২১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩রা রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

‘জয়কে হত্যার পরিকল্পনায় শফিক-মাহমুদুরের নাম এসেছে-প্রধানমন্ত্রী

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : এপ্রিল ১৯ ২০১৬, ০৬:০৪ | 657 বার পঠিত

10457_f2 নয়া আলো ডেস্ক-

যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনাকারীদের তালিকায় শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমানের নাম এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার এদেশের মাটিতেই হবে বলে জানান তিনি। গতকাল বিকালে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শফিক রেহমানের গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপরাধীকে গ্রেপ্তার করলেও অপরাধ হয় এখন। যদি অপরাধীকে গ্রেপ্তার করলেই অপরাধ হয়, তাহলে এদেশে বিচার কি করে হবে? তারা সাংবাদিক দেখলো, দেখলো না অপরাধী।

তিনি বলেন, আমেরিকার আদালতে যে ষড়যন্ত্রকারীর নাম উঠেছে, সেই ষড়যন্ত্রকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যারা মানবাধিকারের কথা বলেন তারা বিএনপি-জামায়াতের কাছে কিভাবে যান? তাদের (বিএনপি-জামায়াত) কাছে পোড়া মানুষের গন্ধ। তাদের মানবাধিকার আছে, আমাদের নেই? শেখ হাসিনা বলেন, মানি লন্ডারিং করে খালেদা জিয়ার ছেলে। সেটা আমাদের প্রমাণ করতে হয়নি। বিদেশের আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। আমরা সেই টাকা ফিরিয়ে এনেছি। এ টাকা বাংলাদেশের জনগণের। তাদের এত টাকা যে আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই কর্মকর্তাকে অর্থ দিয়ে কিনে ফেলেছে। কেন? জয়কে অপহরণ করবে, হত্যা করবে। এটা কিন্তু আমেরিকার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। কোর্টে তারা (আমেরিকা) যে তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছে, সেখানে বেরিয়ে এসেছে সেই শফিক রেহমান, মাহমুদুর রহমানদের নাম।

তিনি বলেন, যারা ষড়যন্ত্রকারী তাদের জন্য মায়াকান্না। তাদের মনে এত ব্যথা কেন? এটা কী ধরনের সাংবাদিকতা? অপরাধীদের গ্রেপ্তার করলে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়। যারা ভিকটিম সেখানে মানবাধিকার হরণ হয় না? সেটা নিয়ে তোলপাড় হয় না। তাদের তো লজ্জা হওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হলে যদি অপরাধ হয়, তাহলে কোনো হত্যার বিচার হবে না। যারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমার মাঝে মাঝে প্রশ্ন জাগে, যখন আমার মা-বাবা, ছোট ভাইকে হত্যা করা হলো তখন ইনডেমনিটি দেয়া হলো সেই বিচার করা যাবে না। সেই বিচার আমরা করেছি। আমাদের কী কোনো মানবাধিকার নেই? আমাদের হত্যার ষড়যন্ত্র করলে আমরা বিচার করতে পারবো না? আওয়ামী লীগের কেউ হত্যার শিকার হলে অধিকার নেই। আমরা এটুকু বলতে চাই, আমরা কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দিই না। শেখ হাসিনা বলেন, আরেক শ্রেণি বেরিয়েছে কি? মুক্তচিন্তা। মুক্তচিন্তা যদি নোংরা ভাষায় লেখা হয় এটা কখনোই মুক্তচিন্তা নয়। এটা বিকৃত মানসিকতা। বাংলাদেশের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা লেখা আছে। প্রত্যেক ধর্মের মানুষ যার যার ধর্ম পালন করতে পারবেন। ইসলাম ধর্মেও সেই কথা বলা আছে। আমিও ধর্ম মানি। আমি যাকে মানি তার সম্পর্কে বিকৃত কথা লেখা হলে মানবো না। এমন মুক্তচিন্তা যে পড়তেও লজ্জা হয়, ঘৃণা হয়। এসব লিখে কোথায় নিয়ে যেতে চায় তারা দেশকে। মুক্তচিন্তা হলে রুচিশীল কথা লিখুক। বিকৃত লালসা লেখার অধিকার কারো নেই।

বিএনপি জামায়াত জোটের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির ইতিহাসটা কি? ২০০১-২০০৬ পর্যন্ত অপকর্মের কারণেই এক-এগারো এসেছিল। বিরোধী দলে থাকতে তারা নির্বাচন ঠেকানোর নামে মানুষ পুড়িয়ে মারলো। যারা রাজনীতি করে তারা মানুষের জন্য রাজনীতি করে পুড়িয়ে মারার জন্য নয়। ছোট শিশুকে পর্যন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে। তা ঘটিয়েছে বিএনপি-জামায়াত। তারা কিভাবে এ দেশের মানুষের সমর্থন পায়? যারা মানবাধিকারের কথা বলে, তারা কিভাবে এদের সঙ্গে দেখা করে? তাদের সঙ্গে দেখা করলেই তো পোড়া মানুষের গন্ধ পাওয়া যায়। কত পরিবার ধ্বংস করে দিয়েছে বিএনপি-জামায়াত জোট। তারা আসে এ দেশের মানুষকে ধ্বংস করতে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী এতিমের টাকা আত্মসাৎকারী, চক্রান্তকারী, ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার এ দেশের মাটিতেই হবে বলে জানান। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা এটা বিস্ময় নয়। যারা জাতির মুক্তির জন্য সংগ্রাম করে তারা যখন ক্ষমতায় আসে খুব স্বাভাবিকভাবে সে দেশের উন্নতি হবে। যারা স্বাধীনতা চায়নি, গণহত্যাকারী, তারা ক্ষমতায় থাকলে সে দেশের উন্নয়ন হবে না। এটাই স্বাভাবিক। বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ পিছিয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা অর্জনে ঐক্যবদ্ধ করেন। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তিনি ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। বঙ্গবন্ধু গ্রেপ্তার হলেও তার ভাষণের ওপর ভিত্তি করে এবং তার নির্দেশনা মতো এপ্রিলের ১০ তারিখে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। এরপর ১৭ই এপ্রিল সে সরকার শপথ নেয়। এই সরকার গঠনের মধ্য দিয়েই বিশ্বে স্বাধীন জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে বাঙালি।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, সাহারা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামসহ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মহানগর আওয়ামী লীগের সদ্য নির্বাচিত নেতারা।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4149938আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 3এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET