৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৮ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

রামগঞ্জে সুখের সাগরে মরন যন্ত্রনা

হুমায়ন আরাফাত, আশুলিয়া করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : জুলাই ০৮ ২০১৭, ২২:৩৭ | 660 বার পঠিত

রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি ঃ

যুবক খোরশেদ আলম তার বাবা-ভাইয়ের রিক্সা চালানোর কষ্ট দেখে ঢাকা গিয়ে ফুটপাতে চা বিক্রিসহ বিভিন্ন কাজ করে টাকা পাঠিয়ে দারিদ্রতা দুর করায় বাবা-বড় ভাই রিক্সার প্যান্ডেল ছেড়ে দিয়ে বিশ্রাম করতে লাগলো। সংসারের উপার্জনকারী সন্তানের জন্য ভালো পরিবারের মেয়েও ঠিক করা হয়। হঠাৎ পেট ব্যথা শুরু হলে বিয়ের কাজ বন্ধ রেখে বিভিন্ন হাসপাতালে ডাক্তারদের ধারস্থ হয়ে অবশেষে ধরা পড়লো কীটনি ক্যান্সার রোগ। এই যেনো সুখের সাগরে মরন যন্ত্রনা। সন্তানের চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে সবকিছু হারিয়ে আবার রিক্সার প্যান্ডেলে পা রাখতে হলো। কথা গুলো বলতে বলতে শিশু সন্তানের মতো কাদতে শুরু করলেন লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌর শহরস্থ বাশঘর গ্রামের যোগী বাড়ির ৭৫ বছর বয়সী রিক্সা চালক ইমান হোসেন। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রিক্সা চালানোর টাকা দিয়ে সন্তানের ঔষধ কিনে খাবার কিনতে পারছে না। তাই পরিবারে প্রায় দিন চুলাতেও আগুন জ্বালানো সম্ভাব হচ্ছে না। সুত্রে জানায়,রামগঞ্জ পৌর শহরস্থ বাশঘর গ্রামের যোগী বাড়ির হতদরিদ্র ইমান আলীর ছেলে সন্তানের মধ্যে সবার ছোট খোরশেদ আলম। কঠোর পারিশ্রমিক খোরশেদ আলম পরিবারের অভাব দুর করতে ১৭/১৮ বছর বয়সে ঢাকা গিয়ে মতিঝিল থানার সামনে ফুটপাতে চা বিক্রির পাশাপাশি বিভিন্ন কাজ করে। খোরশেদের পাঠানো টাকা দিয়ে বৃন্দ ইমান আলী স্ত্রী ও আরো দুই ছেলেকে নিয়ে সুখে দিনাতিপাত করছে। খোরশেদ বয়স ৩০ বছওে পা রাখলে পরিবারের সদসরা বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে শুরু করলো। এরি মাঝে খোরশেদের পেট ব্যথা শুরু হলে ডাক্তার গ্যায়াস্টিক আলসার হয়েছে বলে চিকিৎসা চালাচ্ছে। কিন্তু ২মাসেও ব্যথা ভালো না হওয়ায় কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালে ভর্তি করলে ওই হাসপাতালের ডাক্তার বেলায়েত হোসেন পরিক্ষা-নিরীক্ষা করে কীটনীতে ক্যান্সার হয়ে বলে জানান। ওই হাসপাতালে কয়েকদিন চিকিৎসা চালানোর পর ইমান আলী গুচ্ছিত সম্পদ হারিয়ে নিঃশেষ হয়ে পড়ে। উপায়ন্ত কুল-কিনারা না পেয়ে বাড়িতে এনে রিক্সা চালিয়ে সন্তানের জন্য দৈনিক ৩টি করে ইঞ্জেকশন কিনে বসত ঘরে ফিরতে হচ্ছে। বৃন্দ ইমান আলী বলেন,রমজান মাসে এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি কিছু টাকা দিয়ে সহযোগীতা করায় ইঞ্জেকশন দিতে পারায় সন্তান ব্যথা হয়নি। নিয়মিত ইঞ্জেশন দিতে না পারলে চিৎকারে বাড়ির আশে-পাশে লোকজনও ঘুমাতে পারে না। যদি সমাজের বিত্তবান ব্যাক্তিরা আল্লাহরস্তে কিছু সহযোগীতা করে,তাহলে সন্তান ক্যান্সারমুক্ত না হোক। নিয়মিত ইঞ্জেকশন দিলে বাড়ির লোকজন চিৎকার থেকে রক্ষা পাবে।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4223639আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 6এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET