২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, সোমবার, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জমাদিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • কুমিল্লা
  • মুরাদনগরে এসএসসির ফরম ফিলাপে গলাকাটা ফি আদায়ের অভিযোগ

মুরাদনগরে এসএসসির ফরম ফিলাপে গলাকাটা ফি আদায়ের অভিযোগ

মোহাম্মদ ইমন মিয়া, বাঙ্গরা,কুমিল্লা করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : নভেম্বর ২১ ২০১৮, ০৯:৪৬ | 677 বার পঠিত

এন এ মুরাদ, মুরাদনগর :

* মাথাপিছু ১০ হাজার ও ৯ হাজার ২শ টাকা।

* ছাত্ররা জানেনা তারা কয় বিষয়ে ফেল করেছে।

* নির্বাচনী ফলাফল দেওয়ার আগেই ১১০ জনের ফরম ফিলাপ শেষ ।

* অভিযোগের কোন জবাব দিতে না পেরে প্রধান শিক্ষক রেগে গরম হয়ে বলেন আপনারা যান গিয়ে রির্পোট লিখেন ।

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার টনকী হানিফ সরকার উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপে অভিনব কায়দায় আদায় করা হচ্ছে গলাকাটা ফি। নির্বাচনী পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে উঠানো হয়েছে টাকা। মাথা পিছু ফরম পূরনে চার হাজার পাঁচশত টাকা, সাথে ফেল করা ছাত্র- ছাত্রীদের থেকে নেওয়া হয়েছে জামানতের কথা বলে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার টাকা। এইভাবে পর্যায়ক্রমে ১০ হাজার ২শ ও  ৯ হাজার ২শ টাকা করে নেওয়া হয়েছে ফরম ফিলাপের টাকা।

২০১৯ সালে যারা এসএসসি পরীক্ষা দিবে তাদের ফরম পূরণনের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের নির্দেশ এবং সরকারী নিয়ম অনুসারে ফি আগে থেকেই ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। এবারের এসএসসি পীক্ষায় ফরমপূরনের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিভাগে ১৫৬৫, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৪৪৫ টাকা নির্ধারন করা হয়েছে।

এছাড়া কোন শিক্ষার্থী যদি কোন একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয় তাহলে তাকে নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে দেওয়া যাবেনা মর্মে বোর্ড কতৃক প্রত্যেক স্কুলে চিঠি দেওয়া আছে । যার স্বারক নং: পরী/ মাধ্য/ এসএসসি/২০১৮/৩৭৫ ।

বোর্ড এবং হাইকোর্টের  নিয়ম নীতিকে উপেক্ষা করে টনকী হানিফ সরকার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জয়নাল মিয়া স্কুল কমিটিকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তুলেছেন রমরমা ফরম বানিজ্য। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের সোনিয়া আক্তার, আল-আমিন, তানিয়া আক্তার, আমানউল্লা, সুমন মিয়া, এ্ছাড়াও , ওমর ফারুক, রনি, ইয়াসমিন, রবিউল, হৃদয়া মিয়া,  নুরুন্নাহার তারা প্রত্যেকে ১০হাজার ২শত টাকা করে দিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি বছর টনকী হানিফ সরকার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৫১ জন নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করবে। তাদের মধ্য থেকে মাত্র ৪০জন সকল বিষয়ে পাশ করেছে। বাকীরা তাদের ফলাফল জানেনা কে কয় বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। শুধু ব্যবস্থাপনা কমিটি ও প্রধান শিক্ষকই জানেন তাদের পরীক্ষার আমলনামা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন ছাত্রের সাথে প্রতিবেদকের কথা হলে তারা বলেন, আমরা জানিনা কে কয় বিষয়ে ফেল করেছি। কমিটির লোকজন ও স্যারেরা বলছে তোমারা ফেল করেছো। যদি পরীক্ষা দিতে চাও তাহলে ১০ হাজার টাকা করে দিতে হবে। রেজাল্ট দেওয়ার আগেই বলছে ফরম পূরনের কাগজ পত্র আমরা বোর্ডে পাঠিয়ে দিয়েছি। তোমরা জলদি করে টাকা জোগাড় করে নিয়ে আস  অন্যথায় পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারবানা। আমরা লাভে টাকা এনে ফরম ফিলাপ করেছি।

গোপন সূত্রে জানা যায়, টনকী গ্রামের আলাউদ্দিন তার মেয়েকে ৯৫০০ টাকা দিয়ে ফরম ফিলাপ করিয়েছেন। কথা হয় আলাউদ্দিনের সাথে তিনি প্রধান শিক্ষকের শিখানো ভাষায় বলেন, স্যার আমাকে ১৮শ’ টাকা দিতে বলেছে । প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,  আমার মেয়ে নুরুন্নাহার ক্লাস রুল ৩৩ সে ৭ বিষয়ে ফেল করেছে। বোর্ডের নিদের্শনা মতে কেহ এক বিষয়ে ফেল করলেও  পাবলিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করতে পারবেনা । আপনার মেয়ে ৭ বিষয় ফেল , তারপর ও এক হাজার আটশত টাকায়  কিভাবে ফরম ফিলাপ করালেন? আলাউদ্দিন বলেন বর্তমান চেয়ারম্যান জাকির হোসেন আমার খালাত ভাই তিনি বিষয়টি দেখছেন।

টনকী হনিফ সরকার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল মিয়া বলেন, আমরা ১১০ জনকে ফরম ফিলাপ করিয়েছি। তার মধ্যে ৮০ জন সকল বিষয়ে পাশ করেছে। চলতি মাসের ৫ তারিখ নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফল দেখতে চাইলে তিনি আধাঘন্টা বসিয়ে রেখে আর দেখাননি। তারপর বাহির থেকে কথা বলে এসে সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা আমাদের স্কুল সভাপতি, শিক্ষক এসোসিয়েশনের সভাপতি ও ইউএনও’র সাথে কথা বলেন।

আনিত অভিযোগের ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, আপনারা সবই জেনে আসছেন । আমি কিছুই বলবোনা , যা জানেন তাই গিয়ে লিখেন।

মুরাদনগর উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি এর চেয়ে বেশী  টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। সর্বোপরি ভাই আপনারা যেহেতু আমার পরিচিত বসে একটু কথা বলি পরিবেশটা ঘোলাটে না করি।

বিদ্যালয়ের অভিভাবক সভাপতি মোঃ শাহ আলম সরকার  বলেন, একটা গ্রুপ আছে তারা ঘুষ খাইতে পারেনি বলে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

মাধ্যামিক শিক্ষা কর্মকর্তা সফিউল আলম তালুকদার বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি , লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিতু মরিয়ম বলেন,  হানিফ সরকার উচ্চ বিদ্যালয়ের বিষয়ে অনিয়মের  অভিযোগ পেয়ে আমি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি এক বিষয়ে অনুত্তীর্ন হয়েছে এমন একজনকে ও যেন  ফরম ফিলাপ করানো না হয়। সবোর্চ্চ ১৮শ টাকার বেশী নেওয়ার কোন প্রশ্নই আসেনা। যদি অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে থাকে তাহলে স্কুলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 3422632আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 13এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৭৪৯৮২৩৭০৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET