৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৮ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

শব্দ দূষণ বন্ধ করুন

হুমায়ন আরাফাত, আশুলিয়া করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : জুন ০৯ ২০১৭, ২২:৩২ | 668 বার পঠিত

ইমরান খান রাজ
সাংবাদিক, লেখক।
দোহার-ঢাকা।

শব্দ দূষণ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক বিরাট সমস্যা। বর্তমান আধুনিক যুগেও শব্দ দূষণ নামক ব্যাধি আমাদেরকে প্রতিনিয়ত অশান্তির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অতিরিক্ত শব্দ দূষণের ফলে বাড়ছে মানসিক চাপ, কমে যাচ্ছে আমাদের স্বাভাবিক শ্রবণ শক্তি এবং সেই সাথে বাড়ছে কানের বড় বড় জটিল সমস্যা। যার চিকিৎসা ব্যয় সাধারণের আওতার বাইরে চলে গেছে। শব্দ দূষণ একটি অপরাধমূলক কাজ। শব্দ দূষণের ফলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া, কর্মক্ষেত্র, হাসপাতালের রোগীদের অতিরিক্ত মানসিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। শব্দ দূষণ বন্ধ করতে সরকার বহুবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। কারন সরকার এখনো পর্যন্ত কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এবং কোন আইনানুগ ব্যবস্থাও নেয়া হয়না শব্দ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে। তাই তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে প্রতিদিন। শব্দদূষণ রোধ করার জন্য সরকার হাইড্রোলিক হর্ন আমদানি নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু এরপরও শব্দদূষণ কমছে না বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে। শব্দ দূষণ রোধে আমাদের দেশে আইনের কমতি নেই। কমতি রয়েছে প্রয়োগের। ২০০২ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সংস্থা (বেলা) শব্দদূষণ বন্ধে আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। ২০০২ সালের ২৭ মার্চ উচ্চ আদালত হাইড্রোলিক হর্ন এবং বিকট শব্দ সৃষ্টিকারী যে কোন ধরনের হর্ন গাড়িতে সংযোজনের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং গাড়িতে বাল্ব হর্ন সংযোজনের নির্দেশ প্রদান করে। এই আইন ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে শাস্তির বিধানও প্রচলিত আছে। এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ ১৯৭৬ এর ২৫, ২৭, ২৮ ধারামতে শব্দদূষণ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে অর্থদন্ড ও কারাদন্ড উভয়েরই বিধান রয়েছে। মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এর ১৩৯ এবং ১৪০ নং ধারায় নিষিদ্ধ হর্ন ব্যবহার ও আদেশ অমান্য করার শাস্তি হিসেবে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদন্ড ও অর্থদন্ডের বিধান রয়েছে। ১৯৯৭ সালের পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী নীরব এলাকায় ভোর ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ৪৫ ডেসিবল এবং রাতে ৩৫ ডেসিবল, আবাসিক এলাকায় দিনে ৫০ ডেসিবল এবং রাতে ৪০ ডেসিবল, মিশ্র এলাকায় দিনে ৬০ ডেসিবল ও রাতে ৫০ ডেসিবল, বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৭০ ডেসিবল ও রাতে ৬০ ডেসিবল এবং শিল্প এলাকায় দিনে ৭৫ ডেসিবল ও রাতে ৭০ ডেসিবলের মধ্যে শব্দের মাত্রা থাকা বাঞ্ছনীয়। এই আইন অনুযায়ী হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকার নির্ধারিত কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে ১শ মিটার পর্যন্ত এলাকাকে নীরব এলাকা চিহ্নিত করা হয়। শব্দ দূষণের বিরূপ প্রভাব শুধু মানবজাতি নয়, পশুপাখির ওপরও পরছে। শব্দ দূষণের ফলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বিলুপ্ত হচ্ছে নানা জাতের পশুপাখি। এ ক্ষতি পুড়ো বাঙ্গালি জাতির। এভাবে চলতে থাকলে একসময় পশুপাখিগুলো আমাদের শহর থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে। যা আমাদের জন্য অমঙ্গল বয়ে আনবে। আমাদের ঢাকাশহরসহ বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে যানবাহন এবং একই সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে শব্দ দূষণও। এই হার হ্রাস করতে হলে এখনই আমাদেরকে সতর্ক হতে হবে। শব্দ দূষণের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে সবাইকে অবগত করতে হবে। নিজে সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি সতর্ক করতে হবে চালকদেরকে। রাজধানীতে যানজট সমস্যার পাশাপাশি শব্দদূষণ একটি মারাত্মক সমস্যা। আইন থাকলেও এর যথাযথ প্রয়োগ না থাকার কারণে দূষণের মাত্রা বেড়েই চলেছে। এ জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4223197আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 6এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET