২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, রবিবার, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জমাদিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • দেশজুড়ে
  • বেনাপোল পাসপোর্ট যাত্রীদের চরম ভোগান্তীতে বন্দর কর্মকর্তা

বেনাপোল পাসপোর্ট যাত্রীদের চরম ভোগান্তীতে বন্দর কর্মকর্তা

সোহাগ হোসেন, বেনাপোল,যশোর করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : ফেব্রুয়ারি ১৪ ২০২০, ১৫:১৩ | 889 বার পঠিত

যশোরের বেনাপোল বৃহত্তর স্থল বন্দর। এ বন্দর দিয়ে পাশ্ববর্তী বন্ধুসুলভ দেশ ভারতে যাতায়াতে সুবিধা হওয়ায় দেশের সাধারন পাসপোর্ট যাত্রী এ বন্দর দিয়ে ভারত ভ্রমনে, চিকিৎসা বা যে কোন প্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াত করে থাকে।এখন বসন্তের আনন্দে বেনাপোল ইমিগ্রেশন থেকে আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জারের টার্মিনালের গন্ডি পেরিয়ে মেন ও লোকাল রোডে দীর্ঘ লাইনে অবস্থান করেছে ভারতমুখি পাসপোর্ট যাত্রী।আর লাইনে আগে পার করে দেওয়া জন্য অবৈধ্য টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বন্দরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা। এর মধ্যে রয়েছেন আমিনুর ররহমান ও পিয়ন ইউনুচ নামে এক বন্দর কর্মকর্তা।আজ শুক্রবারে সকাল ৭টার সময় প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের সামনে গিয়ে দেখা যায় শত শত লোক লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে আরো বন্দর কর্তা আমিনুর ৫/৬ জনের একটি করে দল নিয়ে লাইনের আগে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। এর বিনিময়ে প্রতি পাসপোর্ট যাত্রীদের নিকট থেকে ১০০/২০০ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে।শুক্রবার সরকারি ছুটি থাকলেও কেন এই দাপট বন্দর কর্মকর্তার।
লাইনে আগে পার করে দিয়ে টাকার নেয়ার সময় বন্দরের টয়লেট এর ভিতরে গিয়ে টাকা নিচ্ছে।সরেজমিনে দেখা যায় যে সমস্ত যাত্রীরা মেডিকেল ভিসা নিয়ে দ্রুততার জন্য ভারত গমন করবে, সে সমস্ত যাত্রীদের কে দীর্ঘ লাইনে  দেখা যায়।এক মেডিকেল যাত্রী বলেন আমার বাবাকে যেতে দেবে আমাকে যেতে দেবে না।আমাকে লাইনে যেতে হবে, সমস্যার জন্য অপারেশ করতে যেতে হবে কিন্তু এখানে যে দীর্ঘ লাইন ধরে যেতে হলে ভারতে গিয়ে অপারেশ করা সম্ভব নয়।বন্দরে আমিনুর নামে কর্মকর্তার তদারকি করছে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এখানে মেডিকাল ভিসা বলে কিছু নাই,যারা হাটতে পারে তাদের কে লাইনে যেতে হবে যারা শুধু অচাল হাটতে পারে না তাদের কে লাইনে দেয়া হচ্ছে না।মেডিকেল যাত্রীদদের জন্য আলাদা কোন সুযোগ সুবিধা দিতে দেখা যায় নাই অন্য কোন লাইনের ব্যবস্থা ও নায়, দীর্ঘ লাইন ধরে ভারত যেতে হয়। সে নাকি বন্দরের চেয়ারম্যান এর কাছের লোক তাই অন্য কর্মকর্তারা তার ভয়ে কোন কথা বলে না।সুষ্ট শু শৃঙ্খলতার জন্য সেখানে এপিবিএন পুলিশ,আনসার,সিকিউরিটি গার্ড নিয়োজিত থাকলেও আমিনুর রহমান যাত্রীদের সাথে অসৌজন মুলক আচারন করে।তার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান যা করবে করেন কোন কিছু শোনার সময় নায়।
আর এক পাসপোর্ট যাত্রী গোপাল চক্রবতী বলেন, প্রায় ৩ ঘন্টা একটানা দাড়িয়ে আছি জানিনা আর কত সময় এভাবে দাড়িয়ে থাকতে হবে।অনেকে লাইন বাদে চলে যাচ্ছে। একজন কর্মকর্তা ২০০/৪০০ টাকা করে নিয়ে আগে পার করে দিচ্ছে তিনি নাকি বন্দরের বড় অফিসার।আমাদের টাকা না থাকায় দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি পওয়াতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানায়, দুর দুরান্ত থেকে আসা পাসপোর্ট যাত্রীদের সুবিধার্থে ২০১৭ সালের জুন মাসে আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনার চালু করে বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ। তখন থেকে এই টার্মিনাল এর অজুহাত দেখিয়ে পাসপোর্ট যাত্রীর নিকট থেকে এট্রি ফি , ওয়েটিং র্ফি, সার্ভিস চার্জ ও টার্মিনাল চার্জ বাবদ ৩৮টাকা ৭৬ পয়সা নিত বন্দর কর্তুপক্ষ।এর ৬ মাস যেতে না যেতে কোন সুযোগ সুবিধা না বাড়িয়ে যাত্রীদের নিকট থেকে আদায় করছে কাগজে কলমে ৪২.৪৪ টাকা।২০২০ সালের জানুয়ারী মাস থেকে পোর্ট ট্যাক্স বাড়িয়ে নিচ্ছে ৪৪.৯০ পয়সা কাগজ কলমে থাকলে ও নিচ্ছে ৫০ টাকা।৫ টাকা বেশি নেয়ার কারণ জানতে চাইলে বলে সারা দিনের যে খরচ হয় তার জন্য।প্রতি দিন ৭ থেকে৮ হাজার যাত্রীদের কাছ থেকে ৫ করে ৪ হাজার টাকা উশুল করে থাকে যার পরিমান মাসে হয় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা।পাসপোর্ট যাত্রীদের নিকট থেকে এই ৫০ টাকা নিয়ে ৫০ জন যাত্রীকে বসার কোন সুযোগ সুবিধা না দেওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে নানান প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এছাড়া প্রথমে পুরো টার্মিনাল ভবনের নীচতলা যাত্রীদের জন্য রাখলেও এখন তার অর্ধেকের বেশী আটকিয়ে দিয়ে কাস্টমসের স্কানিং মেশিন বসানো হয়েছে। যার কারনে ঝড় বৃষ্টির মধ্যেও মেইন রোড বেয়ে দীর্ঘ লাইনে দাড়াতে বাধ্য হচ্ছে পাসপোর্ট যাত্রীরা ।
বন্দর কর্তা আমিনুর রহমান টাকা নিয়ে লাইনে আগে পার করে দিচ্ছে এ ব্যাপারে বন্দর ডিডি মামুনুর রহমান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন টাকা নিয়ে পাসপোর্ট যাত্রীকে আগে পার করে দেয়া দূঃখ জনক কোন যাত্রী অভিযোগ দেইনি। আর তার সেখানে ডিউটি ছিলো না কেন সেখানে গেল তা খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।
Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 3417918আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 8এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৭৪৯৮২৩৭০৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET