২৩শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৫ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

পুণ্যময় রজনী ‘শবেবরাত’

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : মে ২১ ২০১৬, ১৯:১৭ | 694 বার পঠিত

islam মুফতি মুহাম্মদ আল আমিন-শব ফার্সি শব্দ। এর অর্থ রাত। বরাত আরবি শব্দ। এর কয়েকটি অর্থ আছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অর্থ হলো মুক্তি। তাই শবেবরাত অর্থ মুক্তির রজনী। আরবি শাবান মাসের পনেরোতম রজনীকে শবেবরাত বলে। এই পুণ্যময় রজনীর ফজিলত ও তাত্পর্য সরাসরি পবিত্র কোরআন শরিফে বর্ণিত না হলেও বেশ কিছু হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। এমনিতেই শাবান মাস একটি বরকতপূর্ণ মাস। আমলের মাস। ইবাদতের মাস। তাছাড়া যে কোনো আমল করার জন্য হাদিস শরিফের বর্ণনা যথেষ্ট। তাই শবেবরাতের ইবাদত-বন্দেগি যুক্তিসঙ্গত।

এ মাসে রসুল (সা.) ইবাদত-বন্দেগি বাড়িয়ে দিতেন। রাতে নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তেন। দিনে নফল রোজা রাখতেন। আর দোয়া করতেন, ‘হে আল্লাহ! রজব মাস ও শাবান মাসে বরকত দান কর। এবং (আমল করার জন্য) রমজান মাস আমাদের পৌঁছাও।’ প্রিয় নবীজির প্রিয় সাহাবি হজরত আলী (রা.) বলেন, রসুল (সা.) বলেছেন, যখন শাবান মাসের পনেরোতম রজনী আসে তোমরা রাতে নামাজ পড় এবং দিনে রোজা রাখ। কারণ, আল্লাহতায়ালা সেদিন সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে দুনিয়ার আসমানে আসেন এবং বলতে থাকেন, কেউ আছে কি গুনাহ মাফ চাইবে? আমি তার গুনাহ মাপ করে দেব। কেউ আছে কি রিজিক চাইবে? আমি তাকে রিজিক দান করব। কেউ আছে কি অসুস্থ? আমি তাকে সুস্থ করে দেব। আল্লাহপাক এভাবে ডাকতে থাকেন ভোর পর্যন্ত। ইবনে মাজাহ।

অপর হাদিসে ইরশাদ হচ্ছে, হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, একদিন রসুল (সা.) বললেন, আজকের রজনীতে (শবেবরাতে) কী কী হয় তোমরা কী জান? আয়েশা (রা.) বললেন, আপনি বলুন এই রজনীতে কী কী হয়? রসুল (সা.) বললেন, আজকের রজনীতে আগামী এক বছরে পৃথিবীতে আগমনকারী আদম সন্তানদের নাম লেখা হয়। আগামী এক বছরে পৃথিবী থেকে কে কে বিদায় নেবে তাদের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়। এই রজনীতে মানুষের আমলনামা আল্লাহর কাছে পেশ করা হয়। মানুষের রিজিক আল্লাহর কাছ থেকে বরাদ্দ হয়। বায়হাকি। পবিত্র শবেবরাতে আমাদের উচিত সারা রাত বিভিন্ন নেক আমল করে কাটিয়ে দেওয়া। জিকির করা। কোরআন তেলাওয়াত করা। নফল নামাজ পড়া। সম্ভব হলে সালাতুস তাসবিহ নামাজ পড়া। যেসব আত্মীয়স্বজন ও প্রিয়জন পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে তাদের কবর জেয়ারত করা। নিজের কৃত গুনাহগুলোর কথা স্মরণ করে মহান পরওয়ারদেগারের দরবারে কান্নাকাটি করা। সেহরি খেয়ে পরদিন রোজা রাখা।

পুণ্যময় শবেবরাতে সবার গুনাহ মাপ হলেও দুই ব্যক্তির গুনাহ মাফ হয় না। এক. আল্লাহর সঙ্গে শরিককারী। দুই. হিংসুক। অর্থাৎ এই দুই ব্যক্তির অপরাধ এতটাই জঘন্য যে, শবেবরাতের মতো পবিত্র রাতেও তা মাপ হয় না। এ প্রসঙ্গে হাদিসে পাকে ইরশাদ হচ্ছে, হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) বলেন, রসুল (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহপাক শাবান মাসের পনেরোতম রজনীতে সমগ্র সৃষ্টিকুলের প্রতি মনোযোগ দেন। অতঃপর সবাইকে ক্ষমা করে দেন দুই ব্যক্তি ছাড়া। তারা হলো, ১. আল্লাহর সঙ্গে শরিককারী ২. হিংসুক। ইবনে মাজাহ। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে শবেবরাতের তাৎপর্য অনুধাবন করে এই রাতে বেশি বেশি ইবাদত করার তৌফিক দান করুন।  আমিন।

 

লেখক : খতিব, সমিতি বাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4152505আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 2এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET