২১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩রা রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • সকল সংবাদ
  • পুরুষশূন্য গ্রামে পুলিশি তাণ্ডব : ‘ঘটনা সবই জানেন, যা পারেন লেখেন’

পুরুষশূন্য গ্রামে পুলিশি তাণ্ডব : ‘ঘটনা সবই জানেন, যা পারেন লেখেন’

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : মে ৩১ ২০১৬, ০৩:৫২ | 634 বার পঠিত

kurigram_14598_1464619439নয়া আলো- কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় খামার আন্ধারীঝাড় গ্রাম এখন পুরুষশূন্য। পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় হয়রানির ভয়ে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশ বাড়ি বাড়ি তল্লাশির নামে আসবাবপত্রসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ভাংচুর ও তছনছ করেছে।
রোববার দিবাগত রাতে পুলিশ নয়টি মোটরসাইকেল ও পিকআপ ভ্যানে এসে খামার আন্ধারীঝাড় গ্রামে সাঁড়াশি অভিযান চালায়। এ সময় ওয়াজেদ আলীর ছেলে আরিফকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
অন্য আসামিদের না পেয়ে পুলিশ বাড়ি বাড়ি তল্লাশির নামে আসবাবপত্রসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ভাংচুর ও তছনছ করেছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামি না পেয়ে পুলিশ কোবাদ আলীর ছেলে লিটনের বাড়িতে ঘরের দরজা ও রান্নাঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করে।
গ্রামের রশিদুলের ছেলে মাইনুল, আমজাদের ছেলে নাসির ও আজমলের বাড়িতেও আসবাবপত্র ভাংচুর করা হয়।
এতে ওই এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আতংকে বাড়ির নারী ও শিশুরা ছোটাছুটি শুরু করে।
ভুরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়া লতিফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনা সবই জানেন আর কী বলার আছে। যা পারেন লেখেন।’
এদিকে আগের ঘটনায় পুলিশই দায়ী বলে দাবি করছে এলাকাবাসী। তারা জানান, রাতে ঘরের দরজা ভেঙে এক নারীকে লাঞ্ছিত করায় তার স্বামী ও ছেলে পুলিশের ওপর চড়াও হয়। অথচ মামলায় ঘটনা ভিন্নরকমভাবে সাজানো হয়েছে। সাক্ষী করা হয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের পরাজিত প্রার্থীকে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার আন্ধারীঝাড়ের খামার আন্ধারীঝাড়ে সাবেক ইউপি সদস্য আয়নাল হক মন্ডলের ছেলে আজমল হোসেনের বাড়িতে হানা দেয় ভুরুঙ্গামারী থানার এসআই জামিলসহ সাদা পোশাকের তিন পুলিশ সদস্য।
তারা দরজায় জোরে ধাক্কা দিলে আজমলের স্ত্রী তাহমিনা বেগম দরজা খুলে পরিচয় চাইলে ‘আমরা থানার লোক’ বলে ঘরে ঢুকে এবং এখানে লোক আছে বলে তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়।
এতে আজমল উত্তেজিত হলে পুলিশ তার শার্টের কলার ধরে পেটে বন্ধুক তাক করে বলে, ‘এখানে অন্য লোক আছে।’
এ সময় তাহমিনা ডাকাত বলে চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা জড়ো হলে পুলিশ সদস্যরা টিনের বেড়া ভেঙে দৌড়ে বাইরে চলে যায়। পরে বাড়ির বাইরে রাখা পুলিশের দুটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা।
এর কিছুক্ষণ পর এএসআই তপনসহ তিন পুলিশ সদস্য পিকআপ ভ্যানে করে ওই বাড়িতে গেলে জনতার রোষানলে পড়েন। তারা পুলিশের পিকআপ ভ্যানের গ্লাস ভাংচুর করে। এতে গাড়িচালক কনস্টেবল মোহাদ্দেস আলী আহত হয়। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকে পুলিশ।
এক পর্যায়ে আন্ধারীঝাড় ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান গাজীউর রহমান মন্ডল, নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান রাজু আহম্মেদ খোকন আসলে বিষয়টি থানায় মীমাংসা হবে বলে আজমলের বাবা আয়নাল হক মেম্বারসহ পাঁচজনকে ভ্যানে করে থানায় নিয়ে যায়।
এদের মধ্য থেকে আয়নাল হক মন্ডল, আবদুল হালিম ও রফিক এ তিনজনকে গ্রেফতার করে ২২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জনকে আসামি করে এসএসআই তপন চন্দ্র রায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে।
এ বিষয়ে আজমতের স্ত্রী তাহমিনা বেগম বলেন, ‘তারা দরজা ধাক্কা দিয়া ঘরে ঢোকে। তারা কারা জিজ্ঞাস করতেই আমাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিত ফেলে দেয়। এ সময় আমার স্বামী ও ছেলে ক্ষেপে যায়। পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়।’
আজমতের ছেলে তুষার বলেন, ‘তারা যখন আসলো, আমরা বুঝলাম না- তারা পুলিশ না ডাকাত। মাকে যখন মাটিতে ফেলাইয়া দেয়, তখন চেইতা যাই।’
স্থানীয় আবদুস সাত্তার বলেন, ‘চিল্লাচিল্লি শুনতাছি ডাকাত পড়ছে। এসে দেখি লোকজন। মারডাং (মারামারি) হইছে কিনা তা আমরা দেখি নাই।’
ইউপি চেয়ারম্যান গাজীউর রহমান মন্ডল ও আওয়ামী লীগের পরাজিত প্রার্থী ফজলুল হকসহ ছয়জনকে মামলার সাক্ষী করা হয়।
গাজীউর রহমান মন্ডল বলেন, ‘ওসির ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের ভ্যানের গ্লাস ভাঙা দেখেছি। কিন্তু কে ভেঙেছে তা দেখিনি।’
মামলার প্রধান সাক্ষী আবদুল মজিদ বলেন, ‘কী ঘটছে তা জানি না। পরে গিয়ে শুনলাম গাড়ি ভাঙছে, এই।’
অপর সাক্ষী ফজলুল হক বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে যাইনি। কিছু জানিও না।’
অন্য তিন সাক্ষীও ঘটনার অনেক পর সেখানে যান বলে জানান।
থানার গাড়িচালক কনস্টেবল মোহাদ্দেস আলী বলেন, আন্ধারীঝাড়ে গাড়ি নিয়ে গেছি। ভেতরে কী হয়েছে জানি না। হঠাৎ আজমল ও তার ছেলে এসে গাড়ির গ্লাসে তিনটা বাড়ি দেয়। আমি দ্রুত গাড়ি স্টার্ট করে দূরে এসে দেখি আমার হাতের কয়েক স্থানে কেটে গেছে।’
এ বিষয়ে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান রাজু আহম্মেদ খোকন বলেন, ‘ঘটনার কিছুই জানতাম না। থানার ওসি ফোনে জানালো কয়েকজন পুলিশ ওইখানে আটকা আছে বিষয়টি দেখেন। তারপর ঘটনাস্থলে যাই।’

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4149999আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 3এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET