৮ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জিলহজ, ১৪৪১ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

বরিশালের লকডাউনকৃত পরিবার : পাশে নেই প্রশাসন

খোকন হাওলাদার, গৌরনদী,বরিশাল করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : জুন ১০ ২০২০, ২১:২১ | 649 বার পঠিত



বরিশাল জেলায় করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ৬৭৪ জন৷গত ১২ এপ্রিল জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর থেকে এ পর্যন্ত যতজন করোনা রোগী পাওয়া গেছে সকলের অবস্থান চিহ্নিত করে প্রতিটি রোগীর পরিবারকে লকডাউন (অবরুদ্ধ) করার পদক্ষেপ নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

তবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া এসব পরিবারে লকডাউনের সময়টাতে বিভিন্ন দুর্দশার চিত্র ফুটে উঠেছে। বেসরকারি উদ্যোগে কয়েকজন এসব পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও প্রশাসন তাদের অসহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সেসব অভিযোগ অস্বীকার করে সরকারি সহায়তার ফর্দ তুলে ধরেছেন জেলার প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ।

বরিশাল নগরীর ৩ নং ওয়ার্ডের কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা দুলাল মল্লিক। তিনি পেশায় রিকশা চালক। গত বৃহস্পতিবার করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন। এরপরই পুলিশ এসে বাড়ি লকডাউন করে যান এবং দুলালকে শেরে বাংলা (শেবাচিম) হাসপাতালে প্রেরণ করেন। দুলাল সেখানে দুদিন চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে কোয়ারেন্টিন (সঙ্গরোধ) থাকার শর্তে ফিরে আসেন। এরপর থেকেই দুই কক্ষের বাড়িতে পরিবারের অপর দুই সদস্যের সঙ্গে থাকছেন তিনি।

দুলাল মল্লিক জানান, করোনা আক্রান্ত হবার পর বাড়ির কেউ বাইরে যেতে পারছে না। নিম্নবিত্ত হলেও এই সময়ে সরকারি কোনো সহায়তা পান নি তারা৷ এমনকি করোনার চিকিৎসায় যে ওষুধ তাকে সেবন করতে হচ্ছে সেগুলোও জমানো পয়সা খরচ করেই কিনতে হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখা তাদের বার কয়েক খোঁজ খবর নিয়েছে বলে জানান তিনি।

বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমীন গাজী পরিবারের অপর আটজন সদস্য নিয়ে গত এক সপ্তাহ যাবত লকডাউনে আছেন। তাঁর বাবা গত ১ জুন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত পরিবারের সবাইকে নিয়ে নিদারুণ দুর্দশায় আছেন তিনি। কারণ হিসেবে জানালেন প্রশাসনের কোন পর্যায় থেকে তাদের কোন খোঁজ নেওয়া হয় নি। হঠাৎ বাবা মারা যাওয়াতে এবং লকডাউনে আটকা পড়ায় ঘরে যে তেমন বাজার নেই সেটা খেয়াল করা হয় নি। এমনকি ঘরের শিশু সদস্যটিকেও মাঝেমধ্যে থাকতে হচ্ছে আধপেটা। তবে তাদের দুর্দশার কথা শুনে জেলা যুবদলের সভাপতি ব্যক্তিগত উদ্যোগে একদিন কিছু বাজার দিয়ে গেছেন বলে জানান রুহুল আমীন।

বরিশাল নগরীতে লকডাউনকৃত সকল পরিবারের খাদ্য সহায়তার দায়িত্ব নিয়েছে বাসদ জেলা শাখা। দলটির সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তী জানান, যেসকল পরিবারগুলোকে লকডাউন করা হয় তাদের বাসায় বাইরে থেকে কেউ ঢুকতে পারে না এবং ভিতর থেকেও কেউ বাইরে যেতে পারে না। এমন পরিস্থিতি প্রায় দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত চলে। স্বাভাবিকভাবে এ কারণে তাদের খাদ্য সংকট দেখা দেয়। এই সংকট দুর্দশায় রূপ নেয় যখন পরিবারটি স্বল্প বা নিম্ন আয়ের হয়৷ রাজনৈতিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই লকডাউনে পড়া এসব পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন তারা।

তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই পরিবারগুলোকে শুধু লকডাউন করেই নিজেদের দায়িত্ব শেষ করছে প্রশাসন। লকডাউনের শিকার পরিবারগুলো এই সময়ে যে ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয় সেসবের সমাধানে এগিয়ে আসে না তারা। অন্যদিকে এই লকডাউনে পড়া পরিবারগুলোর পাশে আমরা দাঁড়াতে গেলে তারা অসহযোগিতা করছেন। জেলা প্রশাসনের কাছে লকডাউন হওয়া পরিবারগুলোর সর্বশেষ তালিকা চেয়েও পাননি বলে জানান এই নেত্রী।

বরিশাল জেলা যুবদলের সভাপতি পারভেজ আকন বিপ্লব ব্যক্তিগত উদ্যোগে লকডাউনে পড়ে যে সকল পরিবারগুলোর উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে তাদের পাশে দাঁড়ানো শুরু করেছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লকডাউন হওয়া পরিবারগুলোর তালিকা প্রদান না করার মনীষা চক্রবর্তীর অভিযোগের সঙ্গে তিনি একমত প্রকাশ করেন।

তবে তিনি জানান, লকডাউনকৃত পরিবারগুলোকে সহায়তা দেবার সময় একটি বিষয় সবচেয়ে বেশি সামনে এসেছে আর তা হলো, আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটগত কারণেই দেখা যাচ্ছে বেশিরভাগ করোনা আক্রান্ত রোগী পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছ থেকে দূরে নেই। কারণ তাদের বাসায় দীর্ঘদিন একজন সদস্যের জন্য আলাদা একটি কক্ষের বন্দোবস্ত করা সম্ভব নয়। সবাই মিলে একসঙ্গে আটকে থাকার মতো অবস্থায় প্রশাসন তাদের রেখে যায়। এতে করে স্বাভাবিক ভাবেই আক্রান্ত রোগী দ্বারা পরিবারের অন্য সদস্যদের সংক্রমিত হবার ঝুঁকি থাকে।

তিনি আরো জানান, লকডাউনকৃত যেসকল নিম্নবিত্ত পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছে সবাই জানিয়েছে প্রশাসন তাদের কোনো রকম খাদ্য সহায়তা দেয় নি৷ এ কারণে লুকিয়ে তাদের বাইরে বাজার করতে আসতে হয়। প্রশাসনের উচিত লকডাউনকৃত বাড়িগুলোতে জরুরী খাদ্যের যোগান দেয়া এবং করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টিনে না রেখে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার জন্য বড় কোন শপিং মল, অডিটোরিয়াম বা বিলাসবহুল লঞ্চ জেলা প্রশাসন গ্রহণ করতে পারে বলেও পরামর্শ দেন বরিশাল জেলা যুবদলের এই নেতা।

তবে লকডাউনকৃত পরিবারগুলোকে কোনরকম সহায়তা করা হচ্ছে না এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান। তিনি জানান, অনেক লকডাউনকৃত পরিবার সমাজের বিত্তশালী। তাদের খাদ্য সহায়তার দরকার পড়ছে না। তবে লকডাউনকৃত নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর প্রয়োজনমতো খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। আর যেসকল করোনা রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের দরকারী সবকিছুর ব্যবস্থাই সরকারের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4005592আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 6এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET