১২ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে জিলহজ, ১৪৪১ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • দেশজুড়ে
  • বাগমারায় জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করে অবৈধ ভাবে যত্রতত্র পুকুর খনন অব্যাহত

বাগমারায় জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করে অবৈধ ভাবে যত্রতত্র পুকুর খনন অব্যাহত

নাজিম হাসান, রাজশাহী করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : জুলাই ০৮ ২০২০, ২০:৩২ | 727 বার পঠিত

রাজশাহীর বাগমারায় অবৈধ ভাবে ফসলি জমিতে যত্রতত্র পুকুর খনন অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালীরা মহল মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করে পুকুর খনন অব্যাহত রাখলেও স্থানীয় প্রশাসন রহস্যজনক নিরব ভুমিকা পালন করছে বলে স্থানীরা দাবি করেছেন। এতে কৃষি জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করে পুকুর বা দিঘি খনন করায় আবাদি জমির পরিমান কমে যাচ্ছে এবং চাষাবাদ হুমকীর মুখে পড়ছে। পুকুর খননে স্থানীয় প্রশাসনের নিস্কিতায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তবে বর্ষকালে পুকুর খননের ব্যাপারে এখন কোন অভিযোগ নেই বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দাবি করেছেন। জানা গেছে, উপজেলায় বিগত দিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল বিল, খাল, ও দাঁড়িতে ফ্রি স্টাইলে যত্রতত্র পুকুর খনন করে মাছ চাষের নামে জমির প্রকৃতি পরিবর্তন অব্যাহত রেখেছেন। এতে বর্ষা মওসুমে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে পড়ছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় এলাকার শত শত বিঘা ফসলি জমি পড়ে থাকছে। মন্ত্রণালয় নির্দেশ রয়েছে জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করা যাবে না। আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে ফসলি জমিতে চলছে হরদম পুকুর খনন চলছে। গত এক মাসে উপজেলার শুভডাঙ্গা, ঝিকরা, গোবিন্দপাড়া, যোগীপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালীরা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করে পুকুর খনন অব্যাহত রাখলেও স্থানীয় প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা কতিপয় ব্যক্তিদের যোগ সাজসে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পুকুর খনন কাজ চলছে বলে স্থানীয় কৃষকরা দাবি করেছেন। ঝিকার ইউনিয়নের আব্দুর রশিদ, আবদুল মতিনসহ কয়েকজন কৃষক জানান, গত ৪/৫ দিন ধরে ভেকু মেশিন দিয়ে কুদাপাড়া গ্রামের সমির উদ্দিন ঝিকরার পাইটা বিলায় ১০০ বিঘা আবাদি জমিতে পুকুর খনন করছে। একই ভাবে একই বিলে মিজান নামে এক পুকুর ব্যবসায়ী পুকুর খনন করছে। এর কয়েকদিন আগে প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মরিয়ম বিবি মচমইল বিলে অবৈধ ভাবে ফসলি জমিতে পুকুর করে। এছাড়া যোগীপাড়া ইউনিয়নের বীরকুৎসা এলাকার খাজাদ্দীন, গপিনাথপুর গ্রামের দুলাল ও শান্তিপুর গ্রামের খলিলুর রহমান ওপেন সিকরেট ভাবে পুকুর খনন অব্যাহত রেখেছে। ব্যবসার নামে ফসলি জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করে পুকুর খনন করলেও কেউ এগিয়ে আসছে না বলে কৃষকরা দাবি করেছেন। কৃষকদের অভিযোগ প্রভাবশালীদের হাত থেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ও ফসলি জমিতে নিয়ম বর্হিভূত অপরিকল্পিত পুকুর খনন বন্ধের জন্য দফায় দফায় ভুক্তভোগী একাধিকবার স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা গ্রহণের লিখিত আবেদন কোন সুফল মিলে না বলে তারা দাবি করেন। পুকুর খননকারীরা এলাকার প্রভাবশালী হবার কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হচ্ছে না বলে তারা দাবি করেন। উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের সগুনা গ্রামের নুর মোহম্মাদ জানান, নন্দনপুর, বালানগর, সগুনার মধ্য দিয়ে গোপালপুর হয়ে একটি দাঁড়া রানী নদীতে পড়েছে। বর্তমানে বিল খালে অপরিকল্পিত নতুন নতুন পুকুর খননের ধারাবাহিকতায় এলাকার কিছু প্রভাবশালী সুবিধা ভোগীরা ফসলের এই নীচু জমিতে কিছু পরিমান খুড়ে খননকৃত পুকুরের চারিধারে মাঠি দিয়ে বাঁধ দিয়ে গভীর নলকূপ নিয়ে পানি জমা করে দেদারছে মাছ চাষ করছে। লাভ পেয়ে মহল বিশেষে সর্বত্র এলাকায় এই ব্যবসা ছড়িয়ে ফেলছে। এতে অল্প পরিমান লিজের টাকায় কৃষকরা লাভ হলেও বেশী ভাগ জমির মালিক কৃষি কাজে বঞ্চিত হচ্ছে পানিবদ্ধতায়। কৃষকরা জানান, গত কয়েকবার আষাঢ় মাস অধিক বৃষ্টিতে নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর ভরে যায়। টানা বর্ষনে নদ-নদী, খাল-বিল পুকুর পরিপূর্ণ হয়ে পানি নামার অব্যবস্থাপনায় বৃষ্টিতে নিম্ন অঞ্চলের পাট, পানবরজ, মরিজ,শাক-শবজির ক্ষেত তলিয়ে কৃষককের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এতে পানি নিস্কাসনের ব্যবস্থার জন্য প্রশাসনে একাধিকবার জানিয়েও কোন কাজ হয়নি।

এদিকে কৃষি জমিতে পুকুর বা দিঘি খনন না করার আবেদন জানিয়ে উচ্চ আদালতে জনস্বার্থে জালাল উদ্দিন নামে এক সুপ্রীম কোটের আইনজীবি ৪৩৫৩/১৭ রিট পিটিশন করে। পরে আদালত এসব পুকুর খনন বন্ধের নিয়মিত ভ্রাম্যমান পরিচালনার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। উচ্চ আদালতের রায় উপেক্ষা করে পুকুর বা দিঘি খনন বন্ধের ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা না নেওয়ায় অবৈধ পুকুর খনন অব্যাহত থাকছে। স্থানীয় প্রশাসনের নিস্কিয়তা আদালত অবমাননার সামিল বলে আইনজীবি জালাল উদ্দিন (উজ্জ্বল) দাবি করেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহম্মেদ বলেন, এই সময়ে কেন এলাকায় পুকুর খনন হয়নি। কোন ভাবে ফসলি জমিতে পুকুর খনন করা যাবে না বলে জানিয়েছেন। অবৈধ ভাবে পুকুর খনন করার কোন সুযোগ নেই। এছাড়া কোন এলাকায় পুকুর খনন হলে তার দপ্তরে কৃষকদের অভিযোগ করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। অবৈধ পুকুর খননের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4011017আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 4এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET