২৫শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার, ৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

গ্রেপ্তার শিবির নেতার প্রিজন সেলে মৃত্যু

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : মে ২০ ২০১৬, ০৪:০৮ | 627 বার পঠিত

14837_b4নয়া আলো ডেস্ক- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার শিবির নেতা হাফিজুর রহমান (২২) প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে (৫ বছর বয়স থেকে) রক্ত স্বল্পতায় ভুগছিলেন হাফিজুর। বছরে তিন বার তাকে রক্ত দেয়া লাগতো। কিন্তু প্রিজন সেলে তার চিকিৎসার সেরকম কোনো ব্যবস্থা না থাকায় নিরপরাধ হাফিজুরকে চলে যেতে হলো বলে পরিবারের অভিযোগ। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
মৃত হাফিজুর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ও মহানগরীর ১৯ নং ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গেছে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, নগরীর ছোট বনগ্রাম পশ্চিমপাড়া এলাকার হোসেন আলী মণ্ডলের ছোট ছেলে হাফিজুর রহমান পরিবারের মধ্যে সবার ছোট ছিল। তার আরো দুই ভাই ও এক বোন আছে। মা প্যারালাইজড রোগী। হাফিজুর ছোট বেলা থেকেই অসুস্থ। ৫ কেজি ওজনের কিছু নিজ হাতে ওঠাতে পারতো না সে। এরকম একজন অসুস্থ ছেলেকে শিক্ষক হত্যার অপবাদে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৩শে এপ্রিল (হত্যাকাণ্ডের দিন) হাফিজুর তার দুজন বন্ধু এবং আরেকজন শিক্ষক প্রতিদিনের মতো বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এরইমধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে ধর্মঘটের কারণে বাস না পেয়ে তারা অটোরিকশাতে করে ক্যাম্পাসে যান। ক্যাম্পাসে দুটো ক্লাসও করেন। পরে ওইদিন রাতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। কিন্তু তাকে না ছেড়ে শিক্ষক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এদিকে তাকে ডাক্তার দেখানোর সময় হয়ে যাওয়ায় গত ১৫ই জুন কারাগারে আবেদন জানানো হয়। এর প্রেক্ষিতে ১৭ই মে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছিল।
হাফিজুরের পিতা হোসেন আলী মণ্ডল এবং বড় ভাই হাবিবুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, বুধবার দুপুরে তাকে খাবার দিতে গেলে তার অবস্থা খুব শোচনীয় ছিল। পুলিশ তার সঙ্গে দেখা করতে দেয় নি। সে বলেছিলো তার পুরো শরীর ব্যথা করছে। গ্যাসের কারণে পেট ব্যথা হওয়ায় খেতেও পারে নি। এ সময় তাকে মেডিসিন বিভাগের ডা. মাইনুদ্দিনের কাছে দেখানোর কথা বললে পুলিশ নিয়ম-নীতির কথা বলে তা গ্রাহ্য করে নি। রাত আড়াইটার দিকে তার জন্য দুই ব্যাগ রক্তের ব্যবস্থাও করা হয়। কিন্তু ভোরের দিকে রক্ত দেয়ার আগে সে মারা গেছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরো বলেন, শুধু দাড়ি থাকার কারণে হাফিজুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করে রাখা না হলে এভাবে চলে যেতে হতো না। মূল অপরাধী ধরা পড়েছে। বিচারও হবে। কিন্তু নিরপরাধ হাফিজুর হত্যার বিচার কে করবে?
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার শফিকুল ইসলাম জানান, ‘শিবির নেতা হাফিজুর রহমান আগে থেকেই রক্ত স্বল্পতায় ভুগছিলেন। কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১৭ই মে তাকে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহানগর ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউস সাদিক জানান, গত ২৮শে এপ্রিল দুপুরে আটক হাফিজুর রহমানকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রাজশাহী মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (১) হাজির করা হয়। এ সময় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। পরে শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মোকসেদা আজগর হাফিজুরকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। তাকে চারদিন ডিবি কার্যালয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4157374আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 20এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET