২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১০ই সফর, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

‘রাজ’ এর জীবনের অভিজ্ঞতা: আদিল মাহমুদ

নয়া আলো অনলাইন ডেস্ক।

আপডেট টাইম : জুলাই ১১ ২০২০, ১৬:৪১ | 647 বার পঠিত

‘রাজ’ এর জীবনের অভিজ্ঞতা”

 

রাজ খুব ভালো ছেলে, দেখতে মোটামুটি, ঢাকা কলেজে রসায়নে অর্নাস পড়ে। বাবা সাধারণ শিক্ষক, তাই মধ্যবিত্ত সংসার বলা চলে। নিয়মিত পড়ার ফাঁকে টিউশনি করে নিজের হাত খরচ চালায়। বাবার ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও ছেলেকে পর্যাপ্ত সহায়তা করতে না পারাই রাজের টিউশনি করার মূল কারণ।

 

পড়াশুনা চলাকালীন রাজের বন্ধু লিটু একদিন রাজকে তার জন্মদিনের দাওয়াত করে। বন্ধুর জন্মদিন না গেলেই নয়। অগত্য কষ্ট করে হলেও প্রিয় বন্ধুর জন্য কিছু ফুল ও চারটি হুমায়ুন আহমেদ এর উপন্যাস কিনে সন্ধ্যার পর বন্ধুর বাড়ি খিলগাঁওয়ে যায়। বন্ধু লিটুর জন্মদিনে অনেকেই লিটুকে শুভেচ্ছা জানাতে আসে। হৈ হুল্লুরের মধ্যে একটি মেয়ের দিকে রাজের দৃষ্টি নিপতিত হয়। বেশ ভালোই দেখতে মেয়েটি তাই, রাজ বন্ধুর জন্মদিনে আসাকে সার্থকই মনে করছিলো। কিন্তু এতো মানুষের মধ্যে কি করে মেয়েটির সাথে একটু কথা বলা যায়, সেই উছিলা রাজ খোঁজতে লাগলো। কিন্তু কোন পথই খোঁজে পাচ্ছিলো না।

 

যখন কেক কাটার সময় হলো, রাজ সবার আগে লিটুর পাশে এসে দাঁড়ালো। কারণ, রাজ বুঝতে পেরেছিলো, কেক কাটার সময় মেয়টি অবশ্যই লিটুর পাশে আসবে। ঠিক তাই হলো, লিটু ডাকলো এই সুমিয়া এখানে আসো। সুমিয়া কাছে আসলো এবং লিটুর বাম পাশে দাঁড়ালো। রাজ পূর্বেই লিটুর বাম পাশে ছিল। এই প্রথম রাজ জানতে পারলো মেয়েটির নাম সুমিয়া। কেক কাটা হলো, অনেক ছবি তোলা হলো, এ সব ছবির মধ্যে রাজ ও সুমিয়াও থেকে গেলো। কেক কাটা শেষে আপ্যায়নের পর সুমিয়া, পাশেই তার বাসা তথায় চলে গেলো। সুমিয়ার চলে যাওয়ার পথের দিকে রাজ এক দৃষ্টিতে তাকিই রইলো। বন্ধু লিটু বলেই ফেললো, কিরে রাজ ঐ দিকে এ ভাবে তাকিয়ে আছিস কেন? উত্তরে রাজ বললো, সুন্দরের দিকে কে না তাকায় বল! লিুট বলে, ও ভালো নজরুল গীতি গায়, বাবাও ভালো শিল্পী। কেন তোর পছন্দ হয়েছে? রাজ কিছুটা লজ্জা পেয়ে বললো, অনেক সুন্দর, আমার সাথে পরিচয় করিয়ে দিবি? লিটু বললো আচ্ছা দিবো, তবে আজতো আর সম্ভব না, আরেক দিন!

 

তিন/চার দিন পর একদিন রাজ লিটুর বাসায় আসলো। কারণ ওই একটাই সুমিয়া, সুমিয়াকে যে রাজের অনেক পছন্দ। লিটুর বাসার সামনেই ছিলো সুমিয়াদের ভাঁড়া বাসা। ফলে, লিটু রাজকে নিয়ে ছাদে গেলো। লিটু জানে, ছাদে গেলেই সুমিয়াকে দেখা যাবে। বিকাল তখন পাঁচটা, গরম কাল অনেকটা রোদ এখনো আছে। ছাদে গিয়ে ওরা দুই বন্ধু দেখে সত্যিই সুমিয়া বাড়াঁন্দায় বসে কিসের যেন ম্যাগাজিন পড়ছে। লিটু তাকাতেই সুমিয়া চেঁচিয়ে বললো কি মামা এতো রোদের মধ্যে ছাদে কি করছেন? লিটু কিছুটা লজ্জা পেয়ে বললো, আমার বন্ধু এসেছেতো, বাসায় কথা বলতে পারছিলাম না, তাই ছাদে উঠেছি। রাজ কিন্তু ভালোই মজা পাচ্ছিলো। সে বার বার সুমিয়ার দিকে তাকাচ্ছিলো। এভাবে সন্ধ্যা হয়ে গেলে দু’জনে নিচে নেমে এলো। এবার দু’বন্ধুর আলাপ আলোচনা শুরু হলো, কেন্দ্র বিন্দু সুমিয়া। রাজ জানতে পারলো, সুমিয়া মগ বাজার ইস্পাহানী স্কুল ও কলেজে পড়াশুনা করে। রাজ লিটুর ঘনিষ্ট বন্ধু, তাই লিটু কিছু বলতে পারছিলোনা। এভাবে প্রতিদিনই রাজ কোন না কোন অজুহাতে লিটুর ওখানে চলে আসতো এবং ছাদে উঠে সুমিয়াকে দেখতো। সুমিয়াও প্রতিদিন দেখতে দেখতে রাজ কে চিনে ফেললো। একদিন সুমিয়া যখন লিটুদের বাসায় তার মা সহ আসলো, তখন রাজের অনুরোধে লিটু চক্ষু লজ্জা ভেঙ্গে, রাজযে সুমিয়াকে পছন্দ করে তা সুমিয়াকে জানালো। সুমিয়া লিটুকে সব সময়ই মামা বলে ডাকতো, কারণ, সুমিয়ার আম্মাকে লিটু আপা বলতো, সেই সুবাদে মামা। রাজের প্রস্তাব লিটুর মাধ্যমে পেয়ে সুমি হ্যাঁ বা না কিছু বললো না, কিঞ্চিত হাসলো।

 

একদিন একটা চিঠি লিখলো রাজ সুমিয়ার উদ্দেশ্যে, যাতে প্রেম নিবেদন ছিলো। চিঠিটা সুমিয়াকে দেয়ার জন্য রাজ লিটুকে খুব অনুরোধ করলো। কিন্তু লিটু বললো, না! কোন ভাবেই আমার দ্বারা এটা সম্ভব না । কিন্তু রাজের অনুনয় বিনয়ের কাছে লিটু হার মানলো। অত:পর সুমিয়াদের বাসার কাজের ছেলেকে ঠিক করলো, চিঠিটা সুমিয়ার কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য বিনিময়ে বকশিশ। তাই হলো, একদিন পিচ্চি কাজের ছেলে দিপু রাজের চিঠিটা সুমিয়ার কাছে পৌঁছে দিলো। চিঠি পড়ে সুমিয়া খুশিই হলো কারণ, রাজ ভালোই চিঠি লিখতে পাড়তো। চিঠিতে উত্তর দেয়ার জন্য খুব অনুরোধ করা হয়েছিলো। প্রায় দিনই রাজ লিটুদের বাসায় আসে একই উদ্দেশ্যে। অতএব, সুমিয়াকে নিয়ত দেখা খুব সহজ ছিলো। কোন একদিন সুযোগে পিচ্চি কাজের ছেলে দিপু, একটা চিঠি এনে রাজকে দিলো। প্রথম চিঠিতে সাধারণত: যা লেখা হয় তাই লেখা ছিলো। এতেই রাজ মহাখুঁশি। এভাবে প্রায় দিনই ওদের চিঠি আদান প্রদান হতে লাগলো। প্রতিনিয়ত দেখা ও চিঠির কথোপকথন ওদেরকে অনেকটা ভালোবাসার দিকে নিয়ে গেলো। চিঠির ভাষায় প্রমাণিত যে, দু’জন দু’জনের জীবন। প্রতিটা চিঠিতে সুমিয়া ইতি, তোমার আদরের বউ বলে লিখতো। তবে একটা কথা এখানে স্পষ্ট যে, প্রথম থেকেই সুমিয়া বলে আসছিলো যে ওর বাবা/মাকে রাজি করাতে হবে। কারণ, সে তার বাবা/মার অমতে কিছুই করতে পারবে না। সে তাদের ভাই বোনের মধ্যে সব চেয়ে বড়।

 

চিঠি আদান প্রদান চলাকালীন রাজ সুমিয়ার কলেজের সামনে দেখা করতো, রাস্তায় রিক্সা থামিয়ে কথা বলতো, পাশের বাসার আরেক ভাবীর ওখানে ওদের দেখা হতো, এমনকি রাজের বাসায়ও সুমিয়া ভাবীর সাথে গিয়েছিলো। তাদের সম্পর্ক খুবই পবিত্র ও মধুর ছিলো। এভাবে দু’বৎসর যাওয়ার পর সুমিয়ার বাবা/মা ঘটনা জেনে ফেললো। তারা আগেই রাজকে চিনতো, লিটুর বন্ধু হিসাবে। যেহেতু  সুমি লিটুকে মামা ডাকে সেহেতু মামার বন্ধু হিসেবেই তারা মনে করতো। এদিকে রাজ সুমিয়ার প্রতি এতো বেশি দুর্বল হয়ে পড়লো যে, একদিন সুমিয়াকে না দেখলে রাজ থাকতেই পারতো না। ফলে, যে কোন ভাবেই হউক লিটুর বাসার ছাদে উঠা তার চাই-ই। সুমিয়াও অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়লো রাজের প্রতি। কিন্তু তার একটাই কথা ছিলো বাবা/মাকে রাজি করাতে হবে। সুমিয়ার বাবা/মা যখন সব জেনে ফেললো তখন লিটুকে খুব চাপ দিলো। লিটু লজ্জা স্মরমে রাজকে সুমিয়ার ব্যাপারে সাহায্য করা পুরোপুরি বন্ধ করে দিলো। সুমিয়াকে দেখার কোন পথই আর রাজের রইলো না, শুধু মাত্র কলেজের রাস্তা ছাড়া। তাই, রাজ প্রতিদিন সুমিয়ার কলেজে যাওয়ার রাস্তায় ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতো, কখন সুমিয়া আসবে! অপরদিকে, সুমিয়ার কলেজও বন্ধ হয়ে গেলো। অন্য দিকে, যে ছেলেটি চিঠি আনা নেয়া করতো সে ছেলেটিকে অনেক উত্তম মধ্যম দিয়ে বিদায় করে দেয়া হলো। সুমিয়ার সাথে রাজের সব যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেলো। সুমিয়ার বাবা/মা সুমিয়াকে অনেক অপমান ও বকা ঝকা করলো, এ বলে যে, একটা বেকার ছেলে আবার দেখতেও তেমন ভালো না, কি দেখে তুই পাগল হয়েছিস! তাই সুমিয়াও বেকায়দায় পড়ে গেলো।

 

একদিন কলেজ খোললে, রাজ রাস্তায় সুমিয়ার অপেক্ষায় থাকলো। কিন্তু দেখা গেলো প্রতিদিনই সুমিয়ার মা সুমিয়াকে নিয়ে কলেজে আসা যাওয়া করতো। এ ভাবে অনেকদিন কেটে গেলেও রাজ আর সুমিয়ার সাথে দেখা বা চিঠি দিতে পারলো না। এদিকে সুমিয়ার কলেজ আবার বন্ধ হয়ে গেলো। কোন উপায় না পেয়ে রাজ আবার লিটুর স্মরনাপন্ন হলো। সুমিয়ার অন্তত শেষ কথাটা জানা দরকার। সুতরাং, লিটুকে খুব অনুরোধ করলো। একদিন লিটু জানালো, সুমিয়া বলেছে- ওতো তোকে আগেই বলেছে, ওর বাবা/মার অমতে ও কিছুই করবে না! ঠিক তাই হলো, সুমিয়া আর কোন দিনও রাজের সাথে যোগাযোগ করেনি! কিন্তু  রাজ প্রতিদিনই কলেজের রাস্তায় তার ভালোবাসার সুমিয়ার অপেক্ষায় থাকতো—–!!

 

লেখক: মোঃ আদিল মাহমুদ।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4103990আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 3এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET