১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৫ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

“মাদকের নিল ছোবলে : ছাত্র ও যুব সমাজ”

হুমায়ন আরাফাত, আশুলিয়া করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : জুলাই ১৯ ২০১৭, ২৩:৩৬ | 629 বার পঠিত

আলীহোসেন কোমপানীগঞ্জ থেকে:

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একাধিক ইউনিয়নে মাদকের নিল ছোবলে  ধ্বংশ হতে চলেছে ছাত্র ও যুব সমাজ। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পুলিশের উদাশিনতায় একাধিক স্থানে  বেশী সময় ধরে চলতে থাকা প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা বন্ধ হয়নি এখনো। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন  এলাকায় হাত বাড়ালেই ইয়াবা, চোলাই মদ, ফেনসিডিল, বিয়ার, হেরোইন এবং গাঁজা মিলছে।প্রকাশ্যে এসব মাদক বিক্রি হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তেমন কোনো তৎপরতা নেই। কোম্পানীগঞ্জ থানার  পুলিশের   বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসিক টাকা নেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা জানিয়েছেন পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসিনতার কারনে এ মাদক ব্যবসা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়ার কারণে যুবসমাজ ধ্বংসের সম্মুখীন প্রায়! উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবক মহল। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চাপ ও ক্ষোভের  বিরাজ করছে। সূত্র জানায়, নয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলা প্রতিটি ইউনিয়নেই কম- বেশি মাদকের আস্তানা রয়েছে। তবে ১নং ইসলামপুর পশ্চিম, ৫ নং উত্তর রনিখাই ও ৬নং দক্ষিন রনিখাই ইউনিয়নের একাধিক  ওয়ার্ডে অবস্তিত গ্রামে হচ্ছে মাদকের বড় আস্তানা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইউনিয়নের একাধিক গ্রামের   মাদক ব্যবসার প্রধান হোতা কালাসাদেকের মৃত ফজর আলীর পুত্র  আমির উদ্দিন ও  বদিকোনা গ্রামের আব্দুল হামিদের পুত্র   নিজাম উদ্দিন। এবং  সদস্যরা উপজেলার প্রভাবশালি নেতাদের  নিকট আত্মীয়। যেখানে বিকাল হলেই মোটরসাইকেল  নিয়ে ক্রেতাদের আনা- গোনা শুরু হয়। কেউ বাঁধা দিলে তাদের ওপর আক্রমণ করা হয়। ফলে কেউ ভয়ে কোনো কথা বলে না। তারা প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে।এ সব আস্তানার মাদকসেবনকারীদের উৎপাতে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ১নং ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের পাড়ুয়া বাজারের উত্তরের দিক থেকে বাজারের দক্ষিন পাশের দোকান হইতে আলুঘাট পরযন্ত ও টুকের বাজারের বউবাজার নামক স্থানেও এবং উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের বরম , মাঝের গাঁও ,আদর্শগ্রাম এবং লামাগ্রামের একাধিক স্থানে  বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে অভিনব পন্থায় ছুটে আসেন মাদকসেবনকারীদল। বর্তমানে  এ  এলাকাকে মাদকসেবনকারীরা ছদ্ম নাম হিসেবে ‘ভালোবাসা’ বলে ডাকে। বর্তমানে ‘ভালবাসা’ই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত। অল্প সময়ের মধ্যেই মাদক ব্যবসার জগতে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে উপজেলার পাড়ুয়া বাজারের  পাড়ুয়া বদিকোনা গ্রামের আব্দুল হামিদের পুত্র নিজাম উদ্দিন ,লামাপাড়া গ্রামের সোহাব আলীর পুত্র সোহেল মিয়া,আলুঘাটের কালামিয়া ও গডফাদার হিসেবে কালাসাদেক গ্রামের আমির উদ্দিন ও  লামাপাড়া গ্রামের নিজাম উদ্দিনের পুত্র  সাহাব উদ্দিন, লামাপাড়া গ্রামের মন্নানের পুত্র শানুর মিয়া খোজ নিয়ে জানা গেছে, মাদক ব্যবসায়ীরা ভারতের বড়পুন্জি ও তানসিনি বাজার থেকে বিজিবিদেরকে উৎকোচ দেয়ার  মাধ্যমে অত্যন্ত সুকৌশলে  উপজেলার   বিভিন্ন স্থান থেকে গাজা ও হেরোইন নিয়ে এসে এখনে ব্যবসা করছে।এ দিকে উল্লেখিতদের বাসায় মাদক সেবনের পর  ও পাশ্ববর্তী পাহাড়ের ঢালুতে বসে জুয়ার আসর। এ যেন স্বর্গ সুখের সন্ধানে নরক যাত্রা। প্রাপ্ত সুত্রে জানা যায়, উপজেলার ইউনিয়নের বেশ কিছু রাজনৈতিক নেতাদের মদদে এ ব্যবসা চলার কারনে কোম্পানীগঞ্জ  এলাকা মাদকের স্বর্গ-রাজ্যে পরিণত হয়েছে। উপজেলারএকাধিক গ্রামের আকাশে বাতাসে মাদকের গন্ধ।উপজেলার একাধিক গ্রাম মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য এখন অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। থানা পুলিশের নীরব ভূমিকায় থাকায় এ উপজেলাটি এখন মাদকের স্বর্গ রাজ্যে পরিণত হয়েছে।  হাত  বাড়ালেই মাদক মিলছে। বর্তমানে ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা, চোলাই মদসহ বিভিন্ন মাদক পাওয়া যাচ্ছে।এ ছাড়া থানা পুলিশকে বার বার অবহিত করা হলেও অজ্ঞাত কারণে  মাদক ব্যবসা বন্ধের জন্য কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না। সচেতন মহল অভিযোগ করে বলেছেন, মাদক দ্রব্য সহজলভ্য হওয়ায় স্কুল, কলেজের ছাত্র- যুবক থেকে শুরু করে  মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়,পাড়ুয়া বাজারের দক্ষিন দিক থেকে আলুঘাট পরযন্ত এবং বাজারের উত্তর দিক থেকে  মিন্টুর বাড়ী পাশাপাশি উপজেলার  বিভিন্ন এলাকার সিএনজি চালক এমনকি ওঠতি বয়সের যুবক, কলেজ ও স্কুল পড়ুয়া ছাত্র পর্যন্ত মাদক সেবন করতে পাড়ুযা বাজার,বড়পুন্জি বাজারে  আসে। ফলে যুব সমাজ, ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে পৌঁছেছে। অতি দ্রুত মাদক নিয়ন্ত্রণে তারা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানিয়েছেন।

আর অচীরেই উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের এলাকার মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে না পারলে এলাকার যুব সমাজের ভবিষ্যৎ গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।উপজেলা বিজিবি নায়েক সুবেদার আব্দুল মালেক বলেন, বিজিবি সবসময় মাদকের বিষয়ে তৎপর রয়েছে।এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ থানার  তদন্ত (ওসি)  দীলিপ কান্ত নাথ  জানিয়েছেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সবার সহযোগিতায় এলাকা মাদকমুক্ত করা হবে।

 

 

 

 

 

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4215182আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 2এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET