২৯শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১১ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • রাজনীতি
  • গণতন্ত্রের সকল জানালা বন্ধ, দেশে তৈরি হয়েছে এক ভয়াবহ অবস্থা: মির্জা আলমগীর

গণতন্ত্রের সকল জানালা বন্ধ, দেশে তৈরি হয়েছে এক ভয়াবহ অবস্থা: মির্জা আলমগীর

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : এপ্রিল ২০ ২০১৬, ১৭:২২ | 678 বার পঠিত

নয়া আলো-

গণতন্ত্রের সকল জানালা বন্ধ, দেশে তৈরি হয়েছে এক ভয়বহ অবস্থা, দেউলিয়া হয়ে পড়ছে সরকার, সাজা প্রাপ্তরা চালাচ্ছে মন্ত্রীত্ব। ভিন্ন মতের রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে জনগণ ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে সরকার অবস্থান নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ দাবি করেন তিনি। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শফিক রেহমানের মুক্তির দাবিতে এ সভার আয়োজন করা হয়।BNP-Fakhrul
তিনি বলেন, যে দলটি গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে, সেদলটি এখন গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান করছে। দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান করছে।
ফখরুল বলেন, সরকার তাদের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে চায়। তাদের সঙ্গে জনগণ নেই। সে সরকার দেউলিয়া হয়ে পড়ছে। সরকারের মন্ত্রীদের সাজা হলেও তারা মন্ত্রীত্ব চালাচ্ছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম দাবি করে বলেন, সাংবাদিক শফিক রেহমানকে অন্যায় ও বেআইনিভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার গ্রেপ্তার গোটা জাতিকে নাড়া দিয়েছে। কারণ, তিনি সারা জীবন ধরে সুন্দর, সত্য ও ভালবাসার কথা বলেছেন। আধুনিক চিন্তা-ভাবনা নিয়ে সত্যিকার অর্থে শান্তিময় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছেন। এ রকম একটি মানুষকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তখন তা গোটা দেশের মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে।
তিনি অবিলম্বে শফিক রেহমানের মামলা প্রত্যাহারপূর্ব রিমান্ড বাতিল করে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। একইসঙ্গে তার মুক্তির জন্য গোটা জাতিকে সোচ্চার হওয়ারও আহ্বান জানান।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ এখন রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে গেছে। তাদের কোনো রাজনীতি নেই। তাই তারা একটির পর একটি ঘটনা ঘটিয়ে মানুষের দৃষ্টিকে ভিন্নদিকে প্রবাহিত করতে চাইছে। এই সরকারের আমলে যারাই ভিন্নমত পোষণ করছেন, গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার জন্য কথা বলছেন, তাদেরকেই গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করা হচ্ছে। ভোটারবিহীন এই সরকার ভিন্নমতকে সহ্য করতে পারে না। দেশে আজকে একটি ভয়াবহ ফ্যাসিবাদের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। এভাবে একটি রাষ্ট্র চলতে পারে না
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার একটি মাত্র লক্ষ্য যেভাবেই হোক ক্ষমতায় টিকে থাকতে হবে। তাই যারাই বাকস্বাধীনতার কথা বলছেন, মুক্ত চিন্তার কথা বলছেন তাদেরকে ধরে কারাগারে নিক্ষেপ করা হচ্ছে।’
মির্জা ফখরুল তার নিজের বিরুদ্ধে ৮৬টি মামলা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ১২টি মামলা কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মঈন উদ্দিন-ফখরুদ্দীনের আমলের মামলাগুলো আজকে যিনি সরকার প্রধানমন্ত্রীসহ সকলের মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তারা। অথচ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাগুলো চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আজকে যে অভিযোগ এই সরকারের মন্ত্রী অভিযুক্ত হয়ে হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট পাড় হয়ে গেছে। এবং সাজা পাওয়া হয়ে গেছে তিনি এখনও মন্ত্রীত্ব করছেন। সরকার দুই জন মন্ত্রী যাদেরকে উচ্চতম আদালত শাস্তি দিয়েছে, জরিমানা করেছেন তারাও বহাল তবিয়তে মন্ত্রী করছেন। এই একটা নৈতিক অবস্থার মধ্যে আমরা আছি।’
হিটলারের শাসন আমলের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশের এখন এমন অবস্থা হয়েছে, একেক করে রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে, কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে । তখন আরেক দল বলছে না ঠিক আছে, কোনো অসুবিধা নেই..।
তারপর যখন অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের আক্রমন করা শুরু হল তখন একই অবস্থা হয়েছে। সাংবাদিক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে যখন ৮৬টি মামলা দেওয়া হয় তখন অন্যান্য সাংবাদিক বন্ধুরা বুঝতে পেরেছে এই সরকার ভিন্নমত পোষনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে. বাকস্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।’
‘সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানকে যখন জেলে নেওয়া হয়, তিন বছরে সাজা দেওয়া হয় তখন চুপ করে থাকেন। মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া তখন মুখ খুলতে শুরু করেন, কিন্তু আজকে তাও করতে পারছেন না’ যোগ করেন তিনি।
ইউনিয়ন নির্বাচন সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যখনই বিএনপি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে মাঠ পযায়ে চলে গেছে। তখনই গণতন্ত্রের সকল জানালাগুলো বন্ধ করে দিয়ে ভয়বহ অবস্থার তৈরি করা হয়েছে।দেশের মানুষ এই অবস্থাই থাকতে অবস্ত নয়..। দেশের মানুষ নিজের ভোট নিজে দিতে চায়।’
তিনি বলেন, ‘আজকে কি হচ্ছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। বিরোধীদের প্রার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলা হছ্ছে, ছেলেকে তুলে নেওয়া হবে মেয়েকে তুলে নেওয়া হবে সুতরাং নির্বাচনে নামবা না।প্রার্থীদের মাঠে নামতে দেও্রয়া হচ্ছে না। ভোটাদের ভোট কেন্দ্রে দেওয়া হচ্ছে না। আরা আমাদের নির্বাচন কমিশন নির্বাক নিশ্চুপৃ।’
জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমানের সঞ্চালনায় এতে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন- জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাগপার সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন বাবুল, যুগ্ম-সম্পাদক আসাদুর রহমান খান, এনডিপির যুগ্ম-মহাসচিব মো. ফরিদ উদ্দিন, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বেপারী, জিয়া নাগরিক ফোরামের (জিনাফ) সভাপতি মিয়া মো. আনোয়ার প্রমুখ।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4163815আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 10এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET