৩১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৩ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • খুলনা
  • তুলে নেয়ার ৩ সপ্তাহ পর যশোরে মিললো দুই কলেজছাত্রের লাশ

তুলে নেয়ার ৩ সপ্তাহ পর যশোরে মিললো দুই কলেজছাত্রের লাশ

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : এপ্রিল ১৪ ২০১৬, ০১:১৪ | 668 বার পঠিত

9864_f5 নয়া আলো ডেস্ক-

ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেয়ার ৩ সপ্তাহ পর দুই শিবির নেতার লাশ উদ্ধার করা হলো যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের বহরামপুর সার্বজনীন শ্মশান ঘাট থেকে। গতকাল বুধবার সকাল ৯টার দিকে পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে। নিহতরা হচ্ছেন কালীগঞ্জ পৌরসভাধীন বাকুলিয়া গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে শামীম মাহমুদ এবং চাপালী গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে আবুজার গিফারী। নিহত দুজনই কলেজছাত্র। নিহত শামীম ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজের অনার্স ব্যবস্থাপনা দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। আর আবুজার গিফারী যশোর এমএম কলেজের বাংলায় অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র।
নিহতের স্বজনদের দাবি গত ১৮ই মার্র্চ বিকালে ও ২৫শে মার্চ সন্ধ্যার দিকে সাদা পোশাকের ডিবি পুলিশ পরিচয়ে দুই কলেজছাত্র আবুজার গিফারী ও শামীম মাহমুদকে তুলে নিয়ে যায়। তাদের খোঁজে উভয় পরিবারের সদস্যরা কালীগঞ্জ থানায় জিডি ও সংবাদ সম্মেলন করে। গতকাল সকালে স্থানীয় ধর্মাবলম্বীরা বহরামপুর সার্বজনীন মন্দিরে পূজা করতে গিয়ে মন্দিরের পাশের পুকুরে দুটি লাশ ভাসতে দেখে। পরে তারা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কোতোয়ালি পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। খবর পেয়ে নিহতদের স্বজনরা হাসপাতালের মর্গে দুই কলেজছাত্রের লাশ শনাক্ত করে। স্বজনদের দাবি, পুলিশ দুই কলেজ ছাত্রকে গুলি করে হত্যা করে লাশ ঘটনাস্থলে ফেলে গেছে।
আবুজার গিফারীর চাচাতো ভাই নান্নু মিয়া জানান, আবুজার শিবিরের রাজনীতি করতো।  তবে সে কোন পদে ছিল না। সে সমর্থক হিসেবে কাজ করতো। তার নামে কোন মামলা ছিল না। ১৮ই মার্চ জুম্মার নামাজ পড়ে আবুজার কয়েকজন সঙ্গীসহ বাড়ি যাচ্ছিলেন। এসময় দুটি মোটর সাইকেলে ৪জন ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আবুজারের গতিরোধ করে। তারা আবুজারকে রাস্তা থেকে আটক করে। তাকে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে একটি মোটর সাইকেলে চড়িয়ে পুলিশ নিয়ে যায়। পরক্ষণেই কালীগঞ্জ থানা ও ঝিনাইদহ ডিবি অফিসে খোঁজ নিলে স্বজনদের জানানো হয় তারা আবুজার নামে কাউকে আটক করেনি। একইভাবে ২৫শে মার্চ সন্ধ্যায় কালীগঞ্জ বাজারের নীমতলা এলাকা থেকে শামীমকে আটক করে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে। কিন্তু পরক্ষণেই পুলিশ তা অস্বীকার করে। এই দুটি অপহরণের ঘটনা নিয়ে স্বজনরা বারবার সংবাদ সম্মেলন করেছে। থানায় জিডি করেছে। পুলিশ সুপার বরাবর স্বজনরা নিখোঁজ দুই কলেজছাত্রের সন্ধান চেয়ে আবেদনও করেছে। কিন্তু গত ৩ সপ্তাহ ধরে তাদের কোনো খোঁজ মেলেনি। গতকাল বুধবার সকালে যশোর সদর থানার একটি শশ্মান ঘাট থেকে যশোর কোতোয়ালি পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহত দুই কলেজ ছাত্রের মাথায় ও শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে যারাই দুই কলেজ ছাত্রকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল তারাই তাদেরকে গুলি করে হত্যার পর লাশ যশোর সীমান্তে ফেলে গেছে। তবে নিহতের স্বজনদের দাবি পুলিশ এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
শামীমের বাবা রুহুল আমিন বিবিসিকে বলেছেন, তারা এ হত্যার কোন আইনি প্রতিকার আশা করছেন না। তিনি বলেন, সব আমরা আল্লাহর হাতে সঁপে দিয়েছি।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি শুনেছি দুজনের লাশ পাওয়া গেছে। তবে ঘটনাস্থল যশোরের মধ্যে হওয়ায় বিস্তারিত জানতে পারিনি।’ যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের লাশ দুটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছেন। এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল দুপুরের দিকে নিহত দুই কলেজছাত্রের লাশ তার স্বজনরা নিজ নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়।
শিবিরের নিন্দা ও প্রতিবাদ: ঝিনাইদহে ২ শিবির নেতাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ২৫ দিন পর গভীর রাতে গুলি চালিয়ে তাদের হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। গতকাল এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত বলেন, অবৈধ সরকারের ইচ্ছাপূরণ করতে গিয়ে একের পর এক নিরপরাধ মেধাবী ছাত্রদের নৃশংসভাবে হত্যা করে নরঘাতক রূপে আবির্ভূত হয়েছে পুলিশ। গত ১৮ই মার্চ জুম্মার নামাজ শেষে বাড়ি যাওয়ার পথে পুলিশ পরিচয়ে যশোর এমএম কলেজের ছাত্র ও ছাত্রশিবির কালিগঞ্জ পৌরসভার সভাপতি আবুজর গিফারিকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তার পরিবার এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর থানায় যোগাযোগ করলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকার করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে তার সন্ধানের দাবি জানানো হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকেও বিবৃতির মাধ্যমে তার সন্ধান দাবি করা হয়। কিন্তু পুলিশ তাতে কর্ণপাত না করে উল্টো ২৫শে মার্চ ঝিনাইদহ কে সি কলেজের অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র শামীম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। তার গ্রেপ্তারের কথাও পুলিশ অস্বীকার করে। তাদের পরিবার ও সংগঠনের পক্ষ থেকে বারবার তাদের সন্ধান দাবি করা হয়েছে। একই দাবিতে সারাদেশে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এত কিছুর পরও পুলিশ তাদেরকে আদালতে হাজির না করে গতরাতে পরিকল্পিতভাবে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। কোনো কারণ ছাড়াই মেধাবী ছাত্রদের গ্রেপ্তার করে অস্বীকার করা ও নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা কোনো দায়িত্বশীল পুলিশের কাজ হতে পারে না। এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এই হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং অবৈধ সরকারের মেধাবী ছাত্র হত্যা মিশনেরই অংশ। এই হত্যাকাণ্ডের দায় সরকারকেই নিতে হবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, সময়ের ব্যবধানে ঘাতকদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। আমরা দেশের বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকদের এই রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে জাতিসংঘ সহ সকল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনকে এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করার আহ্বান জানাচ্ছি। হত্যার প্রতিবাদে শনিবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি আহ্বান করেছে শিবির।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4167146আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 8এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET