২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১০ই সফর, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

মানবজাতি কি সত্যিই শান্তি প্রিয়? ——আদিল মাহমুদ

নয়া আলো অনলাইন ডেস্ক।

আপডেট টাইম : জুলাই ২৭ ২০২০, ১৮:২৫ | 712 বার পঠিত

“মানবজাতি কি সত্যিই শান্তি প্রিয়”?
শান্তি কথাটা আপেক্ষিক। শান্তির অর্থ অবস্হা, বিশ্রাম, নিম্তব্ধ্যতা, প্রশান্তি, আরাম, সান্ত্বনা, নীরবতা, স্থিরতা, অচলতা, স্বচ্ছতা, নিরাপদ রাখা। ব্যাপক অর্থে, কোন প্রকার সংঘাত বা যুদ্ধ বিহীন সময়কাল। বৃহৎ পরিসরে শান্তি বলতে, দেশের ঐক্য, শান্ত অবস্থা বিরাজমান, বৈরী পরিবেশ দ্বারা রাষ্ট্র আক্রান্ত না হওয়াকে বুঝায়।
তবে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের দৃষ্টিকোন থেকে শান্তির বিভিন্ন মূল্যায়ন হয়ে থাকে। কোথাও কোথাও হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে শান্তি আনয়ন করা হয়, আবার কোথাও নিজেদের মৃত্যুর বিনিময়ে শান্তি স্থাপন করা হয়। এ পৃথিবীতে এমন অনেকেই আছেন, যারা শান্তির জন্য নিজের জীবন উৎর্সগ করেছেন। আবার এমন অনেকে আছেন যারা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অশান্তিকে স্বাগত জানাচ্ছেন। তাই, শান্তির মর্মবানী এক এক জানের কাছে এক এক রকম। কেউ মানুষকে হত্যা করে শান্তি পায়, আবার কেউ মানুষকে বাঁচিয়ে শান্তি পায়। তবে যারা মানুষকে বাঁচিয়ে শান্তি পায় তারা আবার মানুষের জন্যে, নিজেকে মেরেও প্রশান্তি লাভ করে।
বিশ্বে শান্তির জন্য অনেকেই জীবন বাজী রেখেছেন। পবিত্র আল-কুরআন এ উল্লেখ আছে,”নিশ্চয়ই সীমা লংঘনকারীকে আল্লাহ্ ভালবাসে না”। শান্তির জন্য নেলসন ম্যান্ডেলা বলেছিলেন, “তুমি যদি সত্যিকার অর্থেই শান্তি চাও, তোমাকে তোমার শত্রুদের সাথে কাজ করতে হবে, তা হলেই সে তোমার সহকর্মী হতে পারবে”। আবার আল হাদিসে আছে “যে ব্যক্তি মানুষকে দয়া করে না, আল্লাহ তায়ালা তাহার উপর রহমত বর্ষন করে না”। অপর দিকে রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন, “হাত ধরো, হাত ধরো- আমি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিবর্তে এনে দেবো তৃতীয় পৃথিবীর শ্রেনীহীন কবিতার ভুবন”।
এসব শান্তির বার্তা কি আজও বর্তমান বিশ্বে কোন কাজে এসেছে? কাজে আসেনি! কারণ, বিশ্বে যারা শান্তি বিঘ্নিত করছে তারাও ইচ্ছে করলে, এ রকম অনেক ভালো বানী দিতে পারেন। আমরা মানুষ, প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের কিছুটা দৃশ্য দেখেছি বা শুনেছি। কিন্তু তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এখনো দেখতে পারছিনা কেনো? কেও কি বলতে পারেন এ দীর্ঘসূত্রিতার কারণ কি? কারণ, সেই পারমানবিক বোমা ও উন্নত মানের ক্ষেপনাস্ত্র, জঙ্গী বিমান, ড্রোন, সাবমেরিন ইত্যাদি! যে সবকে আমরা অভিশাপ মনে করছি। অথচ সেই অভিশাপই আজ পৃথিবীতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঠেকিয়ে রেখেছে। না হয় আমরা পঞ্চম বিশ্বযুদ্ধের দাঁড় গোরায় কানা, লেংড়া,মূক হিসেবে বেঁচে থাকতাম নতুবা মরে যেতাম।
কোন কোন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ দেখার মতো লোক পৃথিবীতে থাকবে না। তার আগেই সবাই শেষ! কিন্তু আমি বলবো, না! সৃষ্টিকর্তা, তার সৃষ্টিকে পুরোপুরি ধ্বংস হতে কখনোই দেবেন না। কাউকে না কাউকে বাঁচিয়ে রাখবেনই। কারণ, শুধুমাত্র তিনিই একদিন সম্পূর্ন পৃথিবীকে চিরতরে ধ্বংস করবেন। তার আগে যদি কেউ এ সুন্দর পৃথিবীকে সম্পূর্ন রুপে ধ্বংস করতে চায় তবে সে নিজেই ধ্বংস হয়ে যাবে! মানুষ শান্তি প্রিয় তা অনেকেই বলে! এখানে জানা দরকার, এ কথাটা কারা বলে! হ্যাঁ যারা বলে এবং বিশ্বাস করে কেবল মাত্র তারাই শান্তি প্রিয়। বাকি সবাই অশান্তির দাস।
সতীদাহ প্রথা, দাস প্রথার বিলুপ্তি শান্তির অনেকটা নিদর্শন। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ(স:), মক্কা বিজয়ের পর সর্ব প্রথম দাস প্রথা বিলোপের ঘোষনা দেন। দাস যায়েদ(রা:)কে সেনাপতি নিয়োগ দিয়ে তিনি তার প্রমাণ করেন। আবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন ১৮৬৩ সালের ০১ জানুয়ারি দাস প্রথার আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তি ঘটান। অন্যদিকে, রাজা রামমোহন রায়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৮২৯ সালের ৪ ডিসেম্বর ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে সতীদাহ প্রথা বাতিল করা হয়। এ সব কুক্ষ্যাত, নোংরা নিয়ম বিলোপ করে অনেকেই শান্তির মুখ দেখেছিলেন, শান্তির আশা করেছিলেন। কিন্ত ভেবে দেখুন, এসেছি কি শান্তি! পেরেছে কি শান্তি নামক আপেক্ষিক জিনিসটাকে বহাল রাখতে?
সর্বকনিষ্ঠ নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপ্ত কৃষ্ণাঙ্গ নেতা মার্টিন লুথার কিং, জুনিয়র, বলেছিলেন, “যদি উড়তে না পার তবে দৌঁড়াও, যদি দৌঁড়াতে না পার তবে হাঁটো, হাঁটতে না পারলে হামাগুড়ি দাও, যে অবস্থাতেই থাকো, এগিয়ে চলা বন্ধ করবে না”।এটা ছাড়াও অনেক শান্তির বানীই তিনি সহ অনেকে দিয়েছেন। তার পরেও কি শান্তি এসেছে এ ধরায়? আসবে না! কারণ, মানুষ শান্তি প্রিয় নয়! প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় মঙ্গলবার যা একুশে সেপ্টেম্বর বলে ক্ষ্যাত, “বিশ্ব শান্তি দিবস”। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ৩৬/৬৭ প্রস্তাব অনুযায়ী শান্তি দিবস গৃহিত হয়। সারা বিশ্ব স্বতংস্ফুর্ত ভাবে এ দিবস পালনও করে থাকে। কিন্তু এ পালনে কি অশান্তি মনাদের মন ভরে, নাকি শান্তি ফিরে এসেছে?।
তাই ছোট জ্ঞানে বলতে চাই, শান্তি অনেক কঠিন জিনিস যা মানব জাতির পক্ষে তার লেজ ধরা দুরূহ অলীক পাথর ছাড়া আর কিছুই না! শান্তির বানান যারা জানে না তারা শান্তির বুঝবে টা কি? কিন্তু অশান্তি, ক্লেশ, ঝগড়া, বিবাদ, লোভ, লালসা, ধ্বংসযজ্ঞ, ক্রোধ, হিংসা, রাহাজানি, খুন, ইত্যাদির বানান মানুষের কন্ঠস্হ! পরিশেষে বলতে চাই, পৃথিবীতে শান্তি আসার শুধু দু’টি পথ খোলা আছে।
১। সৃষ্টিকর্তার সরাসরি হস্তক্ষেপ। কিন্তু তিনি নীরব!
২। যারা শান্তি চায়, তাদের সকলের আত্মহনন। কিন্তু এটা মহা পাপ!
লেখক: মোঃ আদিল মাহমুদ।

Comments

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4103982আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 5এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET