২৩শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৫ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

পবিত্র রমজানের উদ্দেশ্য ও শিক্ষা

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : জুন ০৭ ২০১৬, ০৫:৪৮ | 670 বার পঠিত

molanaআলহাজ্ব মাও: মো: ছাদেকুর রহমান- “ হে ইমানদারগন তোমাদের উপর রোজা ফরজ করে দেওয়া হয়েছে, যেমনি তোমাদের পূর্ববর্তী নবীদের উম্মতগণের উপরে ফরজ করা হয়েছিল”। সূরা-আল বাকারা।
ইসলাম মানব জাতির জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রদত্ত চিরন্তন, শাশ্বত কল্যাণময় পরিপূর্ণ জীবন বিধান। এর প্রধান স্তম্বের মধ্যে সাওম বা রোজা একটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ব। ইসলামের পরিভাষায় ইহার অর্থ সুবেহ্ ছাদেকের (আলো ফুটে ওঠবার) সময় থেকে রোজার নিয়ত করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আহার বিহার ও সর্ববিধ যৌন কমনা বাসনা চরিতার্থ করা থেকে বিরত থাকাই সিয়াম বা রোজা।
রোজার তিনটি হাকিকম: ১. তাকওয়া বা খোদাভীতি ২. আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও পবিত্রতা বর্ণনা ৩. আল্লাহ তায়ালার শোকর ও কৃতজ্ঞতা আদায়।
নবী রাসূলের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছে হযরত মোহাম্মদ (স.) নারী কূলের শ্রেষ্ঠ হচ্ছে ফাতেহাতুজ জহুরা (রা:), যুবকুলের শ্রেষ্ঠ হচ্ছেন ইমাম হাছান ও হোসাইন (রা), সপ্তাহের শ্রেষ্ঠদিন হচ্ছে ইয়াওমূল জুম্য়া, আসমানি কিতাব সমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছে মুহাগ্রন্থ আল্ কোরআন, আর গোটা বছরের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মাস হচ্ছে রমজানুল মোবারক।
রোজার দ্বারা আমরা কি শিখতে পারি? রোজা আমাদের কী দেয়? রোজার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা আমাদের কাছে কী চান ইত্যাদি বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আলাদা আলোচনার মাধ্যমে রোজা সম্পর্কে আমরা সুষ্পষ্ট ধারণা লাভ করতে সক্ষম হবো। নিম্মে সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করছি।
রমজানের শিক্ষা:
১. ইচ্ছার দৃঢ়তা শিখায়: একজন লোকের যেখানে খাদ্য পানিয়ের কোন অভাব নেই এবং পেটে ক্ষুধা আছে যখন খুশি সে পানাহার করতে পারে, এই ধরণের সুবিধা ও চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সে ইচ্ছাকে স্বীয় নিয়ন্ত্রণে রাখে। এই ছাড়াও যৌবনকালে যৌণ বাসনা ও কামনা প্রবল থাকে এবং বিবাহিত স্বামী-স্ত্রী একই গৃহে অবস্থান করে এবং যে কোন মুহুর্তে ইচ্ছা করলে যৌন সঙ্গমে লিপ্ত হতে পারে, এমতাবস্থায় প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে লড়াই থেকে নিজকে সংযত রাখে। একজন মুমিন তার প্রবৃত্তি ও ইচ্ছাকে স্বীয় খেয়াল খুশি মত চলার আজাদী থেকে তাকে একটি সুনিয়ন্ত্রিত পথে চলার শিক্ষা দেয়। তেমনিভাবে অন্যান্য ক্ষেত্রেও রোজার মাধ্যমে কার্যকারিতালাভে সক্ষম হবে।
২. তাকওয়া বা খোদাভীতি শিখায়: রোজার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কোরআনে যে কয়টি বিষয় উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে তাকওয়া একটি অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
এখন জানা দরকার তাকওয়া কী? তাকওয়া অর্থ হচ্ছে বেঁচে থাকা, ভয় করা বা নিজেকে অন্যায় ও অনিষ্ঠ থেকে রক্ষা করা। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় তাকওয়া অর্থ হচ্ছে আল্লাহর ভয়ে সকল প্রকার অন্যায় কাজ থেকে নিজকে দূরে রাখা অর্থ্যাৎ খোদার নির্দেশিত পতে চলা এবং নিষিদ্ধ কাজ ও পথ হতে নিজকে বাঁচিয়ে রাখার মাধ্যমে খোদার সন্তুষ্টি লাভ করা। আল্লাহ তায়ালা মোত্তাকিনদিগকে ভালবাসেন, যে কেন শারিরীক ইবাদত নামায, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি দেখা যায়, কিন্তু রোজার ব্যাপারে স্বতন্ত্র। এটাই সত্যিকারের তাকওয়া বা খোদাভীতি শিক্ষার সুযোগ এনে দেয় এবং ন্যায় ও সত্যের পথে পরিচালিত হবে।
৩. সংযম শিখায়: মানুষের মধ্যে যেরূপ ফেরেস্তারগুণ থাকে তদ্রুপ পাশবিক শক্তিও থাকে, এই শক্তি অহরহ থাকলে স্বেচ্ছাচারিতার পথে পরিচালিত করে। এই স্বেচ্ছাচারিতার কারণে মানব সমাজে কোন্দল ও অনাচার সৃষ্টি হয়। যার পরিণতি হচ্ছে অশান্তি। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের স্বীয় প্রবৃত্তিকে সংযমের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার। রোজা মানুষকে এই সংযম শিক্ষাই দেয়।
৪. অন্তঃকরণকে ধৈর্য্য অবলম্বনের শিক্ষা দেয়: প্রকৃতিগতভাবে মানুষের অন্তর বা চিন্তা থাকে চঞ্চল। সে সব সময় কোন জিনিস পাবার জন্য অস্থির থাকে, যদি কোন বস্তু তার আওতার মধ্যে থাকে তাহা পাওয়ার জন্য অন্তর সর্বদা ব্যকুল থাকে। রোজার মাধ্যমে যারা ধৈর্য্য ধারণ করবে, তাদের সম্পর্কে আল্লাহপাক বলেছেন- “প্রলবনের মুখে ধৈর্য্য ধারণকারীদের জন্য রহমত ও দয়া বর্ষণ হয়”।
আল্লাহ রাসুল (স:) বলেছেন-“রোজা সবরের অর্ধেক এবং সবর ধৈর্য্য) ইমানের
অর্ধেক”। রমযান ধৈর্য্য অবলম্বনের মাস এবং ধৈর্য্যধারণ হচ্ছে বেহেস্ত।
৫. গরিব দুঃখী নিঃস্ব অনাহারী পিপাসার্ত্ব ও রোগাক্রান্ত মানুষের দুঃখানুভাব ও তাদের সাথে একত্বাবোধের শিক্ষা দেয়: অর্থ্যাৎ যে কখনও অভুক্ত থাকেনি সে কী করে ক্ষুধার্থ, পিপাসার্থ ব্যক্তির কঠোর জ্বালা বুঝবে? যে কখনো রাগাক্রান্ত হয়নি সে কী করে বুঝবে রোগের জ্বালা কী।
বাংলায় ভাষায় এক কবি আক্ষেপ করে বলেছেন-
চির সুখী জন
ভ্রমে কী কখন
ব্যতীথ বেদন
বুঝিতেকি পারে?
যতদিন ভবেনা
হবেনা হবে
তোমারি অবস্থা
আমার সময় ইত্যাদি।
যারা ধনি সম্প্রদায় খাদ্য পানিয়ের যাদের প্রাচীর্য তারা ক্ষুধার জ্বালা কী, তা বুঝবার অবকাশ কোথায়? রমজান মাসে রোজার মাধ্যমে ধনি-গরিবের মধ্যে একাত্ত্বতার উপলদ্ধি সৃষ্টি সম্ভব, অন্য কোন মাধ্যমে এতটা সম্ভব নয়।
৬. সাম্যের শিক্ষা: পবিত্র রমজান মাসে রোজার মাধ্যমে মুসলিম সমাজ যে সাম্যের শিক্ষা পায় এবং সময়বর্তিতার শিক্ষা পায় বিশ্বের অন্য কোন জাতির মধ্যে এই ধরণের শিক্ষায় কোন দ্বিতীয় নজির নাই। একই সময় শেষ রাত্রে সেহ্রী খাওয়া একই সময় ইফতার, এই ধরণের সাম্যের চাইতে বড় উদাহরণ আর কী হতে পারে।
৭. পাপ, রিয়া থেকে বিরত থাকা আমানতদ্বারী ও গোপনীয়তা রক্ষা সমবর্তীতা শিক্ষা: পবিত্র রমজান মাসে একমাত্র সঠিকভাবে রোজার মাধ্যমে অন্যায় অশ্লীল কাজ পাপ, রিয়া থেকে বিরত থাকা ও বর্জন করা শিক্ষা দেয়। রাসুল (স.) বলেছেন-‘‘প্রত্যেক নেক কাজের বিনিময়ে সওয়াব কখনো দশ হতে সাতশতগুণ পর্যন্ত প্রদান করে থাকে কিন্তু আল্লাহপাক বলেন-রোজা যেহেতু শুধুমাত্র আমার উদ্দেশ্যে রাখা হয় তাই এর প্রতিদান আমি স্বয়ং দিয়া থাকি”। যেহেতু বান্দা আল্লাহর ভয়ে তার প্রদত্ত আমানত ও গোপনীয়তা রক্ষা করেছে তাই আল্লাহ খুশি হয়ে বিনা হিসাবে তত খুশি সওয়াব প্রদান করবেন বলে ওয়াদা করেছেন।
পরিশেষে বলা যায়; রমজান মাসে রোজার দ্বারা মানুষকে পাপমুক্ত হওয়ার বিশেষ সুযোগ দেয়, রোযা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উপায়। রোজা দোযখ থেকে বাঁচার উপায়, রোজা বেহেস্ত লাভের সুযোগ করে দেয়। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র রমজান মাসে রোজার মাধ্যমে আমাদের ইহ্কল ও পরকালের মুক্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার তৌফিক দান করুক-আমীন।

লেখক-আলহাজ্ব মাও: মো: ছাদেকুর রহমান
সভাপতি, ইমাম সমিতি, নাঙ্গলকোট উপজেলা শাখা।
মোবাইল- ০১৭১২৩৫৭২৫১

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4152507আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 1এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET