১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৫ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাজেট-বরাদ্দ, সম্পুর্ণ অবৈধ ।

হুমায়ন আরাফাত, আশুলিয়া করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : জুন ০৪ ২০১৭, ১০:১৫ | 664 বার পঠিত

সিরাজী এম আর মোস্তাক ।

মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ বিসর্জনকারী ৩০লাখ বীর শহীদদের বঞ্চিত করে মাত্র দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রদত্ত বাজেট-বরাদ্দ, বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও নীতি বিরূদ্ধ। বঙ্গবন্ধুর সময়ে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও কোটা ছিলনা। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাজেট-বরাদ্দ ছিলনা। এখন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা বাজেট-বরাদ্দ হয়। এবছরও দুই লাখ তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রায় চার হাজার (৩৯৮৬) কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এতে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা ও ৩০লাখ শহীদের সংখ্যাটি আরেকবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু মাত্র ৬৭৬ জন যোদ্ধাকে খেতাব দিয়েছেন। এতে সাতজন শহীদকে দিয়েছেন সর্বোচ্চ তথা বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব। ৩০লাখ শহীদ ও দুই লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনের সংখ্যাটি সুনির্দিষ্ট করেছেন। সাতজন শহীদকে ৬৭৬ যোদ্ধায় অন্তর্ভুক্ত করে তিনি শিখিয়ে গেছেন যে, ৩০লাখ শহীদের চেয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংখ্যা অনেক বেশি। সাতজন শহীদকে সর্বোচ্চ খেতাব দিয়ে বুঝিয়েছেন যে, ৩০লাখ শহীদ উচ্চস্তরের মুক্তিযোদ্ধা। এছাড়া সকল বাঙ্গালি তথা বন্দী, শরণার্থী, আহত, পঙ্গু ও যোদ্ধাগণ সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা। বঙ্গবন্ধু নিজেও একজন বন্দী ও আত্মত্যাগী যোদ্ধা হিসেবে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়েছেন। এসকল প্রকৃত বীরদের বাদ দিয়ে শুধু দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত করা সম্পুর্ণ অবৈধ।
দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধাদেরকে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে বাজেট-বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে, শুধু এ দুই লাখ ব্যক্তিই দেশ স্বাধীন করেছেন। তাদের জন্য প্রদত্ত বাজেট-বরাদ্দ বৈধ। তাদের সন্তানেরা কোটা-সুবিধা পাবার যোগ্য। মুক্তিযুদ্ধে ৩০লাখ শহীদের কোনো ভূমিকা নেই। বঙ্গবন্ধুসহ তালিকা বহির্ভূত বীর-সেনারা মুক্তিযোদ্ধা নয়। তাদের সন্তানদের কোনো অংশ নেই। অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শহীদের সংখ্যা, স্পষ্ট বঞ্চণা ও ধোঁকা বৈ কিছু নয়।
পৃথিবীতে কোথাও ৩০লাখ শহীদের বিপরীতে মাত্র দুই লাখ যোদ্ধার নজির নেই। বীর শহীদদের যোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ দেয়ার দৃষ্টান্তও নেই। তা শুধু বাংলাদেশেই আছে। তাই অনেকে বলেন, ৩০লাখ শহীদের মধ্যে রাজাকারও আছেন। একথাটি অবৈধ। রাজাকাররা কখনও শহীদ স্বীকৃতি বা মর্যাদা পেতে পারেনা। মূলত দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধাদের বাজেট-বরাদ্দ দেয়াতেই ৩০লাখ শহীদের বিষয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।
তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাঙ্গালি জাতির জনকের মহান ঘোষণা সমুন্নত করতে প্রচলিত দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধা তালিকা বাতিল করা উচিত। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাসহ সকল শহীদ, বন্দী, আত্মত্যাগী, শরণার্থী, পঙ্গু, আহত ও তালিকাভুক্ত সবাইকে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দিয়ে দেশের ১৬কোটি নাগরিককে তাদের প্রজন্ম ঘোষণা করা উচিত। দুই লাখ তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার জন্য প্রদত্ত বাজেট-বরাদ্দ বাতিল করা উচিত। এতে সমগ্র জাতি মুক্তিযোদ্ধা প্রজম্ম হিসেবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হবে।

শিক্ষানবিশ আইনজীবী, ঢাকা।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4216240আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 8এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET