৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৯শে রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • সকল সংবাদ
  • নড়াইলবাসীর নতুন এক যন্ত্রণার-নাম ব্যাটারিচালিত অটো রিকশা

নড়াইলবাসীর নতুন এক যন্ত্রণার-নাম ব্যাটারিচালিত অটো রিকশা

হুমায়ন আরাফাত, আশুলিয়া করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : জুন ১৬ ২০১৭, ২০:৩০ | 625 বার পঠিত

উজ্জ্বল য়ার নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

পিপ-পিপ,প্যা-পু, চ্যা-চু বিভিন্ন প্রকার অহয্য যন্ত্রনাধায়ক শব্দের মাধ্যমে রাত-নীশি-ভোর কাটাতে হচ্ছে নড়াইলবাসীর সড়ক পারা পার ও রোজার দিনে নামাজ এবং তারাবি নামাজের মুসল্লিদের। এ যন্ত্রণার নাম ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। এ রিকশা প্রতিনিয়ত যেমন ঘটিয়ে চলছে দুর্ঘটনা তেমনি অতিষ্ঠ করে তুলছে জনজীবন। এদের নেই কোনো লাইসেন্স, নেই কোনো গতিসিমা আবার নেই কোনো ট্রেনিং। নিয়ন্ত্রণহীন এ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী আকৃষ্ট হচ্ছে এ ব্যবসায়। এদিকে এক অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, এ অটোরিকশায় ব্যবহৃত বিদ্যুৎও অবৈধ। এতে করে সরকার যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তেমনি অতিরিক্ত ভাড়া ও লোড সোডিংয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ জনগণ। অধিকাংশ রিকশা গ্যারেজ মালিক বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে মাসোহারা দিয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ এগুলো দেখার যেন কেউ নেই। মাঝেমধ্যে প্রশাসন থেকে অটোরিকশা বন্ধে উদ্যোগ বা গ্যারেজে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলেও তা অজ্ঞাত কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এ যন্ত্রনা থেকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ মানুষ। এ যন্ত্রনা থেকে সবাই পরিত্রাণ চায়। অটোরিকশা নিয়ে পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখা যায়, বিজ্ঞানের কল্যাণে ও প্রয়োজনের তাগিদে মানুষ প্রতিনিয়ত নতুন নতুন যানবাহন আবিস্কার করছে। সম্প্রতি রির্চাজেবল ইলেকট্রিক ব্যাটারি ও মোটর এবং বিভিন্ন ধরনের চায়নার যন্ত্রণাধায়ক বাশি (হর্ন) লাগিয়ে একটি রিকশা নড়াইলের প্রতিটি অলি গলিতে চলতে দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন রঙের এই রিকশাগুলো প্রশাসনের নাকের ডগার সামনে দিয়েই হরহামেশা চলছে। কিছু কিছু রিকশা মোটর ও ব্যাটারিগুলো একটি টিনের সিট দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। যাতে প্রশাসনের লোক ব্যাটারি দেখতে না পারে। সাধারণ রিকশার সাথে বাজার থেকে কেনা ছোট ছোট ইউপিএস এর ব্যাটারি এবং মটর সংযোগ করে এসব রিকশা তৈরি করছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। এর ফলে পায়ের প্যাডেলের সাহায্যে রিকশা চালানো কষ্ট বিধায় রিকশা চালকরা ব্যাটারিচালিত রিকশা ব্যবহার করতে উৎসাহিত হচ্ছে এবং এ রিকশা দ্রুতগামী হওয়ায় যাত্রীরাও আরোহনে স্বাচ্ছন্দ মনে করছে। এ কারণেই এ এলাকায় এ ধরনের রিকশার হার দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্যাটারিচালিত অটো রিকশা বিষয়ে সরকারের উচিৎ যত দ্রুত সম্ভব আইন করে এবং আইনের বাস্তব প্রয়োগ করে ব্যাটারী চালিত রিকশা ও অটোরিকশা বন্ধ করে সৌর বিদ্যুৎ চালিত রিকশা ও অটোরিকশার প্রযুক্তি ব্যবহারে চালকদেরকে সহায়তা করা, নইলে দেশ ও দেশের মানুষ ভবিষ্যতে চরম বিদ্যুৎ সংকটে পড়বে, যা দেশের উন্নয়নের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। যেমন এই সমস্ত অটোরিকশায় ব্যাটারী চার্জ করতে প্রচুর পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। যেখানে বিদ্যুতের অভাবে মানুষ অতিষ্ট, বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ঘন ঘন বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হচ্ছে। এমনকি কুইক রেন্টালের মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্তও নিতে হচ্ছে সরকারকে, সেখানে যদি দেশের লক্ষ লক্ষ অটোরিকশাগুলো ব্যাটারীতে চালিত হয়, তাহলে যে কি ভয়াবহ অবস্থা হবে, সেটি কল্পনাও করা যায় না। তিনি আরো বলেন, সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আমার দেখা মতে পয়ষট্রি থেকে সত্তর বছরের এক বৃদ্ধ রোদের মধ্যে অটো রিকশা নিয়ে বসে কান্না করছে। সারা শরীর দিয়ে ঘাম জড়ছে। বয়স বেশি হওয়ায় কেউ তার রিকশায় চড়ছে না। সে চিন্তা করছে কিভাবে রিকশার জমা দিবে, কিভাবে দুটি টাকা আয় করবে। আমার কথা হচ্ছে বয়স্ক লোকটি হয়তো এই বয়সে তার ছেলে-মেয়ের কোনো সহযোগিতা না পেয়ে রিকশা চালাচ্ছে কিন্তু এই অটোরিকশা না থাকলে সে এতো কষ্ট করে রিকশা চালানোর কথা চিন্তা না করে অন্য উপায়ে আয়ের ব্যবস্থা করতো। এই রিকশাগুলো অচিরেই বন্ধ করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছেন তিনি। এ বিষয়ে নড়াইলের সদর মোঃ শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের দেশে সাধারণত মসজিদগুলো সড়কের পাশে। যাতে করে মুসল্লিরা সহজে ঝড়, তুফান, রোদ-বৃষ্টির মধ্যে সহজেই মসজিদে প্রবেশ করে নামায আদায় করতে পারে। ইদানিং শহরের অলিতে গলিতে যে সকল ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো বের হয়েছে তার শব্দে নামাজ পড়ার সময় অনেক অসুবিধা হয়। হাদিসে বর্নিত আছে এমন কোনো কাজ করা যাবে না যে কাজের কারণে নামাজের অসুবিধা হয়। ব্যাটারিচালিত রিক্সার শব্দে অনেক সময় নামাযের সুরা কেরাতের ভুলও হয়ে যায়। তাই এ রিক্সাগুলো আইনের আওতায় এনে শব্দ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে অনেক উপকার হবে। অটো রিকশা চালক রাসেল জানান, তার দেশের বাড়ি নড়াইল জেলায় সে ১৫ বছর যাবত রিকশা চালাচ্ছে। দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে অভাবের কারণে আর পড়া লেখা করা সম্ভব হয় নাই। অভাবের সংসারের কারণে চলে আসি ঢাকায়। প্রথমে পায়ের প্যাডেলের রিকশা চালাতাম কিন্তু এখন ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাই। এ রিকশা চালাতে পরিশ্রম কম, আয় বেশী। দিন দিন যে ভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের দাম বাড়ছে, ছেলে-মেয়ে নিয়ে সংসার চালানোটা খুব কষ্ট কর হয়ে পড়ছে। তাই অটোরিকশা চালিয়ে সারাদিন হাজার বারশ টাকা আয় করে তিনশ টাকা রিকশার জমা দিয়ে কোনোভাবে সংসার চালানো যায়। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ সম্পর্কে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি- এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এ রিকশাগুলো যখন প্রথম বের হয় তখন সাধারণ মানুষ থেকে সকল শ্রেণির মানুষ এ গাড়িগুলো পছন্দ করতেন। কিন্তু দিন কয়েক যেতেই এর বিপক্ষে দাড়িয়েছে সবাই। এর একটি কারণ সারাদিন প্যা-পু শব্দ আর বিদ্যুৎ চুরি। এক সময় যখন আমরা জানতে পারলাম এ সব রিকশার মালিকরা গ্যারেজের মধ্যে আবাসিক লাইন বা চুরি করা লাইন থেকে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ব্যাটারি চার্জ করে থাকে। তখন আমরা অভিযান শুরু করি। বেশ কিছু গ্যারেজের মালিককে আমরা জরিমানার আওতায়ও নিয়ে আসি। বর্তমানে তারা মিটার নিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় চুরি বন্ধ রয়েছে। তবে এ রিকশাগুলো বন্ধ করে দিতে পারলে সরকারের আরো উপকার হবে। যেমন একদিকে বিদ্যুতের ঘাটতি কম হবে অন্যদিকে সড়কে যানজট নিরসন হবে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সমাজে সত্যিই একটা যন্ত্রনারর ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। এই রিকশারগুলোর জ্বালায় কোনো অফিস বসে সহজে কোনো কাজ করা সম্ভব হয় না। এই রিকশার কারণে অনেক দুর্ঘটনা সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিদিন। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক ও চালকদের ডেকে বন্ধ করার কথা বলেছিলাম। পরে তারা কিছুদিনের সময় নিয়েছেন। এ রিকশাগুলো ভবিষ্যতে চিরতরে বন্ধ করার চিন্তা-ভাবনাও আছে আমাদের। এ প্রসঙ্গে সাথে কথা হলে তিনিও বিরক্তির সঙ্গে বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ব্যাপারে ট্রাফিক আইনে নিয়মনীতি না থাকায় এসব গাড়ি চালকরা যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছে। এরা রাস্তার চলার সময় বড় বড় গাড়ির সাথে পাল্লা দিয়ে চলতে চায়। এদের নাই কোন লাইসেন্স, নাই কোন নাম্বার, যার কারণে এখন পরিবহন সেক্টরের অনেক অসাধু ব্যবসায়ী জুকে পড়ছে এ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ব্যবসার দিকে। এই সব রিকশা ও চালকদের সরকার টেক্সের আওতায় নিয়ে আসলে তাহলে একদিকে সরকার যেমন লাভবান হবে তেমনি অবৈধ ব্যবসাও কমে আসবে। অন্যদিকে চালকরাও নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

 

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4225011আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 3এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET