২৩শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৫ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

তুরস্কে ‘পালটা অভ্যুত্থান’

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : জুলাই ২০ ২০১৬, ০০:৪০ | 615 বার পঠিত

23339_x1নয়া আলো ডেস্ক- তুরস্কের সামরিক বাহিনী যখন শুক্রবার দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেছিল তখন এরদোগান নিজে গ্রহণ করেন গণমাধ্যমের গেরিলা কৌশল। নিজের মোবাইলের ফেসটাইম অ্যাপ ব্যবহার করে তিনি তুর্কি জনগণকে এই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। মজার বিষয় হলো- এরদোগান নিজে মুক্ত বাকস্বাধীনতার সমর্থক নন। কঠোরভাবে তিনি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন দেশটির গণমাধ্যমকে, গণ্ডিবদ্ধ করেছেন মানবাধিকার ও স্বাধীনতা। তবুও হাজার হাজার মানুষ এরদোগানের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন, বিদ্রোহীদের পিছু হটিয়েছেন। এরদোগান নিজে গণতন্ত্রকে ক্ষুণ্ন করলেও এসব মানুষ দেখিয়েছেন, তারা এখনও গণতন্ত্রকে মূল্যায়ন করেন।
এরদোগান গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ন করার যে প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন তা এখন গতিপ্রাপ্ত হয়েছে। তুরস্কের জনগণকে দিতে হয়েছে চরম মূল্য, আইএসকে মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তৈরি করেছেন নতুন চ্যালেঞ্জ এবং থামিয়েছেন তুরস্কের প্রতিবেশী সিরিয়ায় হত্যাকাণ্ড। গত সপ্তাহের নৈরাজ্যকর ও রক্তাক্ত ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট এরদোগান আরও বেশি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠছেন, হয়ে উঠছেন আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি কর্তৃত্বপরায়ণ। ব্যর্থ অভ্যুত্থানকে কেবল বিদ্রোহী সেনাদের শাস্তির জন্যই নয় তিনি তুরস্কে তার বিরুদ্ধমতকে দমনের কাজেও ব্যবহার করছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে। এই বিদ্রোহ সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে একটি উপহার। এটা আমাদের সামরিক বাহিনীর শুদ্ধিপ্রক্রিয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’
২০০৩ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এরদোগান পরিণত হয়েছেন একজন কর্তৃত্বপরায়ণ নেতা হিসেবে, যিনি অনেকের কাঙ্ক্ষিত মুসলিম গণতন্ত্রের স্বপ্ন থেকে তার দেশকে অনেক দূরে সরিয়ে নিয়ে গেছেন। অস্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্যের পক্ষে আরও একটি দেশের পতন সহ্য করা সম্ভব নয়, বিশেষত যে দেশটি আবার ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় রক্ষণব্যুহবিশেষ। গত সপ্তাহের শেষে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘তুরস্কে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বেসামরিক সরকার ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি পূর্ণ সমর্থনে’র কথা জোর দিয়ে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে সংযমী থাকার ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
কৌশলি দিক থেকে দেখলে তুরস্কের বিদ্রোহের বিপর্যয় এরই মধ্যে অনুভূত হয়েছে। শনিবার ইনক্রিক বিমানঘাঁটি থেকে আমেরিকার নেতৃত্বে পরিচালিত আইএসবিরোধী অভিযান স্থগিত করেছে তুরস্ক। একদিন পর তা চালুও করেছে। তুরস্কের সামরিক বাহিনীতে এরদোগান প্রসঙ্গে আপত বিভক্তিকে বিবেচনায় রেখে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যকার সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ মার্কিন ও তুর্কি সেনাবাহিনীর মধ্যকার সম্পর্ক রক্ষা কঠিন হয়ে পড়বে। এটা সিরিয়া বা আইএস ছাড়াও অন্যান্য বিষয়ে দুই দেশের সহযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ইউরোপে শরণার্থীদের প্রবাহ বন্ধের প্রচেষ্টাতেও প্রতিবন্ধকতা হয়ে যেতে পারে এটি।
তুরস্কের সামরিক বাহিনীতে ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষায় অভ্যুত্থানের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৯৮০ সালের আগ পর্যন্ত অবশ্য দেশটির সামরিক বাহিনী সরাসরি ক্ষমতা ছিনিয়ে নিতে পারেনি। বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরদোগান ও সামরিক বাহিনীর মধ্যেও উত্তেজনা দীর্ঘদিনের। এরদোগানের দল একেপি পার্টির মূলে রয়েছে ইসলামবাদ। এরদোগান নিজে নিয়মতান্ত্রিকভাবে দেশটির সামরিক বাহিনীকে প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুর্বল করতে কাজ করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য এই সামরিক বাহিনী কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছে বলে দেখা গেছে। এর পিছনের কারণ হিসেবে রয়েছে রাজনীতি থেকে স্পষ্টভাবে দূরে থাকা ও কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ যুদ্ধ।
এরদোগান দ্রুত তার বিরোধীদের ধরপাকড় করেছেন, তারা প্রকৃত বিরোধীই হোক আর কাল্পনিকই হোক। কর্তৃপক্ষ সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ৩ হাজার সদস্যকে আটক করেছে, বরখাস্ত করেছে ২,৭৪৫ জন বিচারককে। বিদ্রোহের পর এর জন্য এরদোগান দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় নির্বাসিত ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের অনুসারীদের। তিন বছর আগ পর্যন্তও গুলেন ও এরদোগানের মধ্যে মিত্রতার সম্পর্ক ছিল। মনে করা হয়, তুর্কি পুলিশ ও বিচার বিভাগে গুলেনের অনুসারীদের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে, সামরিক বাহিনীতে তেমনটি নেই। বিরল এক সাক্ষাৎকারে গুলেন এই অভ্যুত্থানে তার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন। তবে এর সঙ্গে তার অনুসারীদের সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। এরদোগান এর আগেও বহুবার গুলেনকে তুরস্কে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। এবারেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, গুলেনকে যেন ফেরত পাঠানো হয়। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই অনুরোধ বিবেচনা করা হবে জানানো হয়েছে। তবে এর শর্তে বলা হয়েছে, এর জন্য এরদোগানকে উপযুক্ত প্রমাণ হাজির করতে হবে।
অভ্যুত্থানের প্রত্যুত্তরে এরদোগান যেসব ব্যবস্থা নিয়েছেন তাতে নিজে ক্রমবর্ধমানভাবে বিভক্তিমূলক হয়ে উঠলেও তুরস্কে তার পক্ষে সমর্থন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছেন। আশা করা যায় যে এই মরিয়া বিদ্রোহ তাকে তার বিরোধীদের ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যেতে প্ররোচিত করবে। কিন্তু এরদোগানের ধরন এর বিপরীত দিককেই নির্দেশ করছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি এমন দাঁড়াতে পারে যে এই অভ্যুত্থান ও দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা তুরস্কের গণতন্ত্রকে দুর্বল করবে এবং ন্যাটো ও আঞ্চলিক ক্ষেত্রে এর দৃঢ় প্রভাব রাখার সামর্থ্যকে দুর্বল করবে।
(১৮ই জুলাই প্রকাশিত নিউ ইয়র্ক টাইমসের সম্পাদনা পর্ষদের লেখা ‘দ্য কাউন্টার ক্যু ইন টার্কি’ শীর্ষক সম্পাদকীয়র অনুবাদ)

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4152459আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 5এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET