১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৫ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

বাংলাদেশের রাজনীতি এবং গুম

হুমায়ন আরাফাত, আশুলিয়া করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : জুলাই ১৫ ২০১৭, ০৮:৪৯ | 735 বার পঠিত

ইমরান খান রাজ (সাংবাদিক, লেখক)

বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী গুম একপ্রকার আতঙ্কের নাম। যে আতঙ্কে পুড়ো বাংলাদেশই আতঙ্কিত হয়ে আছে। এই গুম আতঙ্কের পিছনের কারন এখন পর্যন্ত অজানা। যার কোনরূপ সুরাহা হয়নি। দেশের বর্তমান অবস্থা এমন হয়েছে যে, দেখা যায় প্রায় দুইমাস পর পরই দেশের কোন না কোন স্থানে গুমের ঘটনা ঘটছে। যার শিকার হচ্ছে হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিবর্গ, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, কবি-সাহিত্যিক, লেখকগনরা। অধিকাংশ গুমের ঘটনার শেষ পরিণতি হচ্ছে হত্যা। গুমের পর ঐ ব্যক্তিকে হত্যা করা অথবা নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করাই গুমের মূল লক্ষ্য। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে গুমের পর গুম হওয়া ঐ ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে সে ছাড়া পাওয়ার পর কোনরূপ মুখ খোলে না। যার কারন আজও অজানা। কেন হয় গুম? গুমের নেপথ্যে কারা ? গুমের উদ্দেশ্য কি রাজনীতি নাকি ব্যক্তিগত সার্থ? এই প্রশ্নের উত্তর শুধুমাত্র গুম হওয়া ব্যক্তিরাই জানতে পারে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয় যে আজ পর্যন্ত গুম হওয়ার কোন ঘটনারই পেছনের ঘটনা বা গুমের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। কেন তারা মুখ খুলেনা? এর ভিতরে কোন রহস্য লুকিয়ে আছে তা আমার জানা নেই। আর সেটা না জানারই কথা। কারন এত বড় ঘটনার রহস্য একজন সাধারণ জনগণ হিসেবে আমার পক্ষে জানা সম্ভব নয়।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ২০১৬ সালেই অন্তত ৯০ ব্যক্তি গুমের শিকার হন। কিন্তু এইচআরডব্লিউ এর তথ্যানুযায়ী, আটক হওয়া ২১ জনকে হত্যা করা হয়। এবং ৯ জনের অবস্থা এখনও জানা যায়নি। গুম হওয়া ৯০ জনের মধ্যে জামায়াত নেতা গোলাম আযমের ছেলে আমান আযমী ও মীর কাসেম আলীর ছেলে মীর আহমেদ বিন কাসেম এবং বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী অন্তর্ভুক্ত। বর্তমান সময়ে গুমের সাথে রাজনীতির একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। যা সবার চোখেই কমবেশি লক্ষ্য করা যায়। দেশের কোথাও গুমের ঘটনা ঘটলেই দেশের রাজনীতিতেও নতুন মোড় সংযোজিত হয়। ক্ষমতাশীল ও বিরোধী দলের মধ্যে শুরু হয় তর্ক বিতর্কের ঢেউ। গুম-খুনের ঘটনা নিয়ে শুরু হয় তাদের রাজনীতি। যখন সরকারপক্ষ গুমের বিপক্ষে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে ব্যস্ত থাকে ঠিক তখনি বিরোধীপক্ষ সরকারের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে শুরু করে অপপ্রচার। শুরু হয় হিংসা ও বিদ্বেষের রাজনীতি। এতে একপক্ষের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় আর অপরপক্ষ আনন্দ মিছিল শেষে সভার আয়োজন করে।

সরকার ও বিরোধী পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি বিপরীতমুখী রাজনীতির প্রভাব পড়ে দেশের সাধারণ জনগনের ওপর। বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক দাঙ্গার নামে প্রান হারায় কিছু নিষ্পাপ সাধারণ প্রান। এই প্রান হারানোর দায়ভার কার ওপর দিবে সাধারণ জনগণ? সরকারের ওপর নাকি বিরোধীপক্ষের দিকে? কারো কাছে এর উত্তর আছে কি?

আমরা সাধারণ জনগণ চাই শান্তি। আমরা চাই দেশের উন্নয়ন। হিংসা আর বিদ্বেষের রাজনীতি কখনোই দেশের উন্নয়ন ঘটাতে পারে না। সুতরাং আসুন আমরা দেশকে ভালোবেসে দেশের কল্যাণে কাজ করি। অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই। গুম ও খুনের রাজনীতি বন্ধ করে বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সাহায্য করি।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4215186আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 0এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET