২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৬ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • সকল সংবাদ
  • কোম্পানীগঞ্জে এম সাইফুর রহমান ডিগ্রী কলেজ জাতীয়করন হয়নি ১৫ বছরেও।। জাতীয় করণে লাখো মানুষের দাবী

কোম্পানীগঞ্জে এম সাইফুর রহমান ডিগ্রী কলেজ জাতীয়করন হয়নি ১৫ বছরেও।। জাতীয় করণে লাখো মানুষের দাবী

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : জুলাই ২৯ ২০১৭, ১৮:০৩ | 685 বার পঠিত

আলী হোসেন কোম্পানীগঞ্জ থেকে –

স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের একমাত্র আত্মাধিক রাজধানী ৩৬০ আউলিয়া হযরত শাহজালাল-শাহপরান (রহ.) স্মৃতি বিজড়িত পূণ্যভূমি উত্তরে অবস্থিত প্রাকৃতিক নৌ স্বর্গ-সবুজ বন-বনানী, হাওর-বাওর, তেল-গ্যাস, সিমেন্ট, বালি-পাথর, চুনাপাথর, পাহাড়, টিলা, খনিজ সম্পদে ভরপুর সিলেট জেলার কোম্পনীগঞ্জ উপজেলাটি অবস্থিত। এখানে রয়েছে নানা রকম বহুবিধ সমস্যায় জর্জরিত। তার মধ্যে অন্যতম শিক্ষা, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান বহুমুখী সংকট। জনসংখ্যা আর জনসচেতনতার মান উন্নয়ন প্রকৃত শিক্ষার কারণে পিছিয়ে রয়েছে এই উপজেলার জনসাধারণ-জনগোষ্ঠী। এখান থেকে সারাদেশের মানুষ রুজি-রুজগার করে জীবন-জীবিকার চাহিদা পূরণ করে আসছে এবং সরকারের রাজস্ব খাতে প্রতিদিন বিরাট আয়ের ভূমিকা পালণ করে চলেছে। দেশ হচ্ছে স্বাবলম্বী, বাড়ছে মাথাপিছু আয়, উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে টিকে আছে বাংলাদেশ। বর্তমান শিক্ষাবান্ধব আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সঠিক সিদ্ধান্ত জনসংখ্যা জনসম্পদে পরিণত হচ্ছে। তার অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করে চলছে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাটি। আরো বেশি দেশ ও সরকারের উন্নয়নের কর্মকান্ডে ব্যাপক সহযোগিতায় নিয়োজিত থাকতো যদি এখানে ভালো মান-সম্পন্ন সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠান, থাকতো তাই এই উপজেলা জনসাধারণের প্রাণের দাবী এখানে একটি সরকারি শিক্ষামূলক কার্যক্রমের তাগিদ অনুভব মর্মে মর্মে উপলব্ধি করছে এই এলাকার জনসাধারণ, অভিভাবক, পিতা-মাতা, শিক্ষক, সুভানুধ্যায়িরা। তাদের সন্তানটিকে কিভাবে একজন যোগ্য সু-শিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। সেই চিন্তা আর ভাবনায় ভাবিয়ে তুলছে তাদের প্রতিনিয়ত। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সদরে অবস্থিত সর্বজন বিধিত প্রয়াত সাবেক অর্থমন্ত্রীর নামে করা এম সাইফুর রহমান ডিগ্রী কলেজটি একমাত্র ভরসার স্থলে পরিণত হয়েছে। কলেজ জাতীয়করণের জন্য মানববন্ধন ও বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ছাত্র-ছাত্রী-শিক্ষক ও এলাকার জনসাধারণ। শিক্ষার জন্য আগে সিলেট শহরে অথবা দেশের বিভিন্ন স্থানে কষ্ট করে লেখাপড়া করতে হতো। সময়ের প্ররিক্রমায় সে যুগ পাল্টে গেছে এবং সবার পক্ষে সম্ভব নয় শহরে থেকে লেখাপড়া করার। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একমাত্র আয়ের খাত খনিজ সম্পদ। সেখানে এখন আর পর্যাপ্ত পরিমাণ পাথর নেই। কৃষির উপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে সবাইকে। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় হলো যে, সিলেট বিভাগের মধ্যে একমাত্র কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় কলেজটি জাতীয়করণের ঘোষণাটি এখনও হয়নি। শিক্ষা-দীক্ষায় অনগ্রসর পশ্চাৎপদ জনপদ। অথচ এশিয়ার বৃহৎ পাথর খনি সমৃদ্ধ বলে পরিচিত (ভোলাগঞ্জ) কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ একমাত্র পূর্ণাঙ্গ কলেজ উপজেলার নির্বাচিত সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এম সাইফুর রহমান ডিগ্রী কলেজকে জাতীয়করণের ঘোষণা শুনতে কোম্পানীগঞ্জবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা রয়েছে। কলেজটি জাতীয়করণের সকল যোগ্যতার অধিকারী হওয়া সত্তেও এখন পর্যন্ত কলেজটি জাতীয়করণ না হওয়ায় জনগণ জনসাধারণের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। উপজেলা সদরে অবস্থিত ২০০৪ সালের মে মাসে এমপিওভূক্ত এ কলেজটিতে উচ্চ মাধ্যমিক বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা শাখা চালু রয়েছে। এমপিও ও ননএমপিওভূক্ত এবং খন্ডকালীন সহ মোট শিক্ষক কর্মচারীর সংখ্যা ৩০ জন, মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৮’শত জন। বিগত ৫ বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশের হার গড়ে ৯৪% এর উপরে, ২০১৬ সালে বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ১০০ ভাগ সফলতার স্বাক্ষর রাখে এই কলেজটি।
১১.৬৭ একর ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত কলেজের একাডেমিক এবং পর্যাপ্ত প্রশাসনিক ভবন রয়েছে। ছায়া সুনিভির, সবুজ গাছপালা, পুকুর বিশাল আকৃতির, ক্যাম্পাস ও মাঠ রয়েছে। কলেজের মোট তহবিল প্রায় ৫০ লাখ টাকা। বর্তমান সরকারের দলীয় সাংসদ ব্যারিস্টার ফজলে নুর তাপসের মধুমতি ব্যাংক সিলেট শাখায় ৪০ লাখ টাকার এফডিআর করা রয়েছে। কলেজটি সকল জাতীয় অনুষ্ঠান যথাযথ মর্যাদার সহিত পালন করে আসছে।
উল্লেখ্য যে, কলেজটি ২০০৬ সালে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সেরা ১০ কলেজের ৬ষ্ঠ স্থান অধিকারে গৌরব অর্জন করে। কলেজটির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের গভর্ণিং বডির সভাপতি সিলেট-৪ আসনের বার বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ডাক টেলিযোগযোগ তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জননেতা ইমরান আহমদ এমপি দীর্ঘদিন ধরে কলেজটি দক্ষ নিপুন হাতে সুনামের সহিত পরিচালনা করে আসছেন এবং সংসদ সদস্যের আঞ্চলিক প্রচেষ্টায় ২০১২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্তি (কোড নং-১৭৩৫) মাধ্যমে ডিগ্রী কোর্স চালু হয়। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে কলেজটি স্থানীয় আওয়ামীলীগ শিক্ষা দরদী নেতৃবৃন্দ ও গুণীজন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করে আসছেন। জাতীয়করণের সকল শর্তাবলী ও যোগ্যতা এ কলেজটি অর্জন করলেও অদ্যবদি জাতীয় করণের তালিকায় কোন কারনে আসছে না, তা এই কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাবাসী ও ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-অভিভাবক সহ সর্বস্তরের জনগণের বোধগম্য নয়।
উল্লেখ্য যে, ২০০২ সালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় কোন পূর্ণাঙ্গ কলেজ না থাকার কারনে তৎকালীন সিলেট-১ সদর কোম্পানীগঞ্জ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মরহুম এম সাইফুর রহমানের নামে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাকক্ষে সর্বদলীয় নেতৃবৃন্দ স্বেচ্ছায় ও স্বপ্রণোদিত হয়ে উক্ত কলেজটির নামকরণ করা হয়। কলেজটি প্রতিষ্ঠার কারনে এলাকার গরীব দুঃখী মেহনতী মানুষের সন্তানেরা উচ্চ শিক্ষার সুযোগ ভোগ করতে পারছে। সিলেট বিভাগের একমাত্র সম্ভাবনাময় খাত হাইটেক পার্ক কোম্পানীগঞ্জে অবস্থিত হওয়ায় এবং পাথর সমৃদ্ধ এলাকা হওয়ায় সারাদেশ থেকে আসা শ্রমিকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করেন বিধায় তাদের ছেলেমেয়েদের স্বল্প খরচে পড়ালেখার সুযোগ সৃষ্টি করতে কলেজটি জাতীয়করণ করা অতীব জরুরী। উক্ত কলেজটি জাতীয়করণ না হলে স্বল্প খরচে পড়ালেখা এবং সরকারী সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের বিশাল জনগোষ্ঠী। যা বর্তমান জনকল্যাণমূখী ডিজিটাল ও শিক্ষাবান্ধব সরকারের কখনও কাম্য হতে পারে না। এতে এলাকার জনগণের অস্থিরতা বাড়বে।
উল্লেখ্য, সিলেট জেলার মধ্যে কোম্পনীগঞ্জ উপজেলায় শিক্ষার হার সর্বনিম্ন। এমন একটি অবহেলিত উপজেলায় কলেজ জাতীয়করণ ব্যতিরেখে দেশের শিক্ষা ও মানব সম্পদের সুষম উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মনে করেন সাধারণ জনগণ। দ্রুত কলেজটি জাতীয়করণ করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়বে, ভোট আদায়ের কৌশলে সহজে জয়ী হতে পারবে। এ ব্যাপারে কলেজটি জাতীয়করণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলার মানুষের উন্নয়নের মহীয়সী নারী, আশা ও ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করেন এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি অবগত আছেন যে, এই এলাকার প্রাণপুরুষ প্রয়াত নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদের সাবেক স্পীকার মরহুম আলহাজ্ব হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। এখানকার অনেক গুণীজন সচিবালয় সহ সরকারের বিভিন্ন সরকারি-আধা সরকারি, সায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সুনামের সাথে কর্মরত থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।
এই কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শ্বেতসোনা নামে খ্যাত পাথর-বালি ও চুনাপাথর সারাদেশের যোগাযোগ ও অবকাঠামোর উন্নয়নে অবদান রাখছে। তাই কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একমাত্র উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এম সাইফুর রহমান ডিগ্রী কলেজটিকে জাতীয়করণ করার জন্য লাখো মানুষের প্রাণের দাবী।
বর্তমান কলেজ অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের রাজনৈতিক বিগত দিনের স্মৃতিচারণ “১৯৯৪ সালে প্রয়াত পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদের নিজ হাতে গড়া প্রতিষ্ঠিত কলেজের যোগদান করেন। গভর্ণিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে তাহাকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেন। পরে তিনি সাইফুর রহমান ডিগ্রী কলেজে যোগদান করেন। ১৯৮৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্র হিসেবে টিএসসির অডিটোরিয়ামে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে নবান্ন উৎসবের পিঠা খান। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্রলীগ কর্মী রকীব ভাই ফার্ম গেইটে হোসেইন মুহম্মদ এরশাদের বাণী সম্বলীত বিরাট একটি সাইনবোর্ডে লেখা ছিল “৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে, বাংলাদেশ বাঁচবে” এই সাইনবোর্ডটি টানা হেচড়া করে নামাতে গিয়ে রকিবের মাথায় পড়ে এখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরের দিন সমগ্র দেশের জাতীয় পত্রিকার হেডলাইনে উঠে আসে “৬৮ হাজার গ্রামের নিচে পড়ে বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্রলীগ কর্মী রকিবের মৃত্যু” উনার পাশে তিনিও ছিলেন। তাহার আপন দুই সহোদর ভাই মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ফুরকান উদ্দিন ‘বীর প্রতীক’ খেতাব প্রাপ্ত হন (খেতাবের গেজেট নং-৪৮১)। অপর ভাই হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবির।
কলেজটি জাতীয়করণ করতে যারা ইতোমধ্যে সুপারিশ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কামনা করে স্মারকলিপি ও বলিষ্ট ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট লুৎফুর রহমান, সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী দুলাল, জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক এডভোকেট মাহফুজুর রহমান পিপি, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আলী আমজদ, সাধারণ সম্পাদক আফতাব আলী কালা মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইয়াকুব আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির মছব্বির, এডভোকেট শাহজাহা চৌধুরী এপিপি প্রমুখ।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4218086আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 12এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET