৬ই জুলাই, ২০২০ ইং, সোমবার, ২২শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী

শিরোনামঃ-

“জনপ্রিয় হওয়ার কৌশল

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : ডিসেম্বর ০১ ২০১৯, ০০:০৩ | 811 বার পঠিত

“জনপ্রিয় হওয়ার কৌশল-

ওমায়ের আহমেদ শাওন”

দুনিয়াতে প্রায় সকলেই জনপ্রিয় হতে চায়। কিন্তু কিভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা যায়; তার প্রচেষ্টা করেনা। কিছু লোক চেষ্টা করেই যায়- ভাগ্য ক্রমে হোক আর চেষ্টার ত্রুটির কারণে হোক, তাদের সফলতা বিকশিত হয়না। জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য দু’টি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তা হলো- ক. আপনার নিয়তি খ. আপনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা। জনপ্রিয় ব্যক্তির সন্তান হয়ে আপনি পরিচয় লাভ করতে পারেন। তবে অনেক সময় সেক্ষেত্রে ভালো কাজ না করেও জনপ্রিয়তা পাওয়া যায়- সেটা আপনার নিয়তি।

আপনার জন্ম একদম নিম্ন শ্রেণির মানুষের ঘরে হলে আপনি সহজে পরিচয় লাভ করতে পারবেন না। তবে সেক্ষেত্রে অনেক সময় প্রচেষ্টার মাধ্যমেও জনপ্রিয়তা পাওয়া যায়- সেটা আপনার ঐকান্তিক চেষ্টার মধ্যে পড়ে। কোন রাজনৈতিক কারণে পরিচয় পাওয়াকে জনপ্রিয়তা বলে না। আপনি অর্থ-সম্পদ, প্রভাব-প্রতিপত্তি, বংশ-গৌরব কিংবা ক্ষমতার দাপটে পরিচয় লাভ করতে পারেন। কিন্তু সমাদৃত হওয়াটাই জনপ্রিয়তা নয়। সাধারণত তিনটি ধাপে জনপ্রিয়তার প্রভাব বিস্তার লাভ করে। যেমন- ক. নাস্তিকতা ভাবাপন্ন খ. চাটুকারিতা গ. প্রতিবাদী হওয়া। কোন দিক থেকে জনপ্রিয় হতে চান, সেটা আগে চিহ্নিত বা সিলেক্ট করুণ। প্রথমত, নাস্তিকতা ভাবাপন্ন হলেই কেবল আপনি বিতর্কের মধ্যে আসতে পারবেন। উদাহরণস্বরূপ- সৃষ্টিকর্তা বলে কেউ নাই, ধর্ম বলে কিছু নাই, দুনিয়াতে সবকিছু মানুষের তৈরী, ভবিষ্যতে বিজ্ঞান আরো উন্নত হলে মানুষ আরেকটা পৃথিবী বানাতে সক্ষম হবে; মানুষ মানুষ তৈরী করতে পারবে, গাছপালা-প্রাণীকূল তৈরী করতে পারবে। নতুবা বলতে পারেন, সবকিছু কোন কারণ ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে; এই জাতীয়।

নাস্তিকরা উদ্দেশ্যগত ভাবে ধর্মের বিরোধিতা করে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পথ খোঁজে। মানুষ মাঝে জনপ্রিয়তা পাওয়ার নেশা বা লোভ কাজ করলেও নাস্তিকতার পথ অবলম্বন করতে পারে। তারা বিতর্কের কার্যকলাপ বেশী করে। বিতর্কিত বিষয় বলতে- কেউ যদি গাছকে গাছ বলে, তারা সেটাকে বলবে পাখি; আবার কেউ যদি পাখিকে পাখি বলে তারা বলবে মানুষ। মূর্খরা নাস্তিক হতে পারে আবার একগাদা ক্লাসের বই পড়ে সার্টিফিকেট নেওয়া লোকও নাস্তিক হতে পারে। তাদের মত ইচ্ছাকৃত-দ্বিমূখী মনোভাব অর্থাৎ অদ্ভুত, অবাস্তব, গোঁড়ামি কথাবার্তা বলেও নাস্তিক সমাজে আপনি জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেন। তবে সমস্যা হলো, তারা যে আধুনিকতা ও বিজ্ঞানের দোহাই দেয়; সেসব বিশ্লেষণ করলে তারাই অজ্ঞতার প্রমাণ দেয়। কোনকিছু এমনি এমনি সৃষ্টি হয়নি। সে ব্যাপারে আপনি স্টিফেন হকিং -এর “দি গ্রান্ড ডিজাইন” ও মরিস বুকাইলি -এর “বাইবেল, কোরআন ও বিজ্ঞান” বইটি পড়লে কিছুটা বুঝতে পারবেন। অপরদিকে বার্টান্ড রাসেল -এর “কেন আমি ধর্মবিশ্বাসী নই” বইটি পড়ার পড় যদি জ্ঞান দিয়ে, সচেতনতা দিয়ে, বিবেক দিয়ে বিবেচনা করেন তাহলে নাস্তিকতার ছাপ কখনো আপনার মস্তিষ্কে জেঁকে বসবে না।

নাস্তিক হয়ে সাময়িক ভাবে নাস্তিক সমাজে হয়তো জনপ্রিয় হয়ে উঠবেন; তবে সুবোধ সমাজে হতে হবে চরম ঘৃণিত। নাস্তিকতার খোলসে আবৃত করে নিজেকে পরিচিত করে তোলা যায়, কিন্তু পরিশুদ্ধ জনপ্রিয় হওয়ার স্বাদ পাওয়া যায় না। দ্বিতীয়ত, বিশেষ কোন রাজনৈতিক গোষ্ঠী বা দলের চাটুকারীতা করেও আপনি জনপ্রিয় হবার স্বপ্ন দেখতে পারেন। নিয়মিত তাদের প্রোগ্রামে গিয়ে নিজেকে ফলো-আপ করুন। তাদের নিয়ে আলোচনা, প্রচার-প্রচারণা ও বইয়ের পর বই লিখে যান। তারা যদি মারাত্মক ভুলও করে প্রতিবাদ না করে সে বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটে সেটাকে মারাত্মক সত্য বলে প্রচার করুন। রাজনীতিক ভাবে পা চাটার ক্ষেত্রে কোন সরকার বা শাসকের মূর্তি-ভাস্কর্য-পেন্টিং বিভিন্ন জায়গায় আপনার সৌজন্যে স্থাপন করতে পারেন। অথবা তার উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন অঞ্চলে দোয়া মাহফিল বা দীর্ঘজীবি হওয়ার আশীর্বাদ অনুষ্ঠান করতে পারেন। এছাড়াও ছোট-ছোট উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বড়-বড় সেমিনার-কনফারেন্স আয়োজন করে পত্র-পত্রিকা, টিভি চ্যানেল ও সোস্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্ক সাইট গুলোতে প্রচার করতে থাকুন।

দেখবেন, আপনার গতানুগতিক চাটুকারিতাই সেই দল বা গোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ পদ এনে দিবে। তখন আপনি নিজেকে সেলিব্রিটি বা জনপ্রিয়তার শীর্ষ মনে করতে পারবেন। তবে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করে বিভিন্ন ধরনের সুবিধাবাদী ভোগ করতে পারলেও জ্ঞানী ও নৈতিকতার সমাজে হতে হবে চরম ঘৃণিত। তখন তাদের নিকট থেকে থুতু পাওয়ার তকমা নিতে পারবেন। তৃতীয়ত, প্রতিবাদী হয়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা অনেক কঠিন বিষয়। মানবতা, নীতি-নৈতিকতা, সততা এসব নিয়ে জনপ্রিয় হতে চাইলে আপনার পরিচিতি কেউ সহজে প্রকাশ করতে চাইবে না। যত ভালো কাজেই করেন, মানুষ প্রথমত সেটাকে উড়িয়ে দিতে চাইবে। প্রতিবাদী হওয়ার এই ধাপে পরিচিতি পাওয়াই কষ্টকর; তারপর জনপ্রিয়তার চিন্তা। যদি আপনি শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাওয়ার ইচ্ছে পোষণ করেন তাহলে সফলতাই আপনার জন্য অপেক্ষা করবে। সৎপথে চলতে গেলে বাকরুদ্ধ, কারারুদ্ধ, নির্যাতনের স্বীকার হওয়াটা স্বাভাবিক ব্যাপার। এসব ভীতি উপেক্ষা করে কন্টিনিউ প্রচেষ্টা করে গেলে একদিন মানুষের অন্তরে ভালোবাসার দাগাঙ্কিত করে জায়গা নিতে পারবেন। হিংসা এবং অহংকারমুক্ত মনোভাব নিয়ে কেবলমাত্র তো মানবিক লোকেরাই কাজ করে। সঠিক বিষয়কে মিথ্যে প্রমাণিত করে শিক্ষিত নামের কলঙ্ক বয়ে বেড়ানোর কোন প্রয়োজন নেই। মনে রাখবেন, এই ধাপ অবলম্বন করে যত ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠবেন ততই সাধারণ মানুষদের অন্তকরণে দীর্ঘস্থায়ী ভালোবাসা ও সত্যিকার অর্থে প্রশংসার যোগ্য মহান মানুষ হয়ে টিকে থাকতে পারবেন। (উল্লেখিত নিবন্ধটি লেখকের সম্পূর্ণ নিজস্ব গবেষণা প্রসূত; কোন অভিযোগ গ্রহনযোগ্য নয়)

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 3939314আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 13এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET