২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১০ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • রাজনীতি
  • কুষ্টিয়া ১ আসনে নৌকায় মনোনয়ন পাওয়ার শতভাগ আশাবাদী আফাজ উদ্দিন আহমেদ

কুষ্টিয়া ১ আসনে নৌকায় মনোনয়ন পাওয়ার শতভাগ আশাবাদী আফাজ উদ্দিন আহমেদ

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : আগস্ট ০৪ ২০১৭, ০৩:৫৬ | 689 বার পঠিত

 রওনক জাহানঃ

।  জনাব আফজ উদ্দিন আহমেদ গতকাল “বিডি ক্রাইম এক্সপ্রেস” পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারের সময়   এসব কথা বলেন ।

জনাব আফাজ উদ্দিন আহমেদ  কুষ্টিয়া-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি । একান্ত সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে  উঠে এসেছে জানা-অজানা নানা তথ্য এবং ভবিষ্যতের চিন্তা পরিকল্পনা । আছে আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গও।

প্রশ্ন: কেমন আছেন ?

উত্তরঃ আলহামদুলিল্লাহ… সকলের দোয়া ও আল্লাহুর অশেষ রহমতে ভাল আছি ।

প্রশ্ন: রাজনৈতীক জীবনের শুরুর গল্পটা ছোট করে বলবেন পাঠকদের জন্য?

উত্তরঃ ১৯৬৩ থেকে ‘৬৮ কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলাম। ‘৬৯ -এর গণ অভ্যুত্থানে সক্রিয়তা তারপরই ১৯৭০ -এ এসে দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামীলীগে সংযুক্তি।

১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধে সংগঠক হিশেবে কাজ করেছি। ১৯৭৩ সালে দৌলতপুর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পাই। এরপর ‘৭৫-এ সংগঠনের দূর্দিনে ঘরোয়া রাজনীতির মধ্যদিয়ে সংগঠন কে টিকিয়ে রেখেছি। পরে ‘৭৭ সালে পদ পাই সাধারণ সম্পাদকের। আর রাজনীতি জমজমাট হয় মূলত ১৯৮০ সাল থেকে।

মনে আছে, ঐ বছর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর শাহদাত বার্ষিকীতে স্বরব থেকে পালন করেছি। আশি’র দশকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তারাগুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আমন্ত্রণ জানিয়ে এনেছিলাম এবং বিশাল এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

আওয়ামীলীগ থেকে প্রথম নির্বাচনী মনোনায়ন পাই ১৯৮৬ সালে। এই তো এভাবেই মাঠের রাজনীতি শুরু। ১৯৮৭-৮৮ তে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে মাঠে থেকেছি স্বরবে। ঐ আন্দোলনে ১৪৪ ধারা জারি’র মধ্যেও আন্দোলন চালিয়ে গেছি। দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামীলীগে সভাপতিত্বের দায়িত্ব পেয়েছি ২০০৪ সালে ।

 

প্রশ্ন: প্রথম অংশ নেয়া জাতীয় নির্বাচনে সর্মথন পেয়েছিলেন কেমন?

উত্তরঃ ভোট পেয়েছিলাম ২৪ হাজার ৫শ’ কিন্তু ঘোষণা আসে ২২ হাজার। সে সময় যার নাম জয়ী হিশেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল  তার ভোট দেখানো হয় ২৪ হাজার।

প্রশ্ন: গণমানুষের ভালোবাসায় প্রথম বিজয় কবে?

উত্তরঃ ভালোবাসা বরাবরের। তবে সে ভালোবাসার প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাই ১৯৮৯ তে শেখ হাসিনার প্রার্থী হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে। তারপর ১৯৯০ সালে এরশাদ হটাও আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার সময় এ অঞ্চলের মানুষকে সাথে পেয়েছি সব সময়।

প্রশ্ন: বড় ধরনের সহিংসতা মনে পড়ে ?

উত্তরঃ  হ্যাঁ। কিছু অতীত ভুলে যাবার মতো নয়। ১৯৯১ -এ যখন বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তখন শুরু হয় অত্যাচার নিপিড়ন,মামলা-হামলা। ‘৯৩ -তে ঐ ঐতিহাসিক তারাগুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে সন্ধ্যা থেকে শুরু করে রাতভর গোলাগুলি হয় ততকালীন বিএনপি’র সাথে।

১৯৯৫ এর ৮ জুন বিএনপি’র সন্ত্রাসীরা নির্মম ভাবে হত্যা করে আওয়ামীলীগ কর্মী নজের আলী কে। ঐ ঘটনায় আমাদের অর্ধশত নেতা-কর্মী আহত হন। ১৯৯৬ সালের জানুয়ারীতে আওয়ামীলীগ খালেদা জিয়ার ভোটার বিহীন পাতানো নির্বাচন বানচালের নির্দেশ দিলে তা সফল করতে ভোট কেন্দ্র দখল রাখা হয়। শুরু হয় খালেদা হটাও দেশ বাঁচাও আন্দোলন। আন্দোলন চালাতে বিশাল মঞ্চ করেছিলাম আমরা।

২০০৮ -এ নৌকা প্রতীকে নিয়ে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হোই ৪৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে। তারপরের সেই সহিংসতা তো সারাদেশ জেনেছে। নিজের বাড়ির বসার ঘরে মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষকদের সাথে আলাপের সময়,আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয় আত্মঘাতী বোমা হামলা করে। আমি সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় প্রানে বেঁচে গেলেও হামলাকারীদের একজন এবং আমার সাথে  দেখা করতে  আসা এক শিক্ষক মারা যায়।

প্রশ্ন: গেল ১০ বছরের দৌলতপুরের মূল্যায়ন আপনার দৃষ্টিতে কি হবে ?

উত্তরঃ ২০০৯ থেকে শুরু করে ২০১৪ পর্যন্ত ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আমার নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা,বিদ্যুৎ খাতে উন্নয়ন ছিলো চোখে পড়ার মতো। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদকের দ্রব্যে নিয়ন্ত্রনও ছিলো বেশ। তবে পরে তদারকির অভাবে ভাটা পড়েছে।

 

প্রশ্ন: জাতীয় উন্নয়নের সাথে সাথে দৌলতপুর কি তাল মিলিয়ে উন্নত হচ্ছে ?

উত্তরঃ  ঐ যে, ২০০৯-২০১৪ পর্যন্ত উন্নয়নের জোঁয়ার ছিলো এ অঞ্চলে। সে সময় অন্যান্য বরাদ্দের পাশাপাশি কুষ্টিয়া-১ আসনে প্রধানমন্ত্রী’র কল্যান তহবিল থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা সাহায্য আসে সেটা স্বচ্ছ ভাবে বণ্টন হয় সে সময়ের উপজেলা কর্মকর্তার মাধ্যমে।

প্রশ্ন: ২০১৮-এর ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন , নির্বাচনী হালচালাও শুরু হয়েছে। আপনি মাঠে নামছেন কবে?

উত্তরঃ  সামাজিক কার্যক্রম চলছে। রাজনৈতীক বৈঠকও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। জুলাইয়ের ৯ তারিখে বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় অংশ নিয়েছি। তৃণমুলেও কার্যক্রম চলছে। খুব শিগগির আনুষ্ঠানিক ভাবে ভোট চাইবো নৌকা প্রতীকে।

প্রশ্ন: আপনিতো বেশ কয়েকবার মনোনায়ন পেয়েছেন এবং এর মধ্যে নির্বাচিতও হয়েছেন। মনোনায়নের বিষয়ে আসছে নির্বাচনে প্রত্যাশা কি?

উত্তরঃ  আমি ১শ’ ভাগ আশা রাখছি। বরাবরের মতো দলীয় সভানেত্রী সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে আমিই নৌকা প্রতীক পাবো।

প্রশ্ন:দৌলতপুর আওয়ামীলীগরে অভিভাবক হিসেবে আওয়ামীলীগসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনগুলোর প্রতি আহব্বান কি থাকবে?

উত্তরঃ  সকলকে ২০১৮ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বাস্তবায়ন করতে হবে।

প্রশ্ন: দৌলতপুরে জঙ্গিবাদ ও নির্বাচনী সহিংসতার সম্ভাবনা কতটা বলে আপনি মনে করছেন?

উত্তরঃ  ২০০১ -এর পর সন্ত্রাসবাদ ছিলো যা এখন নিষ্ক্রিয়। যেহেতু আগামী নির্বাচনে সবদল অংশ নিচ্ছে সেহেতু মাঠের লড়াই সহিংসতায় রুপ নেয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

প্রশ্ন: অবকাঠামোগত দিক থেকে দৌলতপুরের কি ধরনের পরিবর্তন জরুরী বলে মনে করছেন?

উত্তরঃ কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য কোল্ড স্টোরেজ দরকার। ক্ষুদ্রাকার হলেও শিল্প বাড়াতে হবে। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি কৃষি ভিত্তিক উন্নয়ন বাড়াতে হবে।

প্রশ্ন: রাজনৈতীক প্রেক্ষাপটে তরুণ প্রজন্মের গুরুত্ব কতটা ?

উত্তরঃ তরুণদের দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। কারন তারা নতুন ভোটার। যোগ্য নেতা বাছাইয়ে তাঁদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রশ্ন: আমাদের শেষ

প্রশ্নঃ সব দল নির্বাচনে এলে দল হিসেবে বিএনপি -কে কতটা শক্তিশালী মনে করছেন ?

উত্তরঃ বড় সংগঠন ও দল হিসেবে বিএনপি শক্তিশালী। তবে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও সুশাসনের কাছে তাদের অবস্থান নাজুক।

প্রশ্ন: দৌলতপুরের অদূর ভবিষ্যৎ?

উত্তরঃ দৌলতপুর পৌরসভার অন্তর্ভূক্ত করার চিন্তা রয়েছে। স্থলবন্দরটিকে রূপ দেয়ার স্বপ্নতো রয়েই যায়।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4205533আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 4এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET