১১ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২০শে জিলহজ, ১৪৪১ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • গল্প ও কবিতা
  • মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা ও সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টির মর্যাদা: আদিল মাহমুদ

মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা ও সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টির মর্যাদা: আদিল মাহমুদ

নয়া আলো অনলাইন ডেস্ক।

আপডেট টাইম : জুন ০৯ ২০২০, ১২:৫৩ | 725 বার পঠিত

“মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা ও সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টির মর্যাদা”

 

আমি আল্লাহর সৃষ্টি মানুষ এবং মুসলমান। তাই, মানুষের যমদূত বলে খ্যাত জান কবজকারী ফেরেশ্তা আজরাঈল (আঃ) কে বিশ্বাস করি ও সম্মান করি। আমি পূর্বেই ওনার সম্পর্কে পরিচিত ছিলাম, বিভিন্ন হাদিস কালাম পড়ে। তাই জান কবজের সময় ওনার ভাবমূর্তি কার উপর কেমন হবে এবং কে কেমন কষ্ট পাবে তাও আমার ধারনায় ছিলো।

 

একদিন রাত্রি বেলায় হঠাৎ দেখি, বিশাল আকৃতির ভয়ংকর চেহারার এক ফেরেশ্তা আমার সামনে এসে হাজির। আমি বুঝে ফেললাম, ওনি আর কেহ নন আজরাঈল (আঃ)। বুঝার কারন, ওনার চেহারা ও আকৃতি। আমি জানতাম পাপী মানুষদের জান কবজের সময়ই তিনি এই আকৃতি ধারন করেন। আমি বিস্মিত হইনি এবং ভয়ও পাইনি। কারন, আমি অবগত যে আমি মহা পাপী, তাই আমার জান কবজের সময় তিনি এইরূপ আকৃতিই ধারন করে আসবেন এটাই স্বাভাবিক।

 

আমি সালাম দিলাম। তিনি উত্তর নিলেন এবং বললেন হে পাপী, মহান রাব্বুল আলামিনের নির্দেশে তোর জান কবজ করতে এসেছি। তোকে কলমা পড়ারও সুযোগ দেয়া হবে না। কারণ, তুই এতো পাপ করেছিস যে, হাজার হাজার ফেরেশ্তা তোকে শাস্তি দেয়ার জন্য অধির আগ্রহে বসে আছে। আমি বললাম, ওহে আজরাঈল আমি মহা পাপী জানি, তাই বলে কি আমি আমার জন্মের পর থেকে কোন নেক কাজই করি নাই! তিনি বললেন, না তোর আমল নামায় কোন নেক লিখা নাই। আমি বললাম, আমিতো আর জানি না আমি কোন নেক করেছি কিনা! তবে অনেক পাপ করেছি তা জানি, তাই আমাকে কি এই সুযোগটা দেয়া যায় যাতে আমি জানতে পারি আমার ৫১ বৎসর বয়সে আমি কোন নেক করেছি কিনা! তখন বিচক্ষন আজরাঈল (আঃ) কিছুক্ষন চিন্তা করলেন, অত:পর বিশ্ব ভ্রম্মান্ডের মালিক আল্লাহর সাথে উক্ত বিষয়ে আলোচনা করলেন।

 

আল্লাহ পরম দয়ালু, ধৈর্য্যশীল, ক্ষমাশীল এবং পাপ মোচনকারী। তিনি আজরাঈল (আঃ) কে বললেন, ঠিক আছে তুমি ওকে নিয়ে বের হও, আমার এই পাপী বান্দা যদি তোমাকে দেখাতে পারে যে, সে তার এই জীবদ্দশায় একটি পূণ্য করেছে তবে, পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত তার জান কবজ থেকে বিরত থাকবে। খোদার নির্দেশ মোতাবেক আজরাঈল (আঃ) আমার গলায় শিকল পড়িয়ে আমাকে টেনে হিঁচড়ে রওনা হলেন এবং বললেন তোর পূন্যের সন্ধ্যানে তুই কোথায় যেতে চাচ্ছিস বল? তখন প্রথমে আমি আমার মৃত মায়ের কাছে যেতে চাইলাম। তাই হলো, মাকে গিয়ে বললাম “মা”,আমি কি কোনো কালেই তোমার কোন সেবা করিনাই, কিংবা কোন পূণ্য করি নাই? “মা”, বললেন, বাবা তোমার জন্য মায়া হয়, তবে, তুমি যে সেবা আমার জন্য করেছো তার চেয়ে কোটিগুন বেশি আমি তোমার জন্য করেছিলাম। তা ছাড়া তুমিতো আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছো। তাই, তোমার কোন পূণ্যতো আমি দেখছিনা। মায়ের কথায় সাহস হারিয়ে ফেললাম। অত:পর বাবার কাছে গেলাম, বাবাতো আরো ক্ষিপ্ত। বললো, বাবার জন্য যা তোমার করা উচিত ছিল তার লক্ষ কোটি ভাগের এক ভাগও তুমি করো নাই। বরং তুমি আমাকে প্রতিনিয়ত যন্ত্রণা দিয়েছো। তোমার কোন নেকতো আমার চোখে পড়ছে না বাপ! অত:পর মৃত বড় আপার কাছে গেলাম, তিনি বাবার মতোই ক্ষিপ্ত, বললো তোদেরকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছিলাম, বিনিময়ে মনোকষ্ট ছাড়া কিছুই দেও নাই। তাই ভাই, তোর কোন নেকতো আমি দেখি না। নিজের মন ভেঙ্গে গেলো, আপার কথায় হতাশ হয়ে পড়লাম, বউ ও দুই ছেলেদের কথা মনে পড়তে লাগলো। আর বোধয় রক্ষা নাই! নিজেকে বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না এই ভেবে যে একান্ন কৎসর বয়সে কোন একটি পূন্যও করতে পারি নাই!

 

মা, বাবা ও বোনের কাছে যখন কোন সাহায্য পেলাম না তখন আর অন্যের কাছে গিয়ে কি লাভ! তাই ভাবলাম যা যা পূন্য করেছি বলে মনে হয় বা পূ্ণ্য হতে পারে এমন কিছু আজরাঈল (আঃ) কে বলতে শুরু করলাম। ভয়ে ভয়ে বলতে লাগলাম, আমিতো অনেক নামাজ রোজা করেছি, এগুলোকি পূন্য নয়? আজরাঈল বললেন, তুমি আল্লাহর ভয়ে কোন নামাজ রোজা করো নাই, যাই করেছো লোক দেখানোর জন্য করেছো, তাছাড়া তোমার নামাজ রোজা সঠিক ছিলোনা, তাই তা পূন্যের মধ্যে পড়ে নাই। বললাম, প্রতি কুরবানী ঈদে আমি যে কুরবানী দিতাম এটা কি পূন্য নয়? উত্তরে বললো না, কারন, তুমি লোক দেখানোর জন্য কুরবানী দিয়েছ, বউ ছেলেদের জন্য দিয়েছো, আল্লাহর জন্য নয়। তাছাড়া কোনটাই তোমার হালাল রুজির ছিলো না। আমি বললাম, আমি যে, অনেককে দান খয়রাত করেছি, মসজিদে দান করেছি এগুলো কি হবে? আজরাঈল (আঃ) বললেন, মসজিদে যে টাকা তুমি দিয়েছো তা মানুষের কথায় দিয়েছো, লোক লজ্জার ভয়ে দিয়েছো, খোদার ভয়ে দাও নাই। তবে, দান খয়রাত যা করেছো তা তোমার পাপের ফসল, বিরক্ত হয়ে করেছো এবং ছিলো লোক দেখানো।

 

এবার কি করব? আরতো কোন উপায় দেখছি না, তাহলে কি এবারের মতো বাঁচার কোন সম্ভাবনাই নেই! গলার বেড়ি কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছিলো। মৃত্যুর যন্ত্রনার পূর্বেই এই অবস্থা! মৃত্যুর যন্ত্রনাযে কতো ভয়ংকর হবে তা আঁচ করতে পারছিলাম। আবার বললাম, আমি যে কোটি বার দোয়া দুরুদ পড়েছি সেটার কি হবে! সেগুলোর একটিও কি পূন্য নয়? আজরাঈল বললো, তুমিতো সৃষ্টিকর্তাকেই বিশ্বাস করোনা, দোয়া দুরুদ দিয়ে কি হবে! তুমি যদি আল্লাহ ও রাসুলদের বিশ্বাস করতে তবে, এতো পাপ করতে পারতে না! আর উপায় না দেখে বন্ধু বান্ধবী হতে শুরু করে আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশি, ভাই বোন সবার দ্বারে দ্বারে গলায় শিকল পড়া অবস্থায় গেলাম। সবাই একই কথা বললো, কোন নেক করি নাই। বরং পাপের সাক্ষী আরো বাড়তে লাগলো, সবাই আমার পাপের কথাই বলতে শুরু করলো।

 

এবার আজরাঈল (আঃ) বললো, ওহে মহা পাপী তোরতো কোন ক্ষমতাই ছিলো না, তারপরও তোর জন্য আমাকে কষ্ট করতে হচ্ছে। অথচ হাজার হাজার রাজা বাদশাকে গলায় বেড়ি দিয়ে সেকেন্ডের মধ্যে গলায় রশি দিয়ে টেনে হিচড়ে নিয়ে গেছি। কারো জন্য সেকেন্ড চিন্তা করার সময়ও আমার ছিলো না। আমি তোর কাজে বিরক্ত হচ্ছি। শুন পাপী, পৃথিবী সহ মহা বিশ্বে যত ক্ষমতাধর মানুষ বা বস্তু থাকুক না কেনো, আমার কাছে সুতার মত হালকা। তবে, যে আল্লাহকে ও তার রাসুলদের বিশ্বাস করে এবং তাদের নির্দেশ মোতাবেক কাজ ও আমল করে শুধুমাত্র তারাই আমার কাছে ভারী। তাই আমার আর সহ্য হচ্ছে না এবার চল, তুই সারা পৃথিবী খোঁজলেও তোর কোন পূন্য পাবিনা। বুক ফেঁটে কান্না বের হচ্ছিলো, মৃত্যু অনিবার্য হয়ে উঠলো।হঠাৎ মনে পড়লো, একটি মৃত মেয়ে রুপার কথা। তার জন্য আমি কিছু করেছিলাম। দেখিনা ওর কাছ থেকে কোন সাহায্য পাওয়া যায় কিনা!!ফলে, আজরাঈল (আঃ) কে শেষ বারের মতো অনুরোধ করলাম আমাকে রুপার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তাই হলো, আমাকে টানতে টানতে হেচড়াতে হেচড়াতে রুপার কাছে নিয়ে যাওয়া হলো। তখন আমি রুপাকে বললাম, আমি কি জীবনে কোন পুন্য করি নি! সব জায়গায় গেলাম কেহই আমার পক্ষে একটি কথাও বলে নি, আমার কোন একটি নেকও কেউ বলতে পারে নি। তাই শেষ উপায় হিসাবে তোমার কাছে আসলাম। তুমি আজরাঈল (আঃ) কে বলো আমার কোন পূন্য আছে কিনা?

 

“রূপা” আজরাঈল (আঃ) কে বললো, হে আজরাইল (আঃ) আমি একজন স্বামী পরিত্যাক্তা পরহেজগার মেয়ে মানুষ ছিলাম। জানা মতে কোন দিন কোন পাপ করিনি, নামাজ, রোজা ও কোরআন শরীফ ছিল আমার নিত্য সম্বল। স্বামীর কাছ থেকে প্রচন্ড আঘাত পাওয়ার পর আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম। আত্মহত্যা করাটা আমার মাথার উপর ছিলো। এই মানুষটা আমাকে কোনদিন দেখেনি এবং আমিও ওনাকে কোনদিন দেখিনি। তবে, শুধু আল্লাহকে ভয় করে, তিনি আমাকে সাতটি বৎসর দূর থেকে সাহায্য সহায়তা করে, আল্লাহর আদেশেই আমাকে আত্মহত্যার হাত থেকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন, আমি জানি এখানে অবশ্যই আল্লাহর নির্দেশ ছিলো। কারন, তিনি জানতেন আমি খুব পরহেজগার। তাই তিনি, অন্যের মুখে শুনে আমাকে আত্মহত্যা থেকে বাঁচানোর জন্য সাতটি বৎসর আমার বাসা ভাড়া সহ আমার খাওয়া পড়ার যাবতীয় খরচ দিয়েছিলেন। আজ আমি নেকি, তবে ওনি না থাকলে আমি দোযখে থাকতাম কারন, আমাকে আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিতে হতো। আর আত্মহত্যা মহাপাপ। কিন্তু আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে তিনি এই স্বামী পরিত্যাক্তা মানুষটিকে না দেখে শুধু মাত্র আল্লাহর সৃষ্টির কথা ভেবে, বছরের পর বছর সাহায্য সহায়তা করে আমার আত্মহত্যা ঠেকিয়েছেন। যেহেতু ওনি না থাকলে আমি আত্মহত্যা করতাম এবং ওনার উছিলায়, আল্লাহরই নির্দেশে আত্মহত্যা না করে কোটি কোটি পূন্য পেলাম। তাহলে, আমার এই সমস্ত পূন্যের হকদার কি ওনি নন?

 

রূপার কথা শুনে আজরাঈল (আঃ) মনে হয় বিব্রত বোধ করলেন। পরবর্তীতে আল্লাহর কাছে আরজ করলেন, বারে খোদা এই মহিলা কি বলছে? উপর থেকে কঠিন আদেশ আসলো, আমার এই নেকি বান্দা সঠিক কথাই বলেছে, মনে রেখো আজরাঈল, “যে মানুষ আমার সৃষ্টিকে বাঁচাবে এবং বাঁচানোর চেষ্টা করবে সে-ই আমার প্রকৃত বান্দা, আর যারা এর ব্যতিক্রম করবে তাদের জন্য কঠিন থেকে কঠিনতর সাজা আমার তরফ থেকে প্রস্তুত রয়েছে, এই পাপীকে মুক্ত করে দাও এবং বলো তার উপর আমার হেদায়েত থাকবে”। কথা মতোই কাজ, আজরাঈল (আঃ) আমার শিকল খুলে দিলো এবং আমাকে মুক্ত করে দিলো।

 

আমি আমার বাসায় এসে হাঁফ ছেঁড়ে বাঁচলাম এবং প্রতিজ্ঞা করলাম, যতোদিন বেঁচে থাকবো কোনো দিনও আর কোন অন্যায়, পাপ করবো না, সৃষ্টিকর্তার আদেশ পালন করবো এবং স্রষ্টার সৃষ্টিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করবো। পরে, আযানের ধ্বনিতে যখন ঘুম ভাঙলো, দেখি আমার স্ত্রী কোরআন তেলোয়াত করছেন।

 

লেখক: মোঃ আদিল মাহমুদ।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4009643আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 4এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET