২৫শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার, ৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

‘জুলহাস-তনয় কিলিং মিশনে ৭ জন’

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : এপ্রিল ২৮ ২০১৬, ০১:০৬ | 669 বার পঠিত

11_24 নয়া আলো-

‘জুলহাস ও তনয় খুনের ঘটনায় ৭ জন সরাসরি অংশ নেন। আর ভবনের দ্বিতীয় তলায় জুলহাসের রুমে ঢোকেন ৪ জন, ভবনের মেইন গেটের ভেতরে ২ জন ঢুকে নিরাপত্তাকর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। আর একজন বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন’। ভবনের নিরাপত্তাকর্মী পারভেজ মোল্লা এই খুনের মিশনে আসা ৭জনকে দেখেছেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘ভবনের ওপরে যাওয়া ৪ জন দুর্বৃত্তের মাথায় ক্যাপ ছিলো। নীল রঙের গেঞ্জি প্যান্টের সঙ্গে ইন করা এবং পায়ে কালো জুতো ছিলো। আর দুর্বৃত্তরা ভেতরে ঢুকে ৪ থেকে ৫ মিনিট অবস্থান করেছিলেন’।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর কলাবাগানের ৩৫ লেক সার্কাস রোডের আছিয়া নিবাস ভবনের নিরাপত্তাকর্মী পারভেজ মোল্লা সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। ওই ভবনের ভাড়া বাসায় গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জুলহাস মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব রাব্বী তনয়কে কুপিয়ে খুন করে দুর্বৃত্তরা। এসময় দুর্বৃত্তদের হামলায় ভবনের নিরাপত্তাকর্মী পারভেজ মোল্লাও আহত হন। তার মাথা, কাঁধ ও হাত চাপাতির কোপের জখম হন। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তিনি হাসপাতাল থেকে ওই বাসায় গিয়েই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

দুপুরে তার শরীরে ও মাথার ক্ষতস্থানের ড্রেসিং করাতে বাসা থেকে বের হয়ে স্থানীয় একটি হাসপাতালে যান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

পারভেজ বলেন, ‘ঘটনার সময় আমাকে ভবনের দোতলায় থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তরা চাপাতি দিয়ে কোপ দেন। পরে আমি নিচে দৌড়ে চলে আসি। এময় নিচে থাকা বাকি তিনজনের মধ্যে একজন মেইন গেটের বাইরে ছিলেন। আর বাকি দু’জন গেটের ভেতরে ঢুকে যান। তাদের হাতে চাপাতি ও পিস্তল ছিলো। তারা দু’জন আমার মামা আব্দুর রহিম ও অন্য নিরাপত্তাকর্মী সুমনের সঙ্গে আমাকেও জিম্মি করে রাখেন’। আর তারা জানে মেরে ফেলার হুমকি দেন। তাদের সবার হাতে চাপাতি ছিলো। আর একজনের কাছে পিস্তল ছিলো’।

তিনি আরো বলেন, ‘বিকেলে চারজন লোক আসেন। তাদের হাতে দু’টি কার্টন ছিল। তারা আমাকে বলেন, জুলহাস স্যারের পার্সেল আছে, দিতে হবে। আমি বলেছি, ভাই আপনারা এখানে দাঁড়ান। আমি অনুমতি নিয়ে আসি। এরপর আমি গেটের সিটকানি লাগিয়ে দোতলায় যাই। জুলহাস স্যারের বাসায় কলিংবেল চাপি। স্যার দরজা খুললে আমি তাকে বলি, স্যার আপনার পার্সেল আইছে। তাকে কি আসতে দেবো, নাকি আমি পাঠিয়ে দেবো? এর মধ্যেই তারা চারজন আমার পেছনে পেছনে ওপরে আসেন। এসময় তাদের মধ্য থেকে একজন স্যারকে বলেন, আপনার একটি পার্সেল আসছে। তখন জুলহাস স্যার বলেন, আমার তো কোনো পার্সেল আসার কথা নাই, কে পাঠিয়েছে? এসময় একজন স্যারকে কি যেন একটা পার্সেলের নাম বলেন। এরপর আরো বললেন, আপনার গেস্ট পাঠিয়েছে। স্যার তখন বলেন, আমারতো এই নামে কোনো পার্সেল আসার কথা না। আর পার্সেল যদি আসেও, তাহলে আমি দেখে নেবো’।

‘জুলহাস স্যার আরও বলেছিলেন, আমি পার্সেল নেওয়ার আগে দেখতে হবে। কি আছে এটার ভেতরে?’ ‘এ কথা বলতে বলতে ওরা চারজন দরজা দিয়ে স্যারের রুমের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। এটা দেখে আমি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করি। ঠিক তখন একজন আমার বাম হাতে চাপাতি দিয়ে কোপ দেন। আমি বুঝতে পারিনি যে, আমার রক্ত বের হচ্ছে। তখন আমি দৌড়ে নিচে চলে আসি। আর ওই সময় আমি চিৎকারও করি। এ সময় বাড়ির অপর দারোয়ান সুমন ঘুমিয়ে ছিল। আর আমার মামা ম্যানেজার আব্দুর রহিম বাথরুমে ছিলেন। ততোক্ষণে দুর্বৃত্তরা স্যারের রুমে ঢুকে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়।

গত সোমবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, দুর্বৃত্তরা এ হত্যাকা- ঘটাতে সময় নেন ৫ মিনিট। আর এ কিলিং মিশনে অংশ নেন ৬ জন। আমরা ধারণা করছি, এটি টার্গেট কিলিং।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4157958আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 21এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET