৩১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৩ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

বিচারপতিদের অপসারণ আইন অবৈধ, হাইকোর্টের রায়

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : মে ০৬ ২০১৬, ০০:২৪ | 641 বার পঠিত

উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদকে ফিরিয়ে দেয়া সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। ফলে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা আর জাতীয় সংসদের হাতে থাকল না।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সংখ্যগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এ ঐতিহাসিক রায় দেন।

এর আগে হাইকোর্ট দীর্ঘ ১৭ কার্যদিবস ধরে রাষ্ট্র ও রিটকারী পক্ষ এবং অ্যামিকাসকিউরিগণের শুনানি গ্রহণ করে গত ১০ মার্চ রায়ের জন্য আজ বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করে।

১৯৭২ সালে প্রণীত মূল সংবিধানে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের কাছে ছিল। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে ২৪ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এ ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে অর্পণ করা হয়। পরে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা দেয়া হয় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে।

২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা পুনরায় সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়। বিলটি পাসের পর গত ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশ পায়। দেশের শীর্ষ আইনজীবীরা এবং সংসদের বাইরের বিরোধী দলগুলো এ সংশোধনী প্রত্যাখ্যান করে।

পরে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয় আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন। আবেদনে বলা হয়, এই সংশোধনী বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করবে। কারণ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অন্যতম অংশ। কিন্তু এই সংশোধনী সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী।

আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের ডিভিশন বেঞ্চ ওই সংশোধনী কেন অবৈধ, বাতিল ও সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না এই মর্মে রুল জারি করে। পরে এই রুল শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দেন। হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী রেজা-উল হককে এই বিশেষ বেঞ্চে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

গত ২১ মে রুলের উপর শুনানি শুরু হয়। ওইদিন দেশের শীর্ষ ৫ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, এম আমীর-উল ইসলাম, মাহমুদুল ইসলাম, রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও আজমালুল হোসেন কিউসিকে অ্যামিকাসকিউরি হিসেবে নিয়োগ দেয় আদালত। এরপর অ্যামিকাসকিউরিগণ তাদের অভিমত আদালতে তুলে ধরেন।

রিটকারীদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ জানান, সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসেনসহ বেশিরভাগ আইনজীবী মত দেন, এই সংশোধনীর ফলে সংবিধানের মৌল কাঠামোতে পরিবর্তন হবে।

এ সংক্রান্ত মামলার রায়ের মাত্র ১০ দিন আগেই গত ২৫ এপ্রিল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বিচারক (তদন্ত) আইনের খসড়াটি মন্ত্রিসভা নীতিগত অনুমোদন দেয়। সংবিধানের ৯৬ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের কারণে সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সিদ্ধান্তক্রমে রাষ্ট্রপতির আদেশ দ্বারা অপসারণ করা যাবে।

তবে ৯৬ (৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অসদাচরণ বা অসামর্থ্য সম্পর্কে তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। মূলত সংবিধানের এই বিধান কার্যকর করতেই বিচারকদের অসদাচরণ বা অসমার্থ্যের বিষয়টি তদন্তের জন্য ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বিচারক (তদন্ত) আইন, ২০১৬’ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4167351আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 15এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET