৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৯শে রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • সকল সংবাদ
  • কেশবপুরে বন্যা পরিস্থির চরম অবনতি ॥ তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি আশ্রয় কেন্দ্রে দুই শতাধিক পরিবার ॥ তিন হাজার মৎস্য ঘের প্লাবিত

কেশবপুরে বন্যা পরিস্থির চরম অবনতি ॥ তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি আশ্রয় কেন্দ্রে দুই শতাধিক পরিবার ॥ তিন হাজার মৎস্য ঘের প্লাবিত

হুমায়ন আরাফাত, আশুলিয়া করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : জুলাই ২৪ ২০১৭, ২২:৩৬ | 631 বার পঠিত

এস আর সাঈদ, কেশবপুর (যশোর) :

যশোরের কেশবপুর উপজেলার হরিহর ও ভদ্রা নদীর তলদেশ পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশিত না হওয়ায় ৪ দিনের ভারী বর্ষণে পানিতে তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। শত শত পরিবার বাড়ি-ঘর ছেড়ে উঁচু স্থান ও আতœীয়ের বাড়িতে চলে যাচ্ছে। ৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে দুই শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। গবাদী পশু ও হাস-মুরগী নিয়ে বিপাকে পড়েছে পানিবন্দি মানুষ। চার শত হেক্টর ফসল ও তিন হাজার মৎস্য ঘের পানিতে প্লাবিত হয়েছে । উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কে পনি উঠে গেছে। জানাাগেছে, কেশবপুর উপজেলার কাশিমপুরে ভদ্রা নদীতে শুকনো মৌসুমে ইতোপূর্বে ক্রসড্রাম দিয়ে পলি আটকানো হতো এবং বর্ষা মৌসুমে ঐ ক্রসড্রাম তুলে দিলে নদীতে নাব্যতা থাকত এবং নদী দিয়ে পানি নিষ্কাশিত হত। কিন্তু বিগত কয়েক বছর যাবৎ কাশিমপুরে ভদ্রা নদীতে ক্রসড্রাম না দেওয়ায় ভদ্রা ও হরিহর নদীতে পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় গত বছর কেশবপুরের ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। বন্যায় প্রায় ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। হাজার হাজার মানুষ গৃহহারা হয়ে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়। অর্ধাহারে-অনাহারে পানিবন্দি মানুষ মানবেতর জীবন-যাপন করে।
শুক্রবার, শনিবার, রবিবার ও সোমবারের ভারী বর্ষণে কেশবপুর, মধ্যকুল, ভবানীপুর, কেশবপুর সাহাপাড়া, আলতাপোল, বালিয়াডাঙ্গা, বাজিদপুর, নেহালপুর, বগা, রেজাকাটি, মহাদেবপুর, ডহুরি, কালিচরনপুর, সাগরদত্তকাটি, বেলকাটি, রাজনগর বাকাবর্শি, রামচন্দ্রপুর, সুজাপুর, ব্যাসডাঙ্গা, কোমরপুর, মঙ্গলকোট, গেলাঘাটা, বিদ্যানন্দকাটী, নতুন মূলগ্রাম, মূলগ্রাম গ্রাম, সানতলা, খতিয়াখালি, সুজাপুর-সহ উপজেলায় প্রায় তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেকে বাড়ি-ঘর ছেড়ে উঁচু স্থান ও আতœীয়ের বাড়িতে চলে যাচ্ছে। গবাদী পশু ও হাস-মুরগী নিয়ে বিপাকে পড়েছে পানিবন্দি মানুষ। চার শত হেক্টর ফসল ও তিন হাজার মৎস্য ঘের পানির নীচে নিমজ্জিত রয়েছে। কেশবপুর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কেশবপুর আলিয়া মাদ্রাসা, কেশবপুর মধুশিক্ষা নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কেশবপুর মহিলা কলেজ, বালিয়াডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গণসাহায্য সংস্থার আশ্রয় কেন্দ্রে দুই শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। কেশবপুর-যশোর সড়কের মধ্যকুলে এবং বালিয়াডাঙ্গা ব্রীজের উপর বসবাস করার জন্য শতাধিক পরিবার টোংঘর তৈরীর কাজ করছে। কেশবপুরের মেইন সড়ক, পাঁজিয়া ও সাগরদাঁড়ি সড়কের উপর পানি উঠে গেছে। পৌরসভার সাহাপাড়ার খোকন দত্ত বাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থানে চলে যাওয়ার সময় তাঁর স্ত্রী স্বপ্না ঘোষ জানান, তার মেয়ে কৃষ্ণা দত্ত সন্তান সম্ভাবা। তাকে নিয়ে তিনি খুবই চিন্তার রয়েছে। সাহাপাড়ার সূর্য অধিকারী, মধ্যকুলের রুবেল শেখ, আসমা বেগম ও রবিউল ইসলামকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে দেখা যায়। সাহাপাড়ার খ্রীষ্টান মিশনের পিছনে বসবাসকারী যোহন সিংহের স্ত্রী নিলিমা সিংহ তাঁর পোষা ২৮ টি ছাগল নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
কেশবপুরের এস এন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মঙ্গলকোট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মঙ্গলকোট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালিয়াডাঙ্গা পূর্বপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুজাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়-সহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠে গেছে।
জরুরী ভিত্তিতে উভচর মেশিন দিয়ে হরিহর ও ভদ্রা নদী খনন না করা হলে কেশবপুর উপজেলার শতাধিক গ্রামে জলাবদ্ধতার আশংকা দেখা দিয়েছে।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4225268আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 4এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET