১১ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, বুধবার, ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

শিরোনামঃ-

যে ১১ দফা নিয়ে ক্রিকেটারদের ধর্মঘট

মেহেদী হাসান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : অক্টোবর ২১ ২০১৯, ১৯:০৪ | 609 বার পঠিত

নয়া আলো ডেস্কঃ- বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ ১১ দফা দাবিতে সোমবার সাকিব-তামিমসহ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন দেশের ক্রিকেটাররা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে মিরপুর বিসিবি একাডেমি মাঠে বিকালে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, রুবেল হোসেন, নাঈম ইসলাম, এনামুল হক বিজয়, নুরুল হাসান সোহান, নাজমুল ইসলাম অপুসহ সিনিয়র ক্রিকেটারা উপস্থিত ছিলেন।

টোয়েন্টিফোর লাইভ নিউজপেপারের পাঠকদের জন্য ক্রিকেটারদের ১১ দফা দাবি তুলে ধরা হলো-

এক) ক্রিকেটারদের পক্ষে এক নম্বর দাবি তোলেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার নাঈম ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্রিকেটাররা নির্বাচন করব কোয়াব (ক্রিকেটার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) নিয়ে কি নির্বাচন হবে, কে প্রেসিডেন্ট বা সেক্রেটারি হবেন।’

দুই) দ্বিতীয় দাবি তোলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। প্রিমিয়ার লিগকে আগের মতো করে পাওয়ার দাবি জানান অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে জানেন প্রিমিয়ার লিগের পরিস্থিতি কী। এটা নিয়ে কম বেশি সবাই অসন্তুষ্ট। এখানে পারিশ্রমিকের একটা মানদণ্ড বেঁধে দেয়া হয়েছে। খেলোয়াড়দের অনেক লিমিটেশন দেয়া হয়েছে। আগে যেমন ছিল, তেমনটা নেই। কোন দলে খেলবে খেলোয়াড়রা আগে বাছাই করতে পারতো, পারিশ্রমিক ঠিক করতে পারত। কিন্তু এখন তা হয় না। আমাদের দাবি হলো আগের মতো যেন প্রিমিয়ার লিগটা ফিরে পাই।’

তিন) তৃতীয় দাবি তোলেন মুশফিকুর রহিম। বঙ্গবন্ধুর নামে এবারের বিপিএল ভিন্নভাবে আয়োজন করছে বিসিবি। মুশফিক দাবি তোলেন, পরবর্তীতে বিপিএলকে যেন আগের মতো করে আয়োজন করা হয়। মুশি বলেন, ‘আমাদের তৃতীয় দাবি বিপিএল নিয়ে। আমরা জানি, এ বছর বিপিএল অন্য রকম হচ্ছে। সেটা অবশ্যই রেসপেক্ট করি। তবে আমাদের দাবি, আগামী বছর থেকে যেন আগের নিয়মের বিপিএল হয়। আর একটি দাবি হলো, বিদেশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমাদের স্থানীয় খেলোয়াড়ররাও যেন ভালো পারিশ্রমিক পায়। বিশ্বে অনেক ফ্র্যাঞ্জাইজি লিগ হয়, খেলোয়াড়রা তাদের ড্রাফট বেছে নিতে পারে, কোন গ্রেডে থাকতে চায় তা নির্ধারণ করতে পারে। আমাদেরও এমনটা হওয়া উচিত, তারপর যদি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি না নিতে চায় সেটা আলাদা ব্যাপার।’

চার) চতুর্থ ও পঞ্চম দাবিতে ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ে অসন্তোষের বিষয়গুলো তুলে ধরেন সাকিব আল হাসান। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই মনে করি, প্রথম শ্রেণি ক্রিকেটের ম্যাচ ফি এক লাখ টাকা হওয়া উচিত। আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের বেতন অন্তত পঞ্চাশ ভাগ বাড়াতে হবে। খেলোয়াড়দের প্র্যাকটিস সুবিধা বাড়াতে হবে, সেটা জিম ইনডোর মাঠ- সব জায়গাতেই। ১২ মাস কোচ, ফিজিও, ট্রেনার রাখতে হবে; তারাই আসলে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের একটা পরিকল্পনা দেবেন। আমরা বুঝি, এটা হয়তো আজই হবে না। তবে আগামী মৌসুম থেকে যেন হয়, প্রতিটি ডিভিশনে।’

পাঁচ) পঞ্চম দাবিতে সাকিব বলেন, ‘যার যার হোম ভেন্যুতে প্র্যাকটিসের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের টেস্ট ক্রিকেট কিংবা ক্রিকেটের কালচারটা ভালো করতে হলে। প্রথম হলো বল। আমরা এখানে এক বলে খেলি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গেলে আরেক বলে খেলতে হয়। এটা সমন্বয় করতে সমস্যায় পড়ে অনেকে। আজ জাতীয় লিগে খেলোয়াড়দের প্রতিদিনের ভাতা ১৫০০ টাকা, এটা হতে পারে না। বিসিবি তাদের ফিটনেস যে লেভেলে দাবি করে, সেটা মেইন্টেন করতে এই টাকার খাবারে হয় না। তাদের অবশ্যই স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে, ভালো হোটেলে থাকতে হবে, তার জন্য টাকার দরকার আছে।’

সাকিব বলেন, ‘বড় ইস্যু আছে ট্রাভেল। ধরেন, একটা ছেলে রাজশাহী থেকে কক্সবাজার যাবে। তাকে ২৫০০ টাকা দেয়া হচ্ছে যাওয়ার জন্য। বাস ছাড়া সে কিভাবে যাবে এই টাকা দিয়ে? তাদের বিমান দেয়া উচিত। টিকিটটা ডিভিশন করে দিক। আর ওয়ান স্টার, টু স্টার হোটেলে কোনোরকম রুম আছে, এমন হোটেলে খেলোয়াড়দের থাকা সম্ভব নয়। কারণ, চারদিনের ম্যাচ খেলে ফ্রেশনেসের জন্য হোটেলে কমপক্ষে একটা জিম, একটা সুইমিংপুল থাকা উচিত। কারণ চার দিনের ম্যাচ খেলতে ক্রিকেটারদের অনেক কষ্ হয়। আরেকটা হলো বাস। আমরা মাঠে কি ধরনের বাসে কিংবা কিভাবে যাই সেটা আপনারাও জানেন। এটা আসলেই হতাশাজনক। কমপক্ষে একটা এসি বা ভালো মানের বাস দেয়া উচিত।

ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ গড়াপেটার বিষয়টি নির্মূল করার দাবিও তোলেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘আর একটা বিষয়, অনেক সময় দেখা যায় মাঠে নামার আগেই ক্রিকেটাররা জেনে যাচ্ছেন এই ম্যাচ কোন দল জিতবে, কোন দল হারবে! এসব (ফিক্সিং) বন্ধ করতে হবে। জুনিয়র ক্রিকেটাররা এসব দেখে উঠা আসলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এটার প্রভাব পরে।’

ছয়) দাবিটি তুলে ধরেন এনামুল হক জুনিয়র। বিসিবির চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি তুলে তিনি বলেন, ‘ছয় নম্বর পয়েন্ট হলো, জাতীয় দলের চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের সংখ্যা বাড়াতে হবে। সেটা ৩০ জন করা উচিত। বেতন অনেক দিন ধরে বাড়ানো হয় না, সেটা বাড়াতে হবে।’

সাত) সাত নম্বর দাবি তুলে ধরেন তামিম ইকবাল। ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অযথা বিদেশিদের সংযুক্ত না করে দেশিদের সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন তামিম। তিনি বলেন, ‘শুধু ক্রিকেটারদের ব্যাপারই নয়। আপনি গ্রাউন্ডসম্যানদের দেখেন, বিসিবিতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে মাস শেষে ৫ বা ৬ হাজার টাকা পায়। কোচের কথা বলেন। আমরা নিজেরাই বাংলাদেশি কোচদের দাম দিচ্ছি না, বিদেশি কোচদের বেতন আমাদের ২০টা কোচের বেতনের সমান। দেখুন, সম্প্রতি একটা সফরে দেখবেন বাংলাদেশের কোচের অধীনে দল ভালো করেছে; কিন্তু পরের সফরেই তিনি নেই।’

তামিম যোগ করেন, ‘আম্পায়ারিং নিয়ে সমালোচনা আছে; কিন্তু আপনারা জানেন, আম্পায়ারিংকে পেশা হিসেবে নিতে হলে তাদের তো একটা আর্থিক সিকিউরিটি দিতে হবে। সেটা দেয়া হয় না। সব মিলিয়ে আমাদের মূল দাবি, বাংলাদেশিদের যেন প্রাধান্য দেয়া হয়।’

আট) নয় নম্বর দাবিতে ঘরোয়া টুর্নামেন্ট বাড়ানোর দাবি তুলে ধরেন এনামুল হক বিজয়। তিনি বলেন, ‘আমরা ঘরোয়া লিগে দুইটা চারদিনের টুর্নামেন্ট খেলি, বিসিএল আর এনসিএল। প্রিমিয়ার লিগে মাত্র একটা খেলি, আরেকটা টুর্নামেন্ট বাড়ানো উচিত। মনে হয় বিপিএলের আগে একটা টি-টোয়েন্টি লিগ খেলা উচিত। ওয়ানডের কথা বললে, আগে চারদিনের ম্যাচের পর আমরা পঞ্চাশ ওভারের একটা ম্যাচ খেলতাম। আমরা চাই, ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগে একটা ওয়ানডে টুর্নামেন্ট চালু হোক, যাতে আমরা আরও ওয়ানডে পাই, খেলার সুযোগ পাই।’

নয়) নয় নম্বর দাবি তোলেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান।  ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিক্সড ক্যালেন্ডার করার দাবি তোলেন তিনি, ‘পয়েন্ট নম্বর নয়। ঘরোয়া টুর্নামেন্টের জন্য আমাদের একটা ফিক্সড ক্যালেন্ডার থাকতে হবে। তাহলে আমরা আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে পারব প্রতি বছর।’

দশ) দশ নম্বর দাবিতে জুনায়েদ সিদ্দিকী বকেয়া আদায়ের দাবি তোলেন। তিনি বলেন, ‘দশ নম্বর পয়েন্ট হলো- বিপিএলে প্রিমিয়ার লিগের যে বকেয়া টাকা সেটা যেন নির্দিষ্ট সময়ে পাই। যেমন গত বছর দশটি দল টাকা ক্লিয়ার করেছে; কিন্তু আমরা ব্রাদার্স ইউনিয়নের ৪০ পারসেন্ট টাকা পাইনি। বোর্ডে অনেকবার গিয়েছি, ক্লাবকেও নক করা হয়েছে। জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমরা এটা ডিজার্ভ করি না, এটা খুবই দৃষ্টিকটু। এমন যেন না হয়।’

এগারো) এগারো দফা দাবি তুলে ধরেন ফরহাদ রেজা। দুইটার বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ না খেলার কথা বলেন তিনি। ফরহাদ বলেন, ‘পয়েন্ট নম্বর এগারো হলো- দুইটার বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলতে না দেওয়ার বিধিনিষেধ তুলে নিতে হবে। যদি আমাদের জাতীয় লিগ বা জাতীয় দল নিয়ে ব্যস্ততা না থাকে তাহলে অন্য কোথাও খেলার সুযোগ দিতে হবে। তাহলে আমরাও বেশি শিখতে পারব।’

দাবি উত্থাপন শেষে সকলের পক্ষ থেকে টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলেন, এই দাবিগুলো না মানা হলে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট কোন কাজে অংশগ্রহণ করব না আমরা।

ভারতের বিপক্ষে টি২০ সিরিজের জন্য গত বৃহস্পতিবার সাকিব আল হাসানকে অধিনায়ক করে দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

আগামী ৩ নভেম্বর প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে। ৭ এবং ১০ নভেম্বর বাকি দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে রাজকোট এবং নাগপুরে। ম্যাচ তিনটি বাংলাদেশ সময় সাড়ে ৬টায় শুরু হবে।

টি২০ সিরিজ শেষে দুদল দুটি টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হবে। তবে এই সময়ের মধ্যে ক্রিকেটারদের সাথে বোর্ডের সমঝোতা না হলে টাইগারদের ভারত সফরও ঝুলে যাবে।

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 3108532আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 8এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী,

বার্তা সম্পাদক- মোঃ জানে আলম

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৭৪৯৮২৩৭০৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET
Shares