৩০শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • সকল সংবাদ
  • রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে বিধি ভেঙ্গে দুর্নীতিবাজদের পদোন্নতি

রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে বিধি ভেঙ্গে দুর্নীতিবাজদের পদোন্নতি

হুমায়ন আরাফাত, আশুলিয়া করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : জুলাই ১১ ২০১৭, ২২:২৪ | 618 বার পঠিত

নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে নিয়ম ভেঙে বিতর্কিত ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তরা গতকাল সোমববার নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। বিতর্কিতদের নিয়োগ দিতে গিয়ে তিন জন কর্মকর্তাকে বিধি লঙ্ঘন করে প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পদাবনতি দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বোর্ডের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বোর্ডের ইতিহাসে এই প্রথম বোর্ড চেয়ারম্যান ও সচিব নিজেদের লোকজনকে পদোন্নতি দিতে গিয়ে তিন কর্মকর্তাকে পদাবনতি দিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, এ নিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বাণিজ্য হয়েছে। গতকাল বোর্ডের সর্বত্র এ নিয়ে তোলপাড় চলছে। চেয়ারম্যান বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তার সরকারি মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া গেছে। গত রোববার রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের সচিব ড. আনারুল হক প্রাং স্বাক্ষরিত নয় জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছেন। এরা হলেন- নেসার উদ্দিন, মানীক চন্দ্র সেন, ওয়ালিদ হোসেন, মুঞ্জুর রহমান, লিটন সরকার, শফিকুল ইসলাম, সেলিনা পারভীন, জাহিদুর রহিম ও হোসনে আরা আরজু। এদের মধ্যে শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট প্রদানের সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। সে নিয়োগ পাওয়ার বড় কারণ হিসেবে অনেকে মনে করছে চেয়ারম্যানের সাথে ব্যক্তিগত ঘনিষ্টতা। ওয়ালিদ হোসেনকে ২০১১ সালে অসদাচারণের দায়ে ধিক্কার জানানো হয়েছিলো। তার এসিআরএ এটি যুক্ত রয়েছে। তবুও তিনি পদোন্নতি পেলেন। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে- সেলিনা পারভীন ও লিটন কুমার সরকারের বিরুদ্ধে। গত বছর সেলিনা ভা-ারের উপসচিব এবং লিটন সহকারী সচিব থাকা অবস্থায় আর্থিক অনিয়ম করেন। তাদের দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে গত বছরের জুন মাসের ৩০ তারিখে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটি রহস্যজনক কারণে এখনো প্রতিবেদন দেয় নি। ফলে এখন পর্যন্ত তারা সেই অভিযোগ থেকে মুক্ত হতে পারেন নি। কিন্তু সেলিনা এবং লিটনকে উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে- যা আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এদিকে পছন্দের লোকজনকে পদোন্নতি দিতে গিয়ে বিধি ভেঙ্গে তিন কর্মকর্তাকে পদাবনতি দেয়া হয়েছে। বোর্ডসভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক তিন কর্মকর্তা গত পাঁচ বছর ধরে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু তাদেরকে পদাবনতি দিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৬ মে ২২৬তম বোর্ডসভা অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় বোর্ডে চেয়ারম্যান ছিলেন প্রফেসর তানবিরুল আলম। সভায় বোর্ডের স্বার্থে দ্বিতীয় শ্রেণির ১১ কর্মকর্তাকে নিজ নিজ পদেই বেতন-ভাতা অপরিবর্তিত রেখে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে চলতি দায়িত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সে মোতাবেক ওই বছরের ১ জুলাই ১১ কর্মকর্তাকে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণিতে পদোন্নতি দেওয়া হয়। কিন্তু এটি ‘নিয়মমাফিক হয়নি’ বলে বোর্ডের দুই কর্মকর্তা পরের বছর ৭ এপ্রিল উচ্চ আদালতে রিট করেন। ২০১৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি আদালত এই রিট খারিজ করে দেন। এরপর ওই মাসেই বোর্ডে ২৩২তম বোর্ডসভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার রেজুলেশনের একটি সিদ্ধান্তে বলা হয়, ‘উচ্চ আদালত রিট খারিজ করে দেওয়ায় ধরে নেওয়া যায়, প্রথম শ্রেণির পদে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত ১১ কর্মকর্তার ওই পদে কাজ করার যোগ্যতা রয়েছে। কিন্তু সেই কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে তিন জনকে প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। ওই কর্মকর্তারা হলেন- উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (জেএসসি) ফরিদ হোসেন, উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (সনদ ও রেকর্ডস) রুবি এবং উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) দুরুল হোদা। ক্ষতিগ্রস্তরা মনে করছেন তাদের পদাবনতির বিষয়টি হাইকোর্টের আদেশ ও বোর্ড রেজ্যুলেশনের পুরোপুরি লঙ্ঘন বলে মনে করছেন। তারা বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্তের ঘটনায় আমরা সংক্ষুব্ধ। এক্ষেত্রে আমরা আইনের আশ্রয় নিবো। হাইকোর্টে গিয়ে এর আগেও একবার আমরা জিতে এসেছি। প্রয়োজনে আবারো যাবো। পদাবনতি হওয়া তিন জনের মধ্যে সবচে সিনিয়র হচ্ছে রুবি। তিনি বলেন, ‘আমি ২৬ বছর ধরে চাকরি করছি বোর্ডে। আমার চাকরিজীবনে কখনো কোনো অনিয়ম করিনি। প্রশাসনের কোথাও আমার বিরুদ্ধে কখনো অভিযোগ ওঠেনি। কিন্তু এভাবে পদাবনমন আমাকে মর্মাহত করেছে। রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের সচিব ড. আনারুল হক প্রাং জানান, সিলেকশন কমিটি ৯ জনকে প্রমোশন দিয়েছে। এক্ষেত্রে সচিবের কিছু করার নেই। দুর্নীতির অভিযুক্তদের পদোন্নতির ব্যাপারে তিনি বলেন, তারা অভিযুক্ত। তবে অভিযোগ এখনো প্রমাণিত হয় নি। তদন্ত কমিটি এখনো রিপোর্ট প্রদান করে নি। এটা তদন্ত কমিটির ব্যর্থতা। এদিকে রাজশাহী বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ করেছেন রাজশাহীর আট জেলার শিক্ষকরা। তারা অভিযোগ করেছেন, চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ঘণ্টার পর ঘন্ট তারা ধরনা দেন। কিন্তু চেয়ারম্যানকে পান না। চেয়ারম্যান শিক্ষক, শিক্ষার্থী, এমনকি সাংবাদিকদেরকেও তার কক্ষে প্রবেশ করতে দেন না। চেয়ারম্যানের অফিস পাহাড়া দেয়ার জন্য তিনি পিয়নদেরকে মাস্তান হিসেবে ব্যবহার করেন। প্রায়ই তার মাস্তানরা শিক্ষক ও সুশীল সমাজের সাথে খারাপ আচরণ করে। এবিষয়ে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃজনক যে শিক্ষকরা বোর্ড চেয়ারম্যানের সাক্ষাত পান না। রাজশাহী শিক্ষা নগরী হিসেবে সুনাম রয়েছে। বোর্ড চেয়ারম্যান এ ধরনের আচরণ করলে তা শিক্ষা নগরীর সুনাম নষ্ট করবে। তিনি চেয়ারম্যানসহ বোর্ডের সকল কর্মকর্তাদেরও জনবান্ধব হতে আহ্বান জানান। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যানের বক্তব্যের জন্য গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় টার চেম্বারে গিয়ে পাওয়া যায় নি। কর্মকর্তারা জানান, তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। তাবে সরকারি ফোন নম্বরেও তাকে পাওয়া যায় নি। নম্বরটি বন্ধ রেখেছেন তিনি।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4213553আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 9এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET