২৩শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৫ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

চেয়ারম্যানের ব্যালট দেখেননি ভোটাররা

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : মে ০৮ ২০১৬, ০২:০১ | 669 বার পঠিত

13134_b5 নয়া আলো-

চেয়ারম্যানের ব্যালট চোখে দেখেননি ভোটাররা। তারা হাতে পেয়েছেন শুধু সদস্য প্রার্থীদের ব্যালেট। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর ও আখাউড়া উপজেলার ১৫ ইউনিয়নে গতকাল ভোটের চিত্র ছিল এমনই। চলে কেন্দ্র দখলের উৎসব। আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা বিভিন্ন বুথে ঢুকে নৌকার ভোট প্রকাশ্যে নেয়ার নির্দেশনা দেন। কোনো কোনো কেন্দ্রে পুলিশ ও ভোটগ্রহণের দায়িত্বপ্রাপ্তরাই দরজা বন্ধ করে সিল মারেন। একটি কেন্দ্রে এক সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারকে প্যান্টের পকেটে ব্যালেট বই লুকিয়ে রাখতে দেখা গেছে। এমনি পরিস্থিতিতি ভোট শুরুর দেড় ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচন বর্জনের হিড়িক পড়ে। অন্তত ১০টি ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জন করেন।
এদিকে বিজয়নগরের পত্তন ইউনিয়নের আদমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ওই এলাকা। সংঘর্ষে আহত হন ৩০ জন। একজনের পেটে তীর বিদ্ধ হয়। সকাল ১০টার এ ঘটনার পর বেলা ১টা পর্যন্ত ওই কেন্দ্রে অবস্থানকালীন ভোট চালু হয়নি। প্রিজাইডিং অফিসারের কক্ষে ভোট গ্রহণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সবাইকে ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায়। কেন্দ্রটিতে ঘটনার পরপর ছুটে আসেন জেলা প্রশাসক ড. মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ও পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান। তারাও অবস্থান নেন প্রিজাইডিং অফিসারের কক্ষের সামনে। হামলাকারীরা কেন্দ্র থেকে ব্যালেট বই ও সিল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান- সকাল ১০টায় আদমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে যায় ডালিম নামের এক যুবক। রতন ভাইকে নৌকায় ভোট দিন লেখা গেঞ্জি পরিহিত হারুন নামের এক লোক তাকে বাধা দেয়। একপর্যায়ে হারুন ডালিমকে ঘুষি মারে। শুরু হয় হৈহুল্লা। মুহূর্তের মধ্যে কেন্দ্রের সামনে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থী আবদুল হাকিম ও শিশু মিয়ার সমর্থকরা ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। কেন্দ্রসংলগ্ন চান্দুরা-আখাউড়া সড়কে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ সময় পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটের শব্দে কেন্দ্রের ভিতরে ও বাইরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দেড় ঘণ্টা স্থায়ী সংঘর্ষে তীরবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন মস্তু ভূইয়ার ছেলে জাকির ভূইয়া (৩২)। এ ছাড়া উভয়পক্ষের আরো ৩০ জন আহত হন। এই সুযোগে নৌকার সমর্থকরা জোর করে ভোট ছাপাতে শুরু করে। ধস্তাধস্তি করে তারা সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের কাছ থেকে ৬টি ব্যালট বই ও ৯টি সিল ছিনিয়ে নেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। তাদের সঙ্গে আসে বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের স্ট্রাইকিং ফোর্স। ঘটনার আগ পর্যন্ত এ কেন্দ্রে ২১১৮ ভোটের মধ্যে ৯শ ভোট কাস্ট হয়েছে। দুপুর ১টা পর্যন্ত কেন্দ্রে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের লোকজনকে ভোট গ্রহণ বন্ধ করে অসহায় ভাবে বসে থাকতে দেখা গেছে। আরেকটি কক্ষে ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকা লোকজন ব্যালেট বাক্সসহ আনুষঙ্গিক নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে বসে থাকেন। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার লুৎফুর রহমান চৌধুরী বলেন, হঠাৎ করে বাইরে গণ্ডগোল শুরু হয়। গুলির শব্দ পাই। এরপর আতঙ্কিত হয়ে দরজা বন্ধ করে বসে থাকি।
এদিকে সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরুর এক ঘণ্টা পরই বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বিএনপি প্রার্থীদের এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ আসতে শুরু করে। অভিযোগ আসে ব্যালেট পেপার ভোটারদের হাতে না দেয়ার। বুধন্তি ইউনিয়নের কাজী রফিকুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোশাররফ হোসেন খান অভিযোগ করেন এই কেন্দ্রে জনগণ ভোট দিতে পারছে না। চেয়ারম্যানের ব্যালেট নৌকার এজেন্ট দুলাল মিয়া নিয়ে যাচ্ছে। ৮২৫ নম্বর ভোটার খায়রুল বাশার বলেন, আমি চেয়ারম্যানের ব্যালেট পাইনি। ইউপি সদস্য প্রার্থীদের ব্যালেট পেয়েছি। আরো কয়েকজন ভোটার মেম্বার প্রার্থীর ভোটই দিয়ে গেছেন শুধু। এই কেন্দ্রের ২ নম্বর বুথে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর এজেন্ট নাসির উদ্দিন খান বলেন, দুলালের নেতৃত্বে নৌকার লোকজন ভোটারদের হাত থেকে ব্যালেট কেড়ে নিয়ে প্রকাশ্যে নৌকায় সিল মারছেন। এই ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী মো. জিয়াউদ্দিন খান নয়ন অভিযোগ করেন শশৈ ইসলামপুর, আলীনগর, বারঘড়িয়া, বুধন্তি, সেমরা, কেনাসহ সব কটি কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে এবং চেয়ারম্যানের ব্যালেট কেড়ে নেয়া হচ্ছে। তিনি এই পরিস্থিতিতে সোয়া ১০টার দিকে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। বিষ্ণপুর ইউনিয়নের দুলালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা বিভিন্ন বুথে গিয়ে নৌকার ভোট প্রকাশ্যে নেয়ার কথা বলেন। তারা বলেন, এখানে নৌকার ব্যাপারে সবাই একমত। তাই ওপেন নেয়ার কথা বলছি। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা বলার সময় সেখানে আসেন একটি বুথের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার মাহমুদুন নবী। তিনি প্রিজাইডিং অফিসারকে বলেন, আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এখন আমি কি করব। আমার সামনে তারা সিল মারবে কি করে। এর পরই প্রিজাইডিং অফিসার স্ট্রাইকিং ফোর্স আসার জন্য ফোন করেন। গনেশামপুর দারুল উলুম মাদরাসা কেন্দ্রে ভোট দিতে পারেননি অনেকেই। বেলা ১১টায় কেন্দ্রে প্রবেশের মুখে এগিয়ে আসেন বৃদ্ধা সৈয়দা বানু। তিনি বলেন, তাকে পুলিশ লাঠি দিয়ে গুতা মেরে বের করে দিয়েছে। আরেক ভোটার হনুফা বলেন, এমন আলামত জীবনে দেখিনি। কোনো সময় কেন্দ্রের দরজা বন্ধ করতে দেখিনি। কেন্দ্রটিতে গিয়ে দেখা গেছে একেবারে ফাঁকা। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আবুল কালাম আজাদ তার কক্ষে ফোনে খোশগল্পে মত্ত। পুলিশ-আনসার সদস্যরা শুয়ে বসে আছেন পাটিতে। কেন্দ্রের একটি বুথে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার মোনায়েম চৌধুরী ব্যালেট বই তার পকেটে ঢুকিয়ে বসে থাকেন। প্রিজাইডিং অফিসার তার ব্যালেট বই কই বলার পর সে পকেট থেকে সেগুলো বের করে। প্রিজাইডিং অফিসার তাকে বলেন, দেখেননি সাংবাদিক এসেছে। বুথে অবস্থান করতে দেখা যায় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা হামদু মিয়াকে। এ কেন্দ্রটি বন্ধ করে ভোট ছাপানোর অভিযোগ করেন বিএনপি প্রার্থী অলিউল্লাহ ভূইয়া। তিনি বলেন, চৌধুরী বাড়ি, চতুরপুর, দুলালপুর, রূপা, গনেশামপুর কেন্দ্রে প্রশাসন ও গুণ্ডাবাহিনী ব্যালেটে সিল মেরেছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী জামাল উদ্দিন ভূইয়া এর নেতৃত্ব দেন। বিজয়নগর উপজেলার ১০ ইউনিয়নের বেশিরভাগ কেন্দ্রই ছিল ভোটারশূন্য। ১১টার মধ্যেই ভোটগ্রহণ সারা হয়ে যায়। আখাউড়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়নেও চলে একই ধরনের অনিয়ম। ফলে সকাল থেকে একে একে বিএনপি প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিতে থাকেন।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4152527আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 2এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET