৩০শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য হয়ে গেছে: প্রধানমন্ত্রী

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : জুলাই ১৮ ২০১৬, ০২:৩৪ | 610 বার পঠিত

23096_f1নয়া আলো ডেস্ক-দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে জাতীয় ঐক্য হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, যারা যুদ্ধাপরাধী, মানুষ পুড়িয়ে মারে তাদের বক্তব্য ভিন্ন। সত্যিকার অর্থে যারা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সমর্থন করে না তাদের মধ্যে ঐক্য হয়ে গেছে। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক মঙ্গোলিয়া সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গুলশান ও শোলাকিয়া সন্ত্রাসী হামলা এবং এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মঙ্গোলিয়ায় অনুষ্ঠিত আসেম সম্মেলনে অংশ নেয়ার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থান বিষয়ে দেশটির জনগণের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তুরস্কের জনগণ অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে প্রমাণ দিয়েছে- জনগণই মূল শক্তি। গুলশানে সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগের আসেম সম্মেলনে আমরা গলা উঁচু করে কথা বলতে পেরেছি। এবার এ ঘটনা একটা ছেদ এনে দিল। সবাই আমাদের প্রশ্নবোধক চিহ্নে ফেলে দিল। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম মঞ্চে ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার পর বিভিন্ন পক্ষ থেকে বৃহৎ জাতীয় ঐক্যের দাবি উঠছে এ বিষয়ে সরকার প্রধান হিসেবে বক্তব্য জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাদের ঐক্য হলে সত্যিকারভাবে সন্ত্রাস দূর করা যাবে, তাদের ঐক্য কিন্তু ঠিকই গড়ে উঠেছে এবং এই ঐক্য থাকবে। তিনি বলেন, ‘সাপ হয়ে দংশন করে ওঝা হয়ে ঝাড়া’ আর চলবে না।
একজন সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান- বিএনপি সন্ত্রাসবিরোধী ঐক্য এবং আলোচনা চাইছে। তারা বলছে, জাতীয় ঐক্য না হলে সন্ত্রাস বন্ধ হবে না। তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসলে উগ্রবাদ বন্ধ হবে কি-না? জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমারও মনে এই প্রশ্নই জাগে যে, তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসলে সন্ত্রাসবাদ বন্ধ হবে? অর্থাৎ, আলোচনা না করলে তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মদত দিয়ে যাবে- এটাই বোধ হয় বলতে চাইছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ রোধে ইতোমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। গ্রাম পর্যন্ত কমিটি করা হয়েছে। মসজিদের ইমাম, স্কুল-কলেজের শিক্ষক, সবাইকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের সন্ত্রাসী হামলা বিশ্ব গণমাধ্যমে নেতিবাচকভাবে প্রচার হয় এবং বিশ্ব নেতৃবৃন্দও এ নিয়ে তুলনামূলক বেশি প্রতিক্রিয়া দেখান। একজন সাংবাদিকের এমন বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সত্যি কথা বললে এটি আমাদের এখান থেকেই বেশি প্রচার করা হয়। কোনো ঘটনা ঘটলে বিশ্ব মিডিয়ায় তা দেখানো হয়। কিন্তু আমাদের মিডিয়া তো হাত কাটা, পা কাটা দৃশ্য দেখায়। একটি অভিযানের আগে কি হচ্ছে, কোথায় কে দাঁড়াচ্ছে তা দেখায়। এতে তো অপরাধীরা সব জেনে যাচ্ছে। আমাদের মিডিয়ার দোষটা কাকে দেব?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন দেখা যাচ্ছে উচ্চবিত্তের সন্তানরা, যারা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে তারা জঙ্গিবাদে ঝুঁকছে। তাদের কোনো ধরনের চাহিদা নেই। সব চাহিদা পূর্ণ। তারা খুন-খাবারিতে জড়াচ্ছে। তারা মনে করে এসব করে হুরপরি পেয়ে যাবে। যারা এসব করছে তাদের সাইকোলজি কি? মানুষ খুন করলে বেহেস্তের দরজা খুলবে- তাদের, যারা এ শিক্ষা দিচ্ছে তারা ভুল পথে আছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের সমস্যা শুধু আমাদের সমস্যা না। উন্নত দেশগুলোতেও তা হচ্ছে। তাই এক্ষেত্রে একে অন্যকে সহযোগিতা করতে হবে। তথ্য বিনিময় করতে হবে। আসেম সম্মেলনে এটিই আমি বলেছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাকেও বলেছি, তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে। কারণ তাদের কাছে উন্নত প্রযুক্তি আছে। সন্ত্রাসী ঘটনার পর অনেকটা টেকনিক্যাল টেস্ট করতে হয়। অস্ত্র কোথা থেকে আসছে, ডিলার কারা। তারা অর্থ পায় কোথা থেকে তা-ও জানতে হচ্ছে। আর এসব করতে হবে মিলিতভাবে।
গুলশানের ঘটনার পর নিহত জঙ্গি আকাশ, বিকাশ, ডন- এমন নামে পরিচয় প্রকাশ করেছিল। পরে ফেসবুকে তাদের আসল পরিচয় বেরিয়ে আসে। এতে পুলিশের এক ধরনের অস্বীকার প্রবণতা রয়েছে বলে অনেকে মনে করে। এ বিষয়টিকে আপনি বিভাবে দেখেন?  একজন সাংবাদিকের এ প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা প্রতিনিয়ত নাম পরিবর্তন করে। তাদের ছবি প্রকাশের পর নানাভাবে আসল পরিচয় এসেছে। এক্ষেত্রে পুলিশ কিছু লুকাতে চায়নি। এখানে কেউ কিছু অস্বীকার করছে না। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুলশানের ঘটনায় আমরা সম্মান যে একেবারে হারিয়ে ফেলেছি, তা নয়। এমনটি হলে তো সবাই সম্মান হারিয়ে ফেলবে। কারণ এখন সবখানেই এ ধরনের হামলা হচ্ছে। ফ্রান্সে, বৃটেনে, যুক্তরাষ্ট্রে হামলা হচ্ছে।
ভারতের একটি ইংরেজি দৈনিকের সাংবাদিক জানতে চেয়েছিলেন- সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলাগুলোর তদন্ত কোন পর্যায়ে আছে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তদন্তের সব কথা বলা যাবে না। যতটুকু বলা প্রয়োজন, ততটুকু বলা হচ্ছে। তদন্তের অনেক ধাপ থাকে। খুঁজে খুঁজে সব বের করা হচ্ছে। সব বের করলে নিজেরা তাজ্জব হয়ে যাবেন। যতটুকু প্রচার করা যায় ততটুকুই প্রকাশ করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আতঙ্ক সৃষ্টিই তাদের উদ্দেশ্য ছিল। মানুষের জীবন কিন্তু চলমান। মঙ্গোলিয়ায় থেকেই আমি খবর পেলাম শপিং মলে হামলা হতে পারে এমন গুজব রয়েছে। মানুষের নিরাপত্তা দিতে ও আতঙ্ক দূর করতে সরকারের পক্ষে যা যা করার দরকার করা হচ্ছে। তবে প্রত্যেককে নিজস্ব জায়গা থেকে সতর্ক হতে হবে। আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলতে হবে। সবাইকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে। আর সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে।
সন্ত্রাস মোকাবিলার বিষয়ে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ যোগাযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওখানে কেউ আশ্রয় নিলে ভারত ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করছে। আমাদের এখানে কেউ আশ্রয় নিলে আমরা ফিরিয়ে দিতে সহযোগিতা করছি।
আসেম সম্মেলনের বিষয়ে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্মেলন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগে ফ্রান্সের নিসে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে নিরীহ অনেক মানুষকে হত্যা করা হয়। বিশ্ব সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বাংলাদেশও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। এরপর সম্মেলন চলাকালে শুক্রবার রাতে তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা করা হয়। আমরা সেটারও নিন্দা জানাই। কারণ বাংলাদেশ সব সময়ই অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধে। তিনি জঙ্গিবাদ বিষয়ে সরকারের অবস্থানের কথাও আসেমে বলেছেন বলে জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসেমে অংশ নিয়ে আমি জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা বিশ্বনেতাদের জানিয়েছি। কেবল তাই নয়, বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসে মদতদাতা, অর্থদাতা ও প্রশিক্ষণদাতাদের খুঁজে বের করতে হবে। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ এখন কেবল বাংলাদেশের নয়, বৈশ্বিক সমস্যা। এ বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবিলায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বসমপ্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারও। শেখ হাসিনা তার সফর সম্পর্কে বলেন, সেখানে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনঝো আবের সঙ্গে তার বৈঠক হয়। মেদেভেদেভের সঙ্গে বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। তাকে ও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানোর কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। আর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য উন্নয়নের বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার কথা জানান তিনি। বৈঠক হয় ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও। গুলশান ?হামলায় ইতালি ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কে কোনো ঘাটতি হবে না বলে তিনি জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসেম সম্মেলনে জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মারকেল, সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট, মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্ট, বেলাজিয়াম, ইন্দোনেশিয়া ও সাইপ্রাসের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানদের সঙ্গেও আমার সাক্ষাৎ হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জার্মান চ্যান্সেলর এর সঙ্গে বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়নের অভিজ্ঞতা বিনিময় হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, গত ১৫ই থেকে ১৬ই জুলাই এশিয়া-ইউরোপ মিটিং (আসেম) এর ১১তম শীর্ষ সম্মেলন মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলান বাটরে অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4166175আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 11এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET