৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৮ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • সকল সংবাদ
  • ভ্রাম্যমাণ আদালত বিধান চালু রাখার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি

ভ্রাম্যমাণ আদালত বিধান চালু রাখার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : জুলাই ০৪ ২০১৭, ১৯:৪৮ | 731 বার পঠিত

এম.মনসুর আলী:

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অবৈধ ঘোষণা করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট।এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত বন্ধ হলে সবচেয়ে বিপদে পড়বে মেয়ে শিক্ষার্থীরা।

গত ১১ই মে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও বিচার কাজ পরিচালনার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চূড়ান্ত শুনানিতে মহামান্য বিচারপতি আশিষ চন্দন দাস ও বিচারপতি মাইনুল ইসলাম রায়ে বলেন- এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত নয়। রায়ে বলা হয়- ভ্রাম্যমাণ আদালত বলে কিছু হলে তা অবশ্যই বিচারিক হাকিম বা মহানগর হাকিম দিয়ে গঠিত হবে। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত হবে। আমার মনে যে প্রশ্নটি উদিত হল তা হচ্ছে- ভ্রাম্যমাণ আদালত, বিচারিক হাকিম বা মহানগর হাকিম দ্বারা পরিচালনা করা একদিকে যেমন সময় সাপেক্ষ ব্যাপার, অন্যদিকে বর্তমান বিচারক সংকটে তা কী সম্ভব হবে? এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত না হলে, বিপন্ন হবে ভোক্তা স্বার্থ, সমস্যায় পড়বে জনতা। কেন জানি এমনটই মনে হচ্ছে আমার। তাই জনস্বার্থে লিখতে বসলাম। যদি সরকারের নেক নজরে পড়ে এই অধমের লেখাটা এই দুরাশায়!

মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অবৈধ, এমনটাই বলেছেন মহামান্য হাইকোর্ট (হাই কোর্টের রায়কে নমস্য) । অন্যদিকে ২০০৯ সালের ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের ৫ ধারায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। আমি বলতে চাই, আমরা সাধারণ শ্রেনির জনতা ও ভোক্তা আইনের এত জটিলতা বুঝিনা। আমরা বুঝি জনগণের মঙ্গলের জন্যই আইন তৈরি হয়। আইনের জন্য জনগণ নয়। এখানে সংসদে তৈরি আইন ও প্রজ্ঞাপনের আইনে জটিলতা রয়েছে যা মহামান্য আদালত রায়ে বলেছেন। কিন্তু একথা সত্য যে, আমাদের দেশে ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯, খাদ্য নিরাপত্তা আইন-২০১৫, বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন-২০১৬সহ অনেক ভাল আইন তৈরি হয়েছে। আর এ সকল আইনের সফল প্রয়োগ হয়েছে কেবলমাত্র এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এর মাধ্যমে। বর্তমান সমাজে ভ্রাম্যমাণ আদালতের চাহিদা আছে রয়েছে যথেষ্ট।
দেশের সবাই জানে ফরমালিন মুক্তকরা, জাটকা নিধন বন্ধ করা, বাল্যবিবাহ বন্ধ; ইভটিজিং, অসামাজিক কার্যক্রম, জুয়া, মাদক, ফিটনেসবিহীন গাড়ী, লাইসেন্স ছাড়া চালক, ভেজাল পণ্য, নকল, প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিম্নমানের পণ্য, প্রযুক্তির অপরাধ, মুঠোফোনের প্রতারণাসহ অসংখ্য কাজে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। যা জনমনে স্বস্তি এনে দিয়েছিল। যদি ভ্রাম্যমাণ আদালত বন্ধ হয়ে যায় তাহলে দেশে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।
বেড়ে যেতে পারে বাল্যবিয়ে, রাস্তা-ঘাটে ইভটিজিং, ফেইসবুকে ইভটিজিং, সরকারি জায়গা অবৈধ দখল, ভেজাল ঔষধ বিক্রি যা এতদিন মোবাইল কোর্টের ভয়ে বন্ধ ছিল। ভেজাল, নকল খাবার থেকে শুরু করে নানা পণ্যের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে মানুষের এক ধরনের আস্থা তৈরি হয়েছিল। এখন হুট করে এটা বন্ধ করলে সমাজে আইন শৃঙ্খলায় ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে। আমি মহামান্য আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই, আমাদের দেশের ৯০ ভাগ জনগণই আইন আদালত সম্পর্কে বিশেষ অজ্ঞ। এ দেশের সাধারণ জনগণের শেষ আশ্রয়স্থলই ছিল এই ভ্রাম্যমাণ আদালত। গ্রামের সাধারণ ঘরের স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে স্থানীয় প্রভাবশালীর ছেলেরা ইভটিজিং করলে দরিদ্র বাবা অতি সহজেই এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিচারের দ্বারস্থ হতেন এবং সাথে সাথেই বিচার পেয়ে যেতেন। একজন দক্ষ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলার প্রতিটি মানুষের বাড়ির হাড়ির খবর রাখেন যা একজন বিচারিক হাকিম বা মহানগর হাকিমের পক্ষে সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় বিচারকাজ পৌঁছে দেওয়ার জন্য এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের কোনো বিকল্প নেই। এতে বিচারপ্রার্থীদের সময় ও অর্থ দুটোরই সাশ্রয় হয়।

তাই জনগণের জন্যই যদি আইন হয় তাহলে আইন সংশোধন সাপেক্ষে, ন্যায় বিচার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত বন্ধ না করে বরং আদালতের পরিসীমা আরো বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

গুগলে সার্চ করলে দেখা যায় বখাটেদের উত্ত্যক্তের কারণে ইতোপূর্বে দেশের বিভিন্ন স্থানে যৌন হয়রানীর শিকার হয়ে বেশ কিছু শিক্ষার্থীর প্রাণ গেছে। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে বখাটেসহ বিভিন্ন সমাজবিরোধী কাজে লিপ্ত ব্যক্তিদেরকে তাত্ক্ষণিকভাবে সাজা দেওয়ায় সারাদেশের ছাত্রীরা নিশ্চিন্তে বাড়ি থেকে স্কুল ও প্রাইভেটে পড়াশুনা করতে পারছে। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত বন্ধ হলে সবচেয়ে বিপদে পড়বে মেয়ে শিক্ষার্থীরা। তাদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়বে। রাস্তাঘাটে বখাটের যৌন হয়রানীর শিকার হবে। বখাটেদের উত্ত্যক্তের কারণে আর যাতে একটি ছাত্রীর ও প্রাণ না যায়,একটি ছাত্রীরও স্কুল বন্ধ না হয় সেজন্য এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত বিধান চালু রাখার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4224921আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 5এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET