২১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩রা রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

জঙ্গি হামলার ঘটনায় সংসদে নিন্দা প্রস্তাব

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : জুলাই ২০ ২০১৬, ০০:১৫ | 624 বার পঠিত

23406_b2নয়া আলো- গুলশান, শোলাকিয়াসহ পবিত্র নগরী মদিনা ও ফ্রান্সের নিস শহরে সন্ত্রাসী জঙ্গি হামলায় দেশি-বিদেশি নাগরিক নিহত হওয়ায় এবং বিশ্বব্যাপী সংঘটিত জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জাতীয় সংসদে নিন্দা প্রস্তাব পাস হয়েছে। এই প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার ও বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা এসব জঙ্গি-সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করে বলেছেন, খালেদা জিয়া জঙ্গিদের মাধ্যমে রক্তাক্ত অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সরকার উৎখাত করতে চেয়েছিলেন। বিএনপি-জামায়াত জঙ্গির দল, তাই এদের সঙ্গে কোনোদিন ঐক্য হবে না, হতে পারে না। তারা অগ্নিসন্ত্রাসকারী, জ্বালাও-পোড়াওকারীদের বাদ দিয়ে প্রগতি, মানবতা ও শান্তির পক্ষের সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে দ্রুত জাতীয় সংলাপ করারও আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে জঙ্গি হামলার মাধ্যমে সরকার উৎখাতের চেষ্টা করা হয়েছিল কিনা সেজন্য এমপিদের নিয়ে একটি সংসদীয় তদন্ত দল গঠনের প্রস্তাব করা হয়। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কার্য প্রণালী-বিধির ১৪৭ বিধি অনুযায়ী সাধারণ আলোচনার প্রস্তাব আনেন সরকারি দলের শেখ ফজলুল করিম সেলিম। আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের আবদুল মান্নান, ডা. দীপু মনি, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, হুইপ শহীদুজ্জামান সরকার, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, ড. হাছান মাহমুদ, ফজিলাতুননেসা বাপ্পি, জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, জাতীয় পার্টির জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, বিএনএফ’র আবুল কালাম আজাদ, স্বতন্ত্র সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী প্রমুখ। প্রস্তাব উত্থাপন করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, এই হামলার সময় লন্ডনে থাকা তারেক জিয়া পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ফোন করে কথা বলেছেন। আর খালেদা জিয়া ঘটনার নিন্দা না করে বলেছেন সরকার নাকি ব্যর্থ হয়েছে!  পরোক্ষভাবে খালেদা জিয়া এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি-না, বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য গোয়েন্দা সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সব সন্ত্রাসী বা জঙ্গি হামলা একই সূত্রে গাঁথা। এরা একাত্তরের পরাজিত শক্তি পাকিস্তানের এজেন্ট। ঘটনার পর খালেদা জিয়া বলেন, রক্তাক্ত অভ্যুত্থান হয়েছে। তবে কী খালেদা জিয়া জঙ্গিদের নিয়ে রক্তাক্ত অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সরকার উৎখাত করতে চেয়েছিলেন? তিনি বলেন, একাত্তরের স্টাইলে এখনও বিএনপি-জামায়াত সারা দেশে গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। এরা জঙ্গি সংগঠন। এদের সঙ্গে কোনোদিন কোনো ঐক্য হতে পারে না। তাই যতই ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করা হোক না কেন, বাংলাদেশের মাটিতে কোনো জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের ঠাঁই হবে না। এদের নির্মূল করা হবেই হবে। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সব জঙ্গি-সন্ত্রাসী হামলার জন্য বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করে বলেন, বর্বরতার কাছে আমরা কোনোদিনই মাথা নত করবো না, জীবনের চাকা থামাতে পারবে না। গুলশান ও শোলাকিয়ার হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিএনপি-জামায়াত চক্র ও খালেদা জিয়া অস্বাভাবিক সরকার আনতে দীর্ঘদিন ধরেই ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন। অতীতের সকল ঘটনার সঙ্গে গুলশানের ঘটনাও একইসূত্রে গাঁথা। আগুনযুদ্ধে পরাজিত হয়েই প্রথমে গুপ্তহত্যা এবং পরে বিদেশি হত্যার ঘৃণ্য পথ তারা বেছে নিয়েছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যখন দেশকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যাচ্ছেন, যাদুকরী উন্নয়নের পথে দেশকে ধাবিত করছেন- ঠিক তখনই খালেদা জিয়া সরকার উৎখাতে এই ঘৃণ্য পথ বেছে নিয়েছেন। এখন জঙ্গিবাদ দমনের যুদ্ধ চলছে। আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মান্নান বলেন, যে দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক গভীর, সেই দেশের নাগরিকদেরই হত্যা করা হয়েছে। ধর্ম বা আদর্শ নয়, হামলাকারীদের মূল উদ্দেশ্যই ছিল বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করা। একমাত্র শেখ হাসিনাই পারবেন এসব সন্ত্রাস-জঙ্গি দমন করতে, অন্য কেউ নন।
জাতীয় পার্টির জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম মর্মন্তুদ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সন্ত্রাস প্রগতি, উন্নয়ন, মানবতা ও শান্তির শত্রু। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিতভাবেই এদের নির্মূল করতে হবে। এই ঘটনায় জাতীয় ঐক্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অগ্নিসন্ত্রাসকারী, জ্বালাও-পোড়াওকারীদের বাদ দিয়ে যারা প্রগতি, শান্তি ও প্রগতির পক্ষে তাদের নিয়ে জাতীয় সংলাপে বসার জন্য তিনি সরকারের কাছে জোর দাবি জানান। ডা. দীপু মনি বলেন, পৃথিবীর সকল দেশই কোনো না কোনোভাবেই জঙ্গি হামলায় আক্রান্ত হয়েছে। তবে গুলশানের হামলার ঘটনাই প্রথম নয়, ২১শে আগস্ট ভয়াল গ্রেনেড হামলাসহ বহু হামলা ঘটেছে। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিএনপির মদদে জামায়াত জঙ্গি-সন্ত্রাসী হামলার পৃষ্ঠপোষকতা, অর্থায়ন ও মদত দিচ্ছে। সরকার ও জনগণের ঐক্য হয়ে গেছে। জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের কারখানা, পৃষ্ঠপোষক ও ব্যবহারকারীদের সঙ্গে ঐক্যের কোনো প্রশ্নই উঠে না।
লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, জঙ্গি-সন্ত্রাসী শুধু বাংলাদেশে নয়, বৈশ্বিক সমস্যা। এ পর্যন্ত প্রায় ৭২ হাজার জঙ্গি-সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে, তার অধিকাংশই হয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে। বিএনপি-জামায়াতই হচ্ছে বাংলাদেশে জঙ্গি-সন্ত্রাসের প্রবক্তা, লালন-পালনকারী। এদের ঐক্যবদ্ধভাবেই মোকাবিলা করতে হবে। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, যারা ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করছে, তারা ইসলাম, মানবতা, রাষ্ট্র ও জাতির শত্রু। এরা এজিদের অনুসারী। হামলাকারী ও হত্যাকারী যেসব  জঙ্গি-সন্ত্রাস ধরা পড়ছে, তারাই হচ্ছে বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের লোক। রাজনৈতিক উদ্দেশে এই জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করা হচ্ছে।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4149932আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 3এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET