২০শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • রাজনীতি
  • প্রেস কাউন্সিল আইনে সংবাদপত্র বন্ধের নয়া কালাকানুন প্রতিহত করা হবে

প্রেস কাউন্সিল আইনে সংবাদপত্র বন্ধের নয়া কালাকানুন প্রতিহত করা হবে

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : মে ০২ ২০১৬, ০৪:১৯ | 641 বার পঠিত

নয়া আলো-20160501_125520_resized

প্রেস কাউন্সিল আইন সংশোধনের নামে সংবাদপত্র বন্ধের নতুন কালাকানুন যে কোন মূল্যে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, বিচারপতি খায়রুল হক তত্ত¡াবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করে দেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করেছেন। এখন গণমাধ্যমের ওপর তার কালোহাত বিস্তার করতে চাইছেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, সংবাদপত্রের কোন ভুল বা বিচ্যুতির জন্য প্রেস কাউন্সিলের প্রচলিত আইনই যথেষ্ট। তার পরও কোন যুক্তিসংগত সংশোধন করতে হলে তা সংবাদপত্র মালিক, সাংবাদিক ও সংবাদপত্রসেবীদের মতামতের ভিত্তিতে করতে হবে। একতরফাভাবে কোন কালাকানুন চাপানোর চেষ্টা হলে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্টদের বহন করতে হবে বলে সাংবাদিক নেতারা হুঁশিয়ার করে দেন।
গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে অবস্থিত ইউনিয়ন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে যৌথ উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
সভায় বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ভয়াবহব দুর্দিন চলছে উল্লেখ করে সাংবাদিক নেতারা বলেন, এক সঙ্গে এত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও কয়েক হাজার সাংবাদিক বেকার থাকার ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে আর ঘটেনি। দিন দিন বেকার সাংবাদিকের সংখ্যা বাড়ছে। নিয়মিত বেতন-ভাতা দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। অনেক বড় প্রতিষ্ঠানও আর্থিক সংকটে পড়ে ওয়েজবোর্ডভূক্ত সংবাদকর্মীদের নির্ধারিত বেতনে ঠেলে দিচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে গোটা গণমাধ্যমে গভীর অমানিষা নেমে আসবে।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদারের সভাপতিত্বে এবং বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহŸায়ক রুহুল আমিন গাজী, বিএফইউজের মহাসচিব এম. আবদুল্লাহ, সহ সভাপতি মুনশী আবদুল মান্নান, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ডিইউজে’র সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, ডিইউজে’র সহসভাপতি সৈয়দ আলী আসফার, বিএফইউজে’র নির্বাহী সদস্য কবি কামার ফরিদ ও আসাদুজ্জমান আসাদ, সাংবাদিক নেতা খন্দকার গোলাম আজাদ, হুমায়ুন কবীর, সরদার সাহাদাত হোসেন, শাখাওয়াত ইবনে মইন চৌধুরী, মো. বোরহান উদ্দিন, আবদুল মুকিম চৌধুরী, জেসমিন জুঁই, খন্দকার মাসুদ হোসেন প্রমুখ। এছাড়া বিএফ্ইউজের সাবেক সহসভাপতি নূরুল আমিন রোকন, ডিইউজের সহসভাপতি খুরশেদ আলম, যুগ্ম সম্পাদক শাহীন হাসনাত, বিএফইউজের প্রচার সম্পাদক জাকির হোসেন, এলআরএফের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রুহুল আমিন গাজী বলেন, প্রেস কাউন্সিল আইন সংশোধনের নামে সংবাদপত্র বন্ধ করার নতুন কালো আইন প্রণয়নের অপচেষ্টা চলছে। আর এ অপকর্মটি করছেন বিতর্কিত সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক। তিনি দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করে এখন গণমাধ্যমের দিকে শ্যেন দৃষ্টি দিয়েছেন। সংবাদপত্র বন্ধের কোন নতুন আইন করা হলে তা দেশের সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে। এ ব্যাপারে কোন ছাড় দেয়া হবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শ্রমিকদের অবস্থা এখন শিকাগোর হে মার্কেটের শ্রমিকদের চেয়েও শোচনীয়। মে দিবসের চেতনা আজ হুমকির মুখে। শতকরা ৮ভাগ সরকারি কর্মচারির বেতন একশ’ ভাগের বেশী বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। অথচ বাকী ৯২ ভাগ শ্রমজীবির আয় বাড়ানো হচ্ছে না। সংবাদকর্মীরা অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বঞ্চিত ও নির্যাতিত।
বিএফইউজে মহাসচিব এম আবদুল্লাহ বলেন, এবার এমন এক সময়ে আমাদেরকে মে দিবস পালন করতে হচ্ছে যখন নতুন করে সংবাদপত্র বন্ধের কালাকানুন চাপিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চলছে। বাংলাদেশের ইতিহাসের ধিকৃত ব্যক্তি বিচারপতি খায়রুল হক তত্ত¡াবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করে দেশের গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়েছেন। নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করেছেন। এখন তাঁর কালো থাবা বিস্তার করতে চাচ্ছেন সংবাদপত্র শিল্পের ওপর। প্রেস কাউন্সিল আইনে অযাচিতভাবে এক মাসের জন্য সংবাদপত্র বন্ধের বিধান প্রস্তাব করেছেন। আমরা তার এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি। অবিলম্বে এ অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে। তা না হলে সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে। উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় তাদেরকে বহন করতে হবে। সম্প্রচার আইনের গণমাধ্যমবিরোধী বিধানও বাতিল করতে হবে।
গত ৭ বছওে ৫টি শীর্ষস্থানীয়সহ সারা দেশে কয়েকশ’ সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার কর্মী বেকারত্বে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন। এসময় তিনি অবিলম্বে শওকত মাহমুদ, মাহমুদুর রহমান ও শফিক রেহমানের মুক্তি দাবী করেন। এছাড়া বন্ধ মিডিয়া খুলে দেয়াসহ সকল সাংবাদিক হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মুনশী আবদুল মান্নান বলেন, আমাদের দেশের মালিকরা শ্রমিকদের শাসন ও শোষনের মাধ্যমে নিজেরা বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক বনছে। বৈষম্য বাড়ছে দিনে দিনে। মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে কোন প্রতিষ্ঠানে কাজের সুষ্ঠ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, শ্রমিকের অধিকারের প্রশ্নে মহানবী (স.) যে বাণী দিয়ে গেছেন তা সর্বকালের সর্বযুগের সেরা। তিনি ঘাম শুকানোর আগে শ্রমিকের মজুরী পরিশোধের তাগিদ দিয়েছেন। মেহনতি মানুষের অধিকারের প্রশ্নে জাতীয় কবি নজরুলের সাহসী উচ্চরণ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা যায়।
সংবাদপত্র বন্ধের নয়া কালাকানুনের যে তোড়জোড় চলছে তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করে আবদুল হাই শিকদার বলেন, বিচারপতি খায়রুল হক যে পাপ করেছেন তার বিচার এই জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে করা হবে ইনশাল্লাহ। গোটা গণমাধ্যম জুড়ে এমনিতে ত্রাসের সৃষ্টি করা হয়েছে। তার উপর নতুন খড়গ সাংবাদিক সমাজ প্রতিহত করবে।
এম এ আজিজ বলেন, ১৮৮৬ সালে শিকাগোর হে মার্কেটের সামনে শ্রমিক হত্যার ঘটনায় বিশ্বব্যাপী যে মে দিবসের সূত্রপাত তার চেতনা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। অধিকার সম্পর্কে সচেতন না হওয়ায় বাংলাদেশে উচ্চবিত্তদের দ্বারা শ্রমিক সমাজ শোষিত হচ্ছে। তিনি, প্রেস কাউন্সিল আইনে সংবাদপত্র বন্ধের বিধান করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এ বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
জাহাঙ্গীল আলম প্রধান বলেন, গমাধ্যমের মালিকরা দিনে দিনে ফুলেফেঁপে পুষ্ট হলেও কর্মীরা বঞ্চিত। বহু প্রতিষ্ঠানের মালিক সংবাদকর্মীদের শোষণ করে বিত্তবৈভব গড়ছেন। মাসের পর মাস বেতন দেন না। তিনি বলেন, নবম ওয়েজবোর্ড আদায় ও অষ্টম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার আদায় সম্ভব।
সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, দু’একটি ছাড়া প্রতিটি সংবাদপত্রে এখন অস্থিরতা বিরাজ করছে। বহু মাসের বেতন বকেয়া । অন্যদিকে সাংবাদিকরা আজ সত্য উচ্চারণ করলেই মামলা-হামলা-গুম-খুনের শিকার হচ্ছে। এভাবে দেশ চলতে পারে না।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4148782আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 8এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET