২০শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • রাজনীতি
  • সরকার আসলাম চৌধুরীকে নিয়ে নাটক সাজিয়েছে: বিএনপি

সরকার আসলাম চৌধুরীকে নিয়ে নাটক সাজিয়েছে: বিএনপি

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : মে ১৮ ২০১৬, ০০:৪৪ | 654 বার পঠিত

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাজকোষ চুরির (রিজার্ভ চুরি) ঘটনায় কোণঠাসা সরকার বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এম আসলাম চৌধুরীকে নিয়ে নাটক সাজিয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন রিজভী।

রিজভী বলেন, ভারত বাংলাদেশের একটি বন্ধুপ্রতিম দেশ। সেই দেশে বসে বাংলাদেশের সরকার পতনের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ হাস্যকর।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, মানুষের দৃষ্টি সরাতে সরকার এখন ‘ইসরাইল ইসরাইল’ করছে।

সম্প্রতি ইসরাইলের এক রাজনীতিকের সঙ্গে ভারতে আসলাম চৌধুরীর কথিত বৈঠকের জেরে বিএনপির এই নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাকে সোমবার সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

রিজভী বলেন, গণতন্ত্রে সরকারের সমালোচনা অনুমোদিত বিষয় হলেও ভোটারবিহীন সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো কথা শুনলেই চমকে উঠে। কারণ তারা জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত নয়, সেজন্য সমালোচনা শুনলেই দিশেহারা হয়ে পড়ে। আর একারণেই ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার মতো একজন প্রবীণ আইনজীবীকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাগারে প্রেরণ করেছে।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কয়েকটি বানোয়াট মিথ্যা মামলায় জামিন নিতে গেলে তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। সরকারের ঘৃণ্য চক্রান্তেই তার মতো একজন খ্যাতিমান আইনজীবীকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

রিজভী বলেন, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার বিরুদ্ধে দেয়া সব মিথ্যা মামলা চক্রান্তমূলক। দেশের কোনো মানুষই বিশ্বাস করে না তার মত একজন প্রবীণ আইনজীবী নাশকতামূলক কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে পারেন। তাকে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় কারাগারের প্রেরণের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। সেই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে গত ১৫ মে দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে পটুয়াখালী জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. মজিবুর রহমান টোটন, যুব বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. তপন, সাবেক কমিশনার লতিফুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

এসময় পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় মিছিলে বিএনপি’র ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। গাজীপুরে কালিয়াকৈরে পুলিশ মিছিলের ওপর গাড়ি তুলে দিয়ে নারকীয় তান্ডব ঘটায়। পুলিশের গাড়ি চাপায় দুই জন ছাত্রদল কর্মী গুরুতর আহত হয়েছে। তাদেরকে ঢাকার একটি হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও ময়মনসিংহ সদর ও নান্দাইল, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বরিশাল, খুলনা সদরে পুলিশ বিএনপি’র বিক্ষোভ মিছিলে আক্রমন চালিয়ে নেতাকর্মীদেরকে আহত ও গ্রেফতার করে কর্মসূচি পন্ড করার অপচেষ্টা চালানো হয়।

বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, খুলনায় কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারের বাসভবনের সামনে দুস্কৃতিকারীদের কর্তৃক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় বিএনপি’র ওপর দায় চাপিয়ে ৩ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার এবং সারা শহরে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ীতে বাড়িতে হানা দিয়ে এক ভয়াল পরিস্থিতি তৈরী করে নেতাকর্মীশূন্য করা হয়েছে।

নির্বাচনী সহিংসতা, ধরপাকড় ও নির্বাচন কমিশনের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, চলমান স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো নিয়ে ভোটারবিহীন সরকারের অশুভ ইচ্ছার ষোলকলা পূর্ণ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার কারণেই প্রতি ধাপের নির্বাচন পূর্বের ধাপগুলোর চেয়ে নির্বাচনী সন্ত্রাস তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছে।

তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাধীন কসবা উপজেলায় আগামী ২৫ মে পৌর নির্বাচন ও ২৮ মে ইউপি নির্বাচন। এই নির্বাচন দু’টিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন বিএনপি নেতাকর্মী ও ভোটারদের বাড়ীতে বাড়ীতে ব্যাপক তাণ্ডব চালাচ্ছে। এমনকি পৌর ও ইউপি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদেরকেও এলাকায় থাকতে দিচ্ছে না পুলিশ। অনেকেই এখন আতঙ্কিত হয়ে ঢাকায় এসে আশ্রয় নিয়েছেন। কসবায় নির্বাচনী আমেজ নয়, বরং সেখানে নারকীয় ভয়াল পরিবেশ বিরাজ করছে।

তিনি বলেন, প্রকৃত গণতন্ত্রের সারবত্তা নির্ভর করে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠন, মিছিল-সমাবেশের স্বাধীনতার ওপর। সভা-সমাবেশ আমাদের রাষ্ট্রীয় সংবিধান স্বীকৃত। দেশে ভোটারবিহীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণতন্ত্র সম্পর্কে একটা অনুভুতি আছে, সেটি হলো-ভয় ও বিতৃষ্ণার সংমিশ্রণ। এবং সেজনই এদেশে এখন চলছে এক ব্যক্তির হুংকারের শাসন। তিনি নিজেকে রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানের উর্দ্ধে মনে করেন।

তিনি সংবিধান স্বীকৃত মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে অগ্রাহ্য করে তার হুকুম তামিল করানোটাকেই সবচাইতে বড় আইন বলে সবাইকে মেনে নিতে বাধ্য করছেন। কারণ আইনগতভাবে যেসব সরকারী সংগঠনের হাতে হাতে বন্দুক থাকে সেসব সংগঠনগুলোকে নিজের দলের লোকদেরকে দিয়ে গড়ে তুলেছেন। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নামে এই গড়ে তোলা বাহিনী এখন দেশের প্রচলিত সকল আইনের উর্দ্ধে উঠে একদলীয় শাসনের ভিত্তি রচনা করেছে।

তিনি সরকারকে অবিলম্বে গণতন্ত্রের পথে ফেরার আহবান জানান। সেই সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4148843আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 8এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET