৩০শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

শালবন বিহার: মাটি চাপায় সংস্কৃতি-সভ্যতা

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : জুলাই ১৮ ২০১৬, ০০:৩০ | 627 বার পঠিত

13713462_1151138964929018_433151932_nএম.এ.হাসান,শালবন বিহার(কুমিল্লা)থেকে ফিরে: মাটির নিচে চাপা পড়েছিল একটি সভ্যতা-সংস্কৃতি। ৫০ এর দশকে পাহাড় খুঁড়েই পাওয়া গেল সেই সভ্যতা-সংস্কৃতির ধ্বংসাবশেষ। প্রায় ১৩শ বছরের পুরনো মাটির নিচের প্রতিটি বস্তুুই থেকে গেছে অবিকল। এখানেই লুকানো ছিল বিশ্ববিদ্যালয়, ধর্মচর্চার কেন্দ্র, প্রশাসনিক কেন্দ্র ও একটি বৌদ্ধ জাতীর সভ্যতা সংস্কৃতি। বলছিলাম কুমিল্লার ময়নামতি শালবন বিহারের কথা। ১৩শ বছর পরেও মনে হয় শালবন বিহারের সভ্যতা এখনও জীবন্ত। অনেকবার গিয়েছি সেই প্রাচীন জনপদে। কখনো ভেবে দেখিনি, এখানেই একটি জনপদ ছিল।

এদেরও নিজস্ব সংস্কৃতি ছিল। ভাষা ছিল। তবে এবারের ময়নামতি ভ্রমনটা ছিল একটু ভিন্ন। ১৩ জুলাই সকাল ১০টায় শালবন বিহারে প্রবেশের পর যেটি মন নাড়া দিল, সেটি হল বিহারে গাঁথুনির ইট। একটি ইটও এদিক-সেদিক হয়নি। এমন মসৃন ইট একবিংশ শতাব্দীতেও পাওয়া দুস্কর হবে। প্রশ্ন জাগে, ৮শ শতকে এমন সুনিপুন চমৎকার সাইজের ইট তৈরি হলো কিভাবে। বিহারের নির্মানশৈলী দেখে নিঃসন্দেহে বলা যায়, শালবন বিহারের প্রাচীন এ সভ্যতাটি ছিল একটি অভিজাত সভ্যতা। দেব বংশের ৪র্থ রাজা শ্রী ভবদেব খ্রিষ্টীয় ৮ম শতকে এ বিহারটি নির্মান করেন। এটি খননের পূর্বে ‘রাজার বাড়ি’ নামে পরিচিত ছিল। তবে এটির মূলনাম ছিল ‘ভবদেব মহাবিহার’। বর্গাকার বিহারটির ৪টি দিক রয়েছে। প্রতিটি দিকের দৈর্ঘ্য ৫৫০ ফুট। 13689351_1151138951595686_1926826856_n

পুরো বিহারে ১১৫ টি কক্ষ রয়েছে। যেখানে বৌদ্ধ সন্নাসীরা ধ্যান করতেন। মধ্যভাগে রয়েছে একটি আকর্ষনীয় বৌদ্ধ মন্দির। এর চারপাশে রয়েছে ছোট ছোট আরও ১২টি মন্দির। এগুলোকে ঘিরে আছে ৪টি স্তুুপ। যেখানে অবসর সময় কাটাতেন প্রাসাদের বাসিন্দারা। উত্তর দিকে রয়েছে একটি বিশালাকার তোরনের চিহ্ন। যেখান দিয়ে মূল বিহারে প্রবেশ করা যেত। মূল ফটকের পূর্ব পাশে রয়েছে কূপ। সে সময়ের বৌদ্ধ শাসকশ্রেনী ও ভিক্ষুরা এ কূপ থেকে পানি সংগ্রহ করে পানাহারসহ যাবতীয় প্রয়োজন মেটাতেন। বাংলাদেশ প্রত্নতত্ব অধিদপ্তর প্রধান মন্দিরটিতে ৬টি ও সমগ্র বিহারটিতে ৪টি নির্মান যুগের প্রমান পেয়েছে। ১ম ও ২য় যুগের ধ্বংসাবশেষ ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম যুগের ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়েছে। ৬ষ্ঠ নির্মানযুগে নির্মিত মন্দির কাঠামোর উপরিভাগ ও স্থাপত্যশৈলি কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে।

প্রধান মন্দিরটি ৩য় নির্মানযুগে ক্রুশ আকৃতি ধারন করে চারদিকে বিহার বেষ্টিত হয়ে একটি বিশাল প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়। এটি মন্দির, প্রশাসনিক কেন্দ্র ও মধ্যযুৃগে একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সমন্বিত ভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। বিহার ও বিহার সংলগ্ন অঞ্চলে ব্যাপক খননকাজ চালায় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। উদ্ধার করা হয় ব্রোঞ্জ, কষ্টি পাথরসহ বিভিন্ন মূলবান পাথরের মূর্তি, পোড়ামাটির ফলক, নকশাকৃত ইট, মুদ্রা, তৈজসপত্র, যুদ্ধের সরঞ্জাম ও নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য সামগ্রী। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় থাকার প্রমান পাওয়া যায়, সংস্কৃতি ও বর্মী ভাষায় হাতে লেখা তালপাতা ও উন্নমানের কাগজের অংশগুলো দেখে। এছাড়া মূলবান পাথরে সংস্কৃত ভাষায় খোদাই করে লেখা একটি ফলক সে যুগের উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার পরিচয় বহন করছে।

আরেকটি আশ্চর্যের বিষয় হলো, আব্বাসীয় বংশের শেষ খলিফা মুত্তাসিম বিল্লাহ (১২৪২-১২৫৮) এর শাসনামলের একটি স্বর্নমুদ্রা পাওয়া গেছে শালবন বিহার থেকে ৫কি.মি দূরে আরেকটি স্থাপত্য নিদর্শন কোটিলা মুড়ায়। এ থেকে বুঝা যায়, বানিজ্য নগরী বাগদাদের সাথেও বিহারের বাসিন্দাদের বানিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। এসব প্রত্মতাত্ত্বিক সম্পদ বিহারের পাশেই ময়নামতি জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। সংস্কৃতি মন্ত্রনালয় জাদুঘরটি রক্ষনাবেক্ষন করছে। শালবন বিহারটি প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তর নান্দনিক সাজে সাজিয়েছে। প্রতিদিন দেশ-বিদেশের অসংখ্য দর্শনার্থী ভিড় জমান প্রাচীন বিহারের সভ্যতা দেখতে। এ সভ্যতা ৬ষ্ঠ থেকে ১২শ শতাব্দীর প্রাচীন বঙ্গ, সমতটেরই অতীত উপাখ্যান।

লেখক:সাংবাদিক, ফেনী।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4165719আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 1এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET