২৮শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১০ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

তিনদিন ধরে জ্বলছে সুন্দরবন

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : এপ্রিল ৩০ ২০১৬, ০১:১৯ | 634 বার পঠিত

12052_b6 নয়া আলো-

গত তিনদিনেও নিভানো সম্ভব হয়নি পূর্ব-সুন্দরবনের ২৫নং কম্পার্টমেন্ট এলাকায় লেগে যাওয়া আগুন। বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলের চারদিকে রাউন্ড করে কাটা ফায়ার লাইন ভেদ করে আগুন  শুক্রবার ভোরে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। চার কিমি এলাকা জুড়ে অন্তত কাছাকাছি ১০টি স্পটে থেমে থেমে আগুন জ্বলে উঠছে। সঙ্গে সঙ্গে তা নিভানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সর্বশেষ গতকাল  দুপুর আড়াইটার দিকে পাওয়া খবর অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিসের বাগেরহাট, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলার তিনটি ইউনিট ও বনকর্মীদের সমন্বয়ে আগুন নিয়ন্ত্রুে আনতে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা করা হলেও এবারে তা দমন করতে হিমশিম খাচ্ছে। মাটির নিচে গাছের শিকড়ে শিকড়ে আগুনের বিস্তৃতি ঘটায় কিনারা তাদের পেতে সমস্যা হচ্ছে। তবে, আগুন নিভানো কাজে লোকবলের সংকট রয়েছে বলে জানা গেছে।

এ কারণে কাজে কিছুটা বিঘ্নতা ঘটছে। অবশ্য বরাবরের মতো আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে বন বিভাগ দাবি করেছে। এ ঘটনায় ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় একটি জিডি করেছেন। র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এদিকে, চাঁদপাই রেঞ্জের পাশাপাশি এবার শরণখোলা রেঞ্জেও সকল ধরনের পাস-পারমিট বন্ধ ঘোষণা করে সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। পরপর এ সব ঘটনায় বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের জীব ও বৈচিত্র্য হুমকিতে পরার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলার বন সংলগ্ন লোকালয়ের উত্তর ও দক্ষিণ রাজাপুর এলাকার হেমায়েত উদ্দিন, বাদশা মিয়া, শাহ্‌ আলমসহ  অন্যরা শুক্রবার দুপুরের দিকে মুঠোফোনে জানান, চাঁদপাই স্টেশন আওতাধীন আন্ধারমানিক টহল ফাঁড়ির টেংরা ও ধানসাগর স্টেশনের সীমান্তবর্তী তুলাতলা এলাকার গাছপালায় লেগে যাওয়া আগুন এখনো নিভানো সম্ভব হয়নি।

একদিকে নিভানো হচ্ছে, আবার অন্যদিকে জ্বলে উঠছে। ঘটনাস্থল থেকে ফিরে এসে উত্তর রাজাপুরের ইউপি সদস্য জাকির হোসেন জানান, উপরের দিকে গাছের পাশাপাশি মাটির নিচে গাছের শিকড়ের আগুন ভয়াবহ। কারণ ওই এলাকায় মাটির নিচে প্রচুর পরিমাণে গাছের শুকনো শিকড় রয়েছে। পাচারকারীদের কেটে নেয়া গাছের এ শিকড়ে শিকড়ের আগুন মাটির নিচ থেকে প্রসারিত হচ্ছে। রাজাপুর এলাকার ইউপি সদস্য ও শরণখোলা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন করিম সুমন জানান, চার কিমি এলাকার বনাঞ্চলের গাছপালায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে সুন্দরী, গেওয়া, ছালুয়া, আমড়সহ বিভিন্ন ধরনের গাছ রয়েছে। এবারে খুব সহসাই আগুন নিভানো সম্ভব হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। ঘটনাস্থলে থাকা ডিএফও (পূর্ব) মোঃ সাইদুর রহমান জানান, প্রচণ্ড তাবদাহ ও বাতাসের কারণে আগুন নিভাতে তাদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। এছাড়া, কাছাকাছি পানির উৎস না থাকায় প্রায় এক কিমি, দূর থেকে আড়ুয়াবয়ার খালে পাইপ লাগিয়ে পানি আনতে হচ্ছে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, গত এক মাসে পরপর চারবারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। এ বিষয়ে এলাকাবাসীকে নিয়ে একাধিক স্থানে সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে। তিন সদস্যের পাঁচটি ফায়ার ওয়াচ টিম গঠন করে প্রত্যেক টিমকে ২ কিমি এলাকা পাহারা দেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাতেও কোনো ফল হয়নি। এবারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন আহম্মেদ জানান, চাঁদপাই রেঞ্জের পাশাপাশি তার রেঞ্জেও মৎস্য পাসসহ সকল ধরনের পাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে না আসা পর্যন্ত জেলে বাঁওয়ালী, মৌয়াল ও সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত করা হয়েছে। শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ অতুল মণ্ডল ঘটনাস্থল ঘুরে এসে জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বনবিভাগ সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। নাশকতাকারীদের শিগগিরই চিহ্নিত করে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হবে। র‌্যাব-৬ (খুলনা) এর অধিনায়ক রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শনকলে বলেছেন, নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। বন সংরক্ষক (খুলনা অঞ্চল) জহির উদ্দিন দুপুর আড়াইটার দিকে মুঠোফোনে আগুন নিভানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করে বলেন, কিছু কিছু এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী থাকলেও এ মুহূর্তে এ বিষয়ে আর কিছু সম্ভব নয়।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4161604আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 7এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET