৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৯শে রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

রাণীনগর ও আত্রাইয়ে জমে উঠেছে ঈদ বাজার

হুমায়ন আরাফাত, আশুলিয়া করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : জুন ২৩ ২০১৭, ২৩:২০ | 604 বার পঠিত

কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর (নওগাঁ) :

“ঈদে চাই নতুন পোশাক” ঈদের আর মাত্র দু’দিন বাকি। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই জমিয়ে উঠছে রাণীনগর ও আত্রাইয়ে ঈদবাজার। ক্রমেই বাড়ছে দোকানিদের ব্যস্ততা। পাশাপাশি আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে দর্জিরাও । রাতভর সেলাই মেশিনের শব্দে সমাগম হয়ে থাকছে টেলার্সগুলো। ইতি মধ্যেই রাণীনগর সদর ও আবাদপুকুর বাজার ও আত্রাই বাজার এলাকায় টেইলার্স মালিকরা নতুন অর্ডার নেওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। ছোট থেকে শুরু করে ভিআইপি দোকানের কারিগররা এখন দিনরাত ব্যস্ত। দম ফেলার ফুসরত নেই তাদের। তবে গতবারের চেয়ে এবার উপজেলার মার্কেট, বিপনিবিতান, শোরুমগুলোতে এখন ক্রেতাদের উপচেপড়ার ভিড়। বিশেষ করে গার্মেন্টস ও কসমেটিকস দোকান গুলোতে তরুন-তরুণী সহ সব বয়সের ক্রেতাদের বেশী সমাগম লক্ষ্য করা গেছে। তাই নওগাঁর রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার মার্কেটগুলোতে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। বিভিন্ন মার্কেটগুলোতে তাই দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। সাধ আর সাধ্যের মধ্যে প্রিয়জনের উপহার কিনতে ধনী ও মধ্যবিত্তদের পাশাপাশি কেনা কাটায় ব্যস্থ সময় পার করছেন নিম্নবিত্তের খেটে খাওয়া মানুষও। এবারে দেশী পোষাকের পাশাপাশি ভারতীয় পোষাকেও ছেয়ে গেছে বিভিন্ন মার্কেটের শপিং মল ও বীপণী গুলোতে। তবে এসব মার্কেটে মানসম্মত দেশীয় পোশাক সামগ্রী থাকলেও শিশু ও উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েদের ভারতীয় পোশাকের প্রতি চাহিদা একটু বেশী। ঈদের আমেজকে সামনে রেখে রাণীনগর সদর, আবাদপুকুর, বেতগাড়ী, কুজাইল, ত্রিমোহনী ও সহ ঈদের আমেজকে সামনে রেখে রাণীনগর সদর, আবাদপুকুর, বেতগাড়ী, কুজাইল, ত্রিমোহনী সহ আত্রাই উপজেলার সাহেবগঞ্জ বাজার নিউমার্কেট, সাব-রেজিষ্টার মার্কেট, রহমান সুপার মার্কেট, ট্রেশন বাজার, কলেজ মার্কেট সহ বিভিন্ন মার্কেট, বিপণী বিতানগুলো বর্ণীল সাজে আলোক সজ্জা করা হয়েছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রাণীনগর উপজেলার সদর, ত্রিমোহনী, কুজাইল, বেতগাড়ী , আবাদপুকুর বাজার ও আত্রাই উপজেলার সাহেবগঞ্জ বাজার নিউমার্কেট, সাব-রেজিষ্টার মার্কেট, রহমান সুপার মার্কেট, ট্রেশন বাজার, কলেজ মার্কেটে চলেছে ঈদের জমজমাট কেনাকাটা। অনেকেই এসেছিলেন পরিবারসহ। তবে কেনাকাটায় নারীদের উপস্থিতিই বেশি। প্রচণ্ড ভিড়ের মাঝে কথা বলার সময় নেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের। ভিড়ের মাঝে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখন যারা দোকানে আসছেন, তারা সবাই নানার রঙের পছন্দসই পোশাক কিনছেন। এবার বাজারের দেশীয় পোশাক সামগ্রী থাকলেও মহিলা ক্রেতাদের চাহিদা ভারতীয় পোশাকের প্রতি একটু বেশী। তাই সবকিছুকে ছাপিয়ে এবার ভারতীয় চিত্র নায়ক-নায়িকাদের নামের পোশাকের জয়জয়াকার।  ঈদে মেয়েদের জন্য আকর্ষণীয় পোশাকের মধ্যে রয়েছে হরেক রকম নাম,বাহুবলি টু, রাখিবন্ধন, পটল কুমার, বাজরাঙ্গি ভাইজা, ফ্লোর টার্চ, লাসা, লং স্কাট, শর্ট স্কাটসহ বিভিন্ন নামের থ্রি-পিস ও ফোর পিস পোশাক। তবে দেশী অনেক পোশাক ক্রেতাদের আকৃষ্ট করেছে। আকৃষ্ট করেছে দেশীয় পণ্য টাঙ্গাইল শাড়ি, জামদানী, খদ্দর, মনীপুরী, বালুচুরী, জর্জেট শাড়ি ইত্যাদি। এক বছরের শিশু থেকে শুরু করে তরুণীদের এক সেট পোশাক ৫০০-৩০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া জুতা সেন্ডেলের দোকানেও ভিড়ের কমতি নেই, নারীদের উপস্থিত বেড়েছে কসমেটিকসে দোকান গুলোতে। রাণীনগর উপজেলার বিভিন্ন মার্কেটে ঈদ বাজার করতে আসা মামুন , রিতু, সুমি রানা, হোসেন , শিউলি, নারর্গীছ, নাজনীনসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, এবার থ্রি-পিসসহ ছেলেদের প্যান্ট ও শার্টের দাম খুব চড়া। তাই কাপড় কিনে বানাতে দিয়েছি। তবে মজুরী একটু বেশি। রাণীনগর বাজারের এশিয়া টেইলার্সের মালিক বিপ্লব ও হিরো টেইলার্সের মালিক মান্নান জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ধানের দাম বেশি থাকায় কৃষি প্রধান এ এলাকায় কৃষকরা নায্য পাওয়ায় অনেকেই পর্যাপ্ত পরিমানে কেনাকাটা করতে পারছে বলে চাপটা অনেকটাই বেশি। তিনি আরো জানান। লোকজনরা শেষ সময়ে এসে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তাই কারখানার কর্মরত কারিগরদের সারা রাতভর কাজ করতে হয় বলে তাদের মজুরিও একটু বেশি দিতে হয় বলে মজুরিটা কিছুটা বেশি নিতে হচ্ছে। রাণীনগর বাজারের মীনা বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী সরোয়ার হোসেন বটু জানান, শিশু, মহিলা ও পুরুষের অত্যাধনিক পোষাকের সমারহ করা হয়েছে। ষ্টেশন রোডের মামা-ভাগ্নে গার্মেন্টস’র স্বত্বধিকারী জাকির হোসেন জানান, দিন-রাত সমান তালে বিক্রয় হচ্ছে। দিনে গ্রাম অঞ্চলের ক্রেতাদের আনা-গোনা সব চাইতে বেশি। নতুন নামে ও ডিজাইনের জেন্স প্যান্ট, শ্যার্ট পাঞ্জাবী ও টি-শ্যার্ট রাখা হয়েছে বিক্রয়ও হচ্ছে ভাল। আবাদপুকুর মোবারক গার্মেন্টস মালিক মোবারক হোসেন ও মতিন গার্মেন্টস মালিক আব্দুল হালিম শিশির জানান, মায়ের দোয়া গামেন্টস মালিক রফিকুল ইসলাম জানান,গত বারের চাইতে এবার বেচা-কেনা বেশি। আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে ঈদের পোষাক কিনছে অধ্যক্ষ গোলাম কিবরিয়া জানান, এবারের ঈদের বাজারে জামা-কাপড়ে দাম একটু বেশী হলেও শেষ পযন্ত কিনতে পেরেছি। অপরদিকে, বিভিন্ন প্রতিকুলতা কেটে অনেকেই ঈদের কেনাকাটা করলেও সমস্যায় পড়েছেন নিন্মবিত্ত ও মধ্য আয়ের পরিবারের লোকজন। উপজেলার নিঝুম গার্মেন্টস মালিক নাজমুল জানান, আমার এখানকার অধিকাংশ ক্রেতাই মধ্য ও নিম্মবিত্ত। তাই তারা অল্প ও সীমিত টাকার মধ্যে কেনাকাটা সেরে ফেলতে আগ্রহী। গত বছরের তুলনায় এবারে পোশাকের দাম একটু বেশি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্নবিত্তরা। এর কারণেই এদের শেষ আশ্রয় ফুটপাতের দোকানগুলো। তবে যাই হোক ঈদের দিনে নতুন জামা কাপড় পরে সবার সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করবে এই প্রত্যাশা সবার।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4225139আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 11এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET