৮ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জিলহজ, ১৪৪১ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

বিয়ে কোন ছেলে-খেলা না: আদিল মাহমুদ

নয়া আলো অনলাইন ডেস্ক।

আপডেট টাইম : জুলাই ১৪ ২০২০, ১৭:৩৩ | 694 বার পঠিত

“বিয়ে কোন ছেলে-খেলা না”

 

মফিজ আর তিন্নি আপন খালাতো ভাই বোন। এ সুবাদে দু’জনের মধ্যে খুব ভাব। তিন্নির মা মফিজকে বোনের ছেলে হিসেবে খুব পছন্দ করতো, কিন্তু ছেলে হিসেবে নয়। কারণ, মফিজ একটু উচ্ছৃঙ্খল ছিলো। এইচ,এস,সি পাস করার পর আর পড়াশুনা করেনি। এলাকার মাস্তান ছেলেদের সাথে আড্ডা দিতো, ঘুরাফেরা করতো। ফলে, এদিক দিয়ে তিন্নির বাবা/মা ও মফিজের বাবা/মা কেহই মফিজের এ সব কর্মকান্ড পছন্দ করতো না। অন্যদিকে, তিন্নি ইংলিশে অর্নাস পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার সুবাদে তিন্নি তার বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু আরিফকে ভালবাসতো। কিন্তু মফিজ কখনোই এটা জানতো না। সে শুধু জানতো যে, ছোট বেলা থেকেই তিন্নিকে সে পছন্দ করে ও ভালোবাসে। বিভিন্ন সময়ে দু’ভাই বোন বেঁড়াতে যেতো, গল্প করতো, দুষ্টমি করতো ইত্যাদি। দু’জন দু’জনকে তুমি ও তুই বলে সম্মোধন করতো। মফিজ ও তিন্নির মেলা-মেশাকে অন্যরা খারাপ দৃষ্টিতে দেখতো না, যেহেতু তারা খালাতো ভাই-বোন। ওদের মেলা মেশায়, একজনের মনের মধ্যে ছিল প্রচন্ড ভালোবাসা, আর অন্য জনের মনে ছিলো কিছুটা মায়া ও কিছুটা ভাতৃত্ববোধ। কিন্তু, মফিজ কখনো কল্পনাও করতে পারেনি, তিন্নি তাকে ছাড়া অন্য কাউকে ভালোবাসতে পারে!

 

একদিন সবাই নানার বাঁড়িতে বেঁড়ানোর উদ্দেশ্যে  রওনা হলো। ‍গ্রামের বাঁড়িতে লঞ্চে করে যেতে হয়। তাই, এক সময় মফিজ ও তিন্নি লঞ্চের ছাদে উঠে বসলো। তথাকার প্রাকৃতিক দৃশ্য দু’জনকেই খুব উদ্বেলিত করে। কথার ফাঁকে ফাঁকে তিন্নি বললো, মফিজ তোমার পড়াশুনা বন্ধ করা ঠিক হয়নি। তাছাড়া, তুমি যে ভাবে পাড়ার বখাটে ছেলেদের সাথে মেলা-মেশা করো, তা সবাই খুব খারাপ দৃষ্টিতে দেখে। মফিজ বলে, সবাই কি ভাবে সেটা আমার কাছে মূখ্য নয়! মূখ্য সেটা, যা আমার মনের মানুষ আমাকে নিয়ে ভাবে! তোমার আবার মনের মানুষ আছে নাকি, মাস্তানদের তো মনের মানুষ থাকে না! অবাক হয়ে বললো মফিজ, আমি কি সত্যিই মাস্তান? সরাসরি মাস্তান নও তবে, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তাই। তিন্নির কথায় খানিকটা মন খারাপ হলো মফিজের। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো, ধরো আমি মাস্তান, তাই বলে কি আমার মন থাকতে পারে না! হ্যাঁ পারে, তবে সেই মন কোন ভালো মেয়ের জন্য নয়।

 

কিছুক্ষন নিরব থাকার পর তিন্নি আবার বললো, আচ্ছা মফিজ তুমি কি কাউকে কখনো ভালোবেসেছো, নাকি ভালো বাসতে চাচ্ছো? উত্তরে মফিজ বললো, সুযোগ পেলাম কৈ বল! বন্ধুদের সাতে আড্ডা দিতেই তো সব সময় চলে যায়। প্রেম করার চেষ্টা যে করবো তাও তো পারছি  না! এবার ভেবেছি আড্ডা বন্ধ করে দিয়ে প্রেমের কাজে ব্যস্ত হবো। এ কথা শুনে তিন্নি হেসে দিলো। বললো, শুন মফিজ ভাই, প্রেম সময় নিয়ে হয় না, প্ল্যান করে হয় না, যার জীবনে প্রেম আসে এমনিতেই চলে আসে। যেমন ধরো আমার কথা, আমি যে কখনো আরিফকে ভালোবেসে ফেলবো তা কখনো ভাবি-ই-নি। কিন্তু দেখো এখন একদিন কলেজ বন্ধ থাকলে আমার মন খারাপ হয়। কারণ, ওই দিন আর আরিফের সাথে আমার দেখা হবে না তাই। এ প্রথম মফিজ জানতে পারলো, তিন্নি আরিফকে ভালোবাসে। কথাটা শুনে মফিজের মনে ধাক্কা লাগলো, চোখে পানি টলমল করতে লাগলো।

 

মফিজের চোখের দিকে তাকিয়ে তিন্নি অবাক দৃষ্টিতে বললো কি হয়েছে মফিজ, হঠাৎ তোমাকে কেমন মনে হচ্ছে! মফিজ হেসে দিয়ে বললো, প্রেমের কথা শুনলেই আমার মন খারাপ হয়, কারণ কেও যে কোনদিনও আমাকে ভালোবাসেনি তাই! তাছাড়া, আমার মতো মাস্তানকে আবার কে-ই বা ভালোবাসবে বল? মফিজের মায়া লাগানো কথায় তিন্নিরও কিছুটা মায়া হলো, বললো প্রেম করবে? যদি করো তবে আমার একটা বান্ধবী আছে তার সাথে তোমার পরিচয় করিয়ে দিবো, কি রাজি? মফিজ বললো হ্যাঁ রাজি, তবে আমার কিছু শর্ত আছে। কি শর্ত বলো? না এখন বলবো না, তুই তোর বান্ধবীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিস, যদি আমার শর্তের সাথে মিলে যায় তবে প্রেম হবে। আচ্ছা ঠিক আছে শর্তটা কখন বলবে? শর্তটা একটা চিঠিতে লিখে দিবো। তোর বিয়ের আগেতো আর আমার বিয়ে হচ্ছে না! কারণ, খালা-খালু এখনই তোর বিয়ের জন্য পাত্র খোঁজছে, আর আমার বিয়ের তো ফুলই ফুটে নি।

 

কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর আবার তিন্নি বলে, ঠিক আছে চিঠিটা দাও। হ্যাঁ চিঠিটা দু’একদিনের মধ্যে দিবো। তবে, আরেকটা শর্ত আছে! কি বলো? তুই আমাকে কথা দিতে হবে, তোর বিয়ের আগের দিন ছাড়া তুই আমার চিঠিটা পড়তে পারবি না! তিন্নি বললো আচ্ছা বাবা ঠিক আছে, বল প্রমিজ! তিন্নি মফিজের মাথায় হাত রেখে প্রমিজ করলো। এভাবে এক সময় তারা নানার বাঁড়ির ঘাটে চলে আসলো। তিন্নি বললো চলো নামা যাক। অতপর, মফিজ মন খারাপ করে লঞ্চ থেকে নামলো, নামার সময় তিন্নিকেও হাত ধরে নামালো। হাত ধরা আজ নতুন নয়! ছোট বেলা থেকেই বড় হয়েছে, তাই হাত ধরা ওদের কাছে কোন ব্যাপার ছিলো না।

 

দু’দিন নানার বাঁড়ি বেঁড়ানো শেষে সবাই আবার তাদের নিজ নিজ বাঁড়িতে ফিরে আসলো। পরের দিন যথারীতি তিন্নি কলেজে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিলো। হাতে দু’টি কাজ, প্রথমে মফিজের জন্য মেয়ে ঠিক করা, অর্থাৎ বান্ধবী মিতুর সাথে কথা বলা, দ্বিতীয়তঃ আরিফের সাথে দেখা করা। তাই, কলেজে গিয়ে প্রথমে মিতুর সাথে কথা বললো। বিভিন্ন কথার ফাঁকে এক সময় বান্ধবীকে মফিজের কথা বললো, মফিজের অনেক প্রশংসা করতে লাগলো তিন্নি, যাতে মিতু মফিজের সাথে প্রেম করতে আগ্রহী হয়ে উঠে। অনেকক্ষন তিন্নির কথা শুনে এবার মিতু বলে চললো, তোর মফিজ ভাই যখন এতোই ভালো তবে মফিজ ভাইকে বাদ দিয়ে আরিফের মতো একটা বাজে ছেলের সাথে প্রেম করছিস কেনো? মিতুর কথায় তিন্নি অবাক হয়ে বললো, মফিজ, আমার ছোট কাল থেকেই বন্ধু, তাছাড়া সে তো আর আমাকে ভালোবাসে না। কিন্তু আরিফ বাজে ছেলে তোকে বললো কে? আর যদি বাজে ছেলেই হয় তবে, এতোদিন আমায় বলিসনি কেন? বলিনি তুই মনে কষ্ট নিবি এ ভেবে। আচ্ছা এবার বল, কি প্রমাণ আছে তোর কাছে যে, আরিফ  বাজে ছেলে? মিতু বললো, সত্যি জানতে চাস!  তিন্নি বললো হ্যাঁ, জানতে চাই, আমায় সব খুলে বল। তখন মিতু বললো, ঠিক আছে তবে তুই সন্ধ্যার পর আমার বাসায় আসিস, সব প্রমাণ তোকে দেখাবো।

 

দু’বান্ধবীর কথা শেষে তিন্নি আর আরিফের সাথে দেখা করলো না। সোজা বাঁড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো। চিন্তা একটাই কি প্রমাণ দেখাবে মিতু! বাঁড়ি যাওয়ার পথে প্রতিদিন তিন্নি মফিজকে বন্ধুদের নিয়ে বট গাছের নিচে আড্ডা দিতে দেখতো কিন্তু আজকে মফিজকে না দেখে তিন্নি অবাক হলো! কারণ, মফিজতো আড্ডা না দেয়ার মত ছেলে নয়! কিন্তু তিন্নি বুঝতেও কখনো পারেনি যে, মফিজ বন্ধুদেরকে নিয়ে আড্ডা দিতো শুধু তিন্নির জন্যই, যাতে রাস্তায় কেউ তিন্নিকে কোন রকম ইয়ার্কি না মারে, এটাই ছিল মফিজের নিত্য উদ্দেশ্য, সে যে সত্যিই তিন্নিকে ভালবাসে।

 

সন্ধ্যার পর তিন্নি বিভিন্ন অজুহাতে মিতুর বাঁড়ি যাওয়ার জন্য রওনা হলো। তিন্নির মা বললো রাত করে একা যাবি, এটা ঠিক হবে না, যাবি যখন মফিজকে নিয়ে যা। ফলে, পাশেই মফিজদের বাড়ি, সেথায় গেলো। মফিজ, মফিজ বলে ডাকতেই মফিজের মা ঘর থেকে বের হয়ে বললো, কিরে মা রাত করে মফিজকে ডাকছিস কেনো! তিন্নি বললো, বান্ধবীর বাড়িতে যেতে হবে জরুরী দরকার কিন্তু মা বললো, রাত হয়েছে একা যাবি না মফিজকে নিয়ে যা, তাই আসলাম। কিন্তু মা মফিজের যে অনেক জ্বর, তা ছাড়া মনটাও যেনো খুব খারাপ! এমন সময় ভেতর থেকে মফিজ চেঁচিয়ে বললো, আমার জ্বর কে বলেছে তোমায়, আমি দিব্যি সুস্থ্য আছি। বলেই মফিজ রুম থেকে বের হয়ে এসে তিন্নিকে বললো এক মিনিট, তারপর সে রেডি হয়ে নিলো।

 

মফিজ ও তিন্নি একটা রিক্সা নিলো। ওরা মিতুর বাসায় যেতে লাগলো। রিক্সায় পাশাপাশি বসাতে তিন্নি বুঝতে পারলো মফিজের শরীর খুব গরম। তাই, কপালে হাত দিয়ে ধরে বললো তোমরতো অনেক জ্বর! শরীর পুঁড়ে যাচ্ছে, মিথ্যে বললে কেনো? মফিজ বললো সব সময় জ্বরকে জ্বর বলতে নেই, এতে আনন্দ হারিয়ে যায়। তিন্নি মফিজের কথার কিছুই বুঝতে পারলো না। মিতুর বাসায় এসে মফিজের সাথে মিতুকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে ওরা দু’বান্ধবী ভেতরে গেলো। মিতুর আলাদা রুম ছিলো। সেখানে তিন্নিকে নিয়ে গিয়ে ড্রয়ার খুলে কিছু চিঠি ও কিছু ছবি বের করে তিন্নিকে দেখালো। ছবি ও চিঠি দেখেতো তিন্নি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা! কয়েকটি মেয়ের কাছে প্রেম নিবেদন সহ বিভিন্ন অশ্লীল ছবি যা আরিফ কে নিয়ে কয়েকটা মেয়ের সাথে তোলা, তার মধ্যে মিতুও আছে। ছবিগুলো দেখে তিন্নির চোখে জল আসলো, বললো মানুষ এতো খারাপ হতে পারে! হ্যাঁ পারে, আর কিছু দিন পর তোর সাথেও তাই হতো।

 

অনেক কষ্ট হলেও তিন্নি মেনে নিলো এবং মিতুকে বললো তুই আমাকে বাঁচিয়েছিস। তারপরেও তিন্নির চোঁখ দিয়ে পানি পড়তে লাগলো। চোঁখ ভাল করে মুছে তবে বান্ধবীর কাছে বিদায় নিয়ে রওনা হলো। পথিমধ্যে রিক্সায় আবার মফিজ এর কপালে হাত দিয়ে বললো, তুমি যেটা করেছো সেটা শুধু অতি আপনজনের জন্যেই মানুষ করে থাকে। যাক সে কথা, আমার বান্ধবী মিতুকে পছন্দ হয়েছে? কেনো, কি শর্ত হয়েছিলো? ও আচ্ছা ঠিক আছে, কিন্তু তুমিতো চিঠি দাওনি। কাল দিবো, তবে দিলে কি হবে, চিঠিতো তুই বিয়ের আগের দিন খুলতে পারবি! তাইতো, আমার মনে ছিলো না, ঠিক আছে তার পরও দাও, বিয়ের আগের দিনই খুলবো। এদিকে আরিফের সাথে তিন্নি সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেললো। কারণ, এতো খারাপ ও নোংড়া ছেলের সাথে প্রেমতো দূরের কথা কথা বলাও ঠিক হবে না। তাই হলো কিন্তু তিন্নি এটা আর মফিজকে বললো না, সে ভেবে নিয়েছে এটা তার লজ্জা, মফিজ শুনলে কি-ই-না ভাববে! পরের দিন ঠিকই মফিজ একটা খামে করে ভালো করে আটকানো একটা চিঠি তিন্নির নিকট পৌঁছে দিলো।

 

শর্তানুযায়ী তিন্নি তার ওয়্যারড্রপের ভেতরে কাপড়ের নিচে চিঠিটা রেখে দিলো। পরে এ চিঠির কথা তিন্নির আর মনে ছিলো না। তিন্নিও কিন্তু মফিজকে ভালবাসতো অথচ তাদের ভালোবাসা বুঝানোর মতো ছিলো না। ছোট কালের সম্পর্ক ভালবাসার চেয়েও বেশি কিন্তু প্রাপ্তি কিছুই নেই! এ দিক দিয়ে তিন্নির বাবা তিন্নির বিয়ে ঠিক করে ফেললো, নিজের বন্ধুর ছেলে। বাবার ওপর কথা বলার কেও নেই, তিন্নির ছেলে পছন্দ নয়, তাই ওর কান্না আর থামছে না। এক পর্যায়ে মফিজও মনের বিরুদ্ধে, সবার দিকে তাকিয়ে তিন্নিকে বুঝালো কিন্তু কিছুতেই তিন্নির কান্না থামছিলো না, মফিজকে জড়িয়ে ধরেও অনেক কান্নাকাটি করলো।

 

কাল তিন্নির বিয়ে, গায়ে হলুদ সহ সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ। যেহেতু কাল বিয়ে সেহেতু মফিজ জানে যে আজ তিন্নি চিঠিটা খুলবে কিন্তু তিন্নির আর ওই চিঠির কথা মনে থাকলো না, সে ভুলে গেলো। মফিজ ভেবেছে তিন্নি চিঠি পড়ে হয়তো রাগ করেছে তাই কিছু বলছে না। ফলে, মফিজও আর কিছু বললো না। দেখতে দেখতে বিয়েটাও হয়ে গেলো, যদিও তিন্নি কবুল বলেনি! তিন্নিকে নেয়ার জন্য শ্বশুর বাড়ির গাড়ি ফুলে ফুলে সাঁজানো ছিলো। সবাই গাড়িতে উঠলো, তিন্নিও বরের সাথে কাঁদতে কাঁদতে গাড়িতে উঠতে যাবে ঠিক এমন সময় মফিজের চিঠির কথা তিন্নির মনে পড়লো। দৌঁড়ে ফিরে এসে ঘরে ঢুকে ওয়্যারড্রপের ড্রয়ার খুলে চিঠিটা নিলো এবং তাৎক্ষনিক খামটা খুলে চিঠিটা পড়তে লাগলো।

 

চিঠিতে লেখা ছিলো, “আমি ভালো পড়া লেখা শিখিনি, কিন্তু ভালোবাসতে শিখেছি, তাই তোকে যে প্রাণের চেয়ে বেশি ভালোবাসি, তা কখনো বলতে পারিনি। তোর বান্ধবীকে আমি ভালোবাসবো তবে শর্ত এখানেও আছে, যদি ওর চুল, চোঁখ, নাক, কান, ঠোঁট ও মায়া তোর মতো হয়, আমার ছোট বেলার খেলার সাথীর কথা না-ই বা বল্লাম। এবার বল তোর বান্ধবী কি দেখতে হুবুহু তোর মতো? কাল তোর বিয়ে, দোয়া করি তোর বর যেনো তোকে আমার মতো ভালোবাসে। আর আমার প্রেম করা কখনো হবে না কারণ, যাকে আমি ভালোবাসি সে আমাকে পছন্দ করে না! ইতি, তোর চোখের বখাটে ছেলে মফিজ”। চিঠি পড়ে তিন্নি অঝোরে কাঁদতে লাগলো। কিন্তু কেও-ই তিন্নির কান্নার অর্থ বুঝতে পারলো না। সবাই ভাবলো, মেয়েদের বিয়ে হলে শ্বশুড় বাঁড়ি যাওয়ার সময় এমন কান্নাকাটি করেই থাকে, তাই সবাই এটা ভেবে তিন্নিকে বুঝাতে লাগলো। এক পর্যায়ে তিন্নি চিৎকার করে ডাকতে লাগলো, বাবা, বাবা? বাবা দোঁড়ে এলো। তিন্নি উচ্চস্বরে বললো মফিজ কোথায়, মফিজকে ডাকো। মফিজ অনেক দূরে দাঁড়িয়ে কান্না করছিলো। তিন্নির বাবা মফিজকে ডেকে নিয়ে আসলো। বাড়ির লোকজন, বর পক্ষ সবাই এক হয়ে গোল হয়ে দাঁড়ালো। তিন্নি চিৎকার করে বলতে লাগলো, “বিয়ে বললেই হলো না, বিয়ে কোন ছেলে-খেলা না! মানুষের মনের বিয়ে আসল বিয়ে, অন্য কিছু বিয়ে না! আমার অমতে এ বিয়ে, এ বিয়ে আমি মানি না”।

 

লেখক: মোঃ আদিল মাহমুদ।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4005606আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 0এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET