জাকির হোসেন,মেহেদি হাসান  জানান, আমরা অনেকটা নিরাপত্তাহীন ও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে কষ্ট করে জীবন যাপন করছি। এদিকে ৬নং চর চান্দিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন খোকন ঈদ উপলক্ষ্যে ভিজিএফ কার্ডের চাল ভাংঙ্গনের ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে বিতরণ করেন। এছাড়াও নদী ভাংঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষ গুলোকে ঈদের আনন্দ দিতে প্রভাবশালিরা এগিয়ে এসে সাহায্য সহযোগিতার হাত প্রসারিত করলে এলাকার জনগণ উপকৃত হবে। তারপরও সরকারের পৃষ্টপোষকতা সঠিক ভাবে ফেলে এবং বাঁকা নদী সোজা করণ প্রকল্পটি সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন করা হলে উক্ত এলাকাবাসী সহ পুরো সোনাগাজী উপজেলা বাসী ভাংঙ্গনের কবল থেকে রক্ষা পাবে। তা না হলে অচীরেই দেশের মানচিত্র থেকে সোনাগাজী নামের একটি অংশ  হারিয়ে যাবে নদীর গর্ভে। ভাংঙ্গন কবলিত এলাকায় বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ না থাকায় প্রতিদিন স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে নদীতে একটু জোয়ার বেশি হলেও উপকুলীয় অঞ্চলের বাড়িঘর গুলোতে জোয়ারের লোনা পানি প্রবেশ করে এলাকার জনসাধারণের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়ে থাকে। বাঁকা নদী সোজাকরণ প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি উক্ত এলাকায় বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা একান্ত জরুরী। জোয়ারের পানির কারণে অনেক সময় ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা এলাকার অস্থায়ী মসজিদগুলোতেও সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হিমশিম খেতে হয়।

Attachments area
Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4165769আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 7এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET