২রা জুন, ২০২০ ইং, মঙ্গলবার, ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • প্রবাস জীবন
  • ঘটনা প্রবাহ লিবিয়া-৪।। টাকা পাঠানোর নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র

ঘটনা প্রবাহ লিবিয়া-৪।। টাকা পাঠানোর নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : এপ্রিল ২৬ ২০১৭, ২০:৩৬ | 704 বার পঠিত

অর্পণ মাহমুদ,বিশেষ প্রতিনিধি-

লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব পেজ ও সেখানে বসবাসরত বেশ কিছু বাংলাদেশী দালালদের মাধ্যমে দেশে টাকা না পাঠানোর বিষয়ে বছর তিনেক ধরেই সতর্ক করে ফেসবুকে পোষ্ট দিয়ে সচেতন করে চলেছে । তবুও টাকা পাথানোর নামে দালালদের হাতে দিনার একের পর এক প্রতারণার শিকার হচ্ছে প্রবাসীরা । অনেকেই আছেন যারা দালালদের টাকা দিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে পরিবারের কথা চিন্তা করে সহকর্মিদের কাছে থেকে দিনার ধার নিয়ে টাকা পাঠানোর নামে বার বার প্রতারণার শিকার হয়েছে এমন প্রবাসীর সংখ্যাও এখন কম নয় লিবিয়াতে । এখন সহ কর্মিদের ধারের বোঝা বয়ে বেড়াতে হচ্ছে মাসের পর মাস । অপর দিকে পতারণার ফাঁদ ফেতে দেশে টাকা প্রেরনের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতারকরা লাপাত্তা হয়েছে । লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে ঐ সব প্রতারকদের বিরুদ্ধে ভূক্তভোগীরা একাধিকবার অভিযোগ করলেও ওই সব প্রতারকদের ধরার ব্যপারে দূতাবাসের তেমন আগ্রহ চোখে পড়েনি । আর কেনই বা প্রতারকদের বিরুদ্ধে জোরালো কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না সে প্রশ্ন এখন সেখানে বসবাসরত প্রবাসীদের মুখে মুখে ।যে কারনে প্রতারকদের দৌড়াত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। লিবিয়া থেকে দেশে টাকা পাঠানোর নামে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে ৩ বছরে প্রায় ২ ডজন প্রতারক লাপাত্তা হয়েছে । এদের মধ্যে বরিশাল উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়ের সাতলা সাচ্ছিমিল্লা গ্রামের শাজাহান খানের ছেলে ওমর খান, তার ভাই ফুয়াদ হোসেন,রংপুরের মিঠাপুকুর বালার হাটের ইমাদপুর গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে জুয়েল হোসেন , নারায়নগঞ্জ জেলার কাচ পুরের জাহিদ হোসেন, ঢাকার মুরাদ হোসেন, আব্দুল কাদের,নরসিংদ্দির হাশেম আলী, বগুড়া গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামের আজিম উদ্দুনের ছেলে রাজু মিয়া, যশোরের আমির হোসেনের ছেলে আব্দুর রহমানসহ বেশ কয়েক জন প্রতারক । লিবিয়া থেকে দিনার নিয়ে দেশে টাকা প্রেরনের নামে প্রতারনা করে লাখ লাখ দিনার নিয়ে লাপাত্তা এই সব প্রতারক । এদের মধ্যে ওমর আলী, তার ভাই ফুয়াদ, হাশেম আলী, মুরাদ পালিয়ে দেশে ফিরেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চত হয়েছেন ভূক্তভগীরা । আর এই সব প্রতারকরা দেশে ফিরে স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে দাপ্টের সাথেই চলাফেরা করছে এবং তাদের কাছে পাওয়া টাকা চেয়ে উলটো হুমকি ধামকি পেতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা । সর্বপ্রথম লিবিয়ার আল জাওয়াইয়া হাসপাতালের ক্যান্টিনের এক কর্মচারী নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাহ উপজেলার কাচপুর গ্রমের জাহিদ হোসেন । সে তার সহকর্মী ছাড়াও আশপাশের প্রায় ২৫ জন বাংলাদেশী শ্রমিকের কাছে থেকে ৩৫ হাজার লিবিয় দিনার নিয়ে দেশে প্রেরণের কথা বলে পালিয়ে যায় । পরে জাওয়াইয়া হাসপাতালে কর্মরত ভূয়া নার্স আসলাম নামের তার এক সহযোগীকে গনপিটনি দেয় ভূক্তভোগীরা এবং তার উপর চাপ সৃষ্টি করলে কয়েকদিন পরে গোপনে ২৫ হাজার দিনার পাওয়াদারদের ফিরিয়ে দিয়ে ক্ষমা চেয়ে নেয় প্রতারক জাহিদ । এ ঘটনার একমাস পর ত্রিপলী বলদিয়া এলাকার লিবিয়ানা ক্লিনার কোম্পানীর ১০/১২ জন শ্রমিকের কাছে থেকে একই কায়দায় প্রায় ২৫ হাজার দিনার হাতিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দেয় প্রতারক আব্দুল কাদের । পরে সে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইতালী পালিয়ে যায় । কিছুদিন লিবিয়ানা ক্লিনার কোম্পানীর এক সুপার ভাইজার জুয়েল মিয়া তার নিজ কোম্পানীর শ্রমিকদের কাছে থেকে প্রায় ৩০ হাজার দিনার নিয়ে পালিয়ে যায় । সে ১৬শ দিনারে দেশে ১ হাজার ডলার প্রেরনের আশ্বাস দিয়ে ওই কোম্পানীর শ্রমিক ছাড়াও আশপাশের আরো শ্রমিকের কাছে থেকে প্রায় ৩০ হাজার দিনার নেয় । পরে ১০ জনকে দেশে টাকা পাঠানোর ভূয়া ব্যাংক রিছিট দেয় । ব্যাংকের দিনার প্রেরনের রিছিট নম্বর নিয়ে স্বজনরা ব্যাংকে খোজ নিয়ে জানতে পারে নম্বর গুলো ভূয়া এবং ১০ জন কে একই নম্বর দিয়ে ঠকানো হয়েছে এর পর জুয়েলকে আতকে রাখে ভূক্তভোগীরা । পরে সুযোগ বুঝে পালিয়ে যায় সে । সে ঘটনায় ছানোয়ার নামের এক বাংলাদেশী সহকর্মিদের কাছে থেকে সাড়ে ৩ হাজার ধার নিয়ে দিনার দালালকে দিয়ে ২ দফায় প্রতারনার সিকার হয়ে নিঃশ্ব হয়ে আজও ঋনের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে লিবিয়াতে । এ ঘটনার কিছু দিন পর লিবিয়ার শহর আল জাওয়াইয়া, ছাব্রাতা, জোয়ারাসহ এর আশপাশের কয়েকটি এলাকা থেকে ২ লাখ ১০ হাজার দিনার (প্রায় দের কোটি) টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক বরিশালের ওমর খান । জানাযায়, ওমর খান ও তার ভাই ফুয়াদ প্রায় ২ বছর ধরে জাওয়াইয়া শহরের মাংশ পট্টিতে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে মাংশের ব্যাবসা করে আসছিল । এক পর্যায়ে প্রতারক ওমর ও তার ভাই ফুয়াদ লিবিয়ার এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে বেশ কিছু প্রবাসী বাংলাদেশীর টাকা পাঠায় । এ খবরে দির্ঘদিন দেশে টাকা পাঠাতে না পাড়া প্রবাসীরা হুমরি খেয়ে পরে প্রতারকদের কাছে । এ সুযোগে কয়েক দফায় সাড়ে ১৭শ দিনারে ১ হাজার ডলার দেশে প্রেরন করে এবং প্রবাসী শ্রমিক দের প্রায় ১২০ জনের কাছে থেকে ( প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার দিনার )নিয়ে তার পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের নামে পাঠায়ে দেয় । পরে সাব্রাতা এলাকা থেকে আরো ৪০ জনের কাছে থেকে ১৭শ ৫০ দিনার করে দেশে প্রেরনের আশ্বাস দিয়ে নিয়ে তারা গাঢাকা দেয় । পরে সুযোগ বুঝে দেশে পাড়ি জমায় প্রতারক দুই ভাই ওমর ও ফুয়াদ । আর এই প্রতারনার শিকার হয়ে অতি কষ্টে উপার্জিত জমানো দিনার দিয়ে নিঃশ্ব হয়েছে কয়েকশ শ্রমিক । প্রবাসীদের সাথে প্রতারনা করে দেশে ফিরে ওমর ও তার ভাই এলাকার একটি মহলকে ম্যানেজ করে বেশ দাপটের সাথেই চলাফেরা করছে । অপরদিকে পাওনা টাকা চেয়ে উল্টো হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযগ করেছে ভূক্তভোগীরা । এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই লিবিয়ার একটি রং কোম্পানীর শ্রমিক মুরাদ নামের এক শ্রমিক একই কায়দায় প্রায় ৪০ হাজার দিনার নিয়ে কিছু দিন গা ঢাকা দিয়ে পরে সেও দেশে পাড়ি জমিয়েছে । প্রতারক মুরাদও একই কায়দায় নিজ কোম্পানী ছাড়াও আশপাশের কিছু শ্রমিকের ২২ শ থেকে ২৫ শ দিনারে দেশে ১ হাজার ডলার প্রেরন করে । পরে তার কোম্পানী ছারাও বেশ কিছু শ্রমিকের কাছে থেকে প্রায় ৪০ হাজার দিনার নিয়ে কোম্পানী থেকে পালিয়ে যায় । গত বছরের প্রথম দিকে আব্দুর রহমান নামের আরেক প্রতারক ত্রিপলী আবু সেলিম বলদিয়ে থেকে আর্ধশত বাংলাদেশীদের কাছে থেকে একই কায়দায় প্রায় দেড় লাখ দিনার নিয়ে আত্নগোপন করে । ঘটনার পর লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে অভিযোগ জানালে, প্রতারক আব্দুর রহমাকে ধরিয়ে দিতে এবং লিবিয়াস্থ সকল বাংলাদেশীকে কোন ব্যক্তির মাধ্যমে দেশে প্রেরণের জন্য অর্থ প্রদান না করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে দূতাবাসের নিজস্ব পেজে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয় । পরে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে সহকর্মীরা প্রতারককে ধরে স্থানীয় পুলিশে সোপর্দ করে । সর্বশেষ রাজু নামের আরেক বাংলাদেশী তার সহকর্মিদের কাছে থেকে ২০ হাজার দিনার নিয়ে পালিয়েছে । এভাবে একের পর এক প্রতারণা করে প্রবাসীদের কাছে থেকে লাখ লাখ টাকা হতিয়ে নিলেও কোন সুরাহ হচ্ছেনা । এমন ঘটনা অহরহ ঘটলেও দূতাবাসে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ভূক্তভোগীরা । প্রবাসীদের সমস্যা জানাতে দূতাবাসের হটলাইনে ফোন দিলেও রিসিব হয় না, আবার রিসিব করে দূতাবাস থেকে উল্টা পালটা কথা বলে এমন অভিযোগও রয়েছে । এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখিন হয়েও দূতাবাসে লিখিত ভাবে অভিযোগ জানাতে গিয়ে রাস্তায় নতুন করে ঝামেলায় জরানোর ভয়েও ক্ষতিগ্রস্থ অনেকে অভিযোগ করা থেকে বিরত থাকেন । …… চলবে

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 3843768আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 23এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET