৩০শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

‘কাশ্মীরে নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ দাবি’

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : জুলাই ১৯ ২০১৬, ০১:২৯ | 614 বার পঠিত

33_8নয়া আলো ডেস্ক- ভারত-শাসিত কাশ্মীরে গত দশদিন ধরে টানা অস্থিরতা ও সহিংসতার মধ্যে কাশ্মীর বিতর্কে একটা নতুন মাত্রা যোগ করেছেন প্রবীণ নেতা সৈয়দ আলি শাহ গিলানি।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে খোলা চিঠি লিখে তিনি কাশ্মীরে তাদের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন – এবং বলেছেন কাশ্মীরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করতেই এটা দরকার।

হুরিয়তের এই নেতা একই ধরনের চিঠি লিখেছেন ই ইউ, সার্ক, আসিয়ানের মতো জোটকে – এবং বেজিং ও তেহরানকেও।

তবে ভারতীয় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাশ্মীর ইস্যুর আন্তর্জাতিকরণের এই চেষ্টা এখন সফল হওয়া কঠিন – এবং কাশ্মীরে গণভোটের দাবিও ভারত কোনও মতেই মানবে না।

কাশ্মীরে চলমান অস্থিরতায় প্রতিবারের মতো এবারেও আজাদি বা স্বাধীনতার স্লোগান উঠছে অহরহ, সঙ্গে আল্লাহু আকবর ধ্বনি।

তবে বিগত প্রায় সত্তর বছর ধরে ভারতের বক্তব্য কাশ্মীর বিতর্কের সমাধান করতে হবে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক স্তরে – তৃতীয় কোনও পক্ষ, এমন কী কাশ্মীরের মানুষের কোনও ভূমিকাও দিল্লি সেখানে মানতে প্রস্তুত নয়।

আজও সেই বক্তব্য থেকে দিল্লি এক চুলও নড়তে রাজি নয়, কিন্তু সৈয়দ আলি শাহ গিলানির মতো হুরিয়ত নেতারা এখন সরাসরি বলছেন কাশ্মীরের এই লড়াই তাদের স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই।

নিহত বুরহান ওয়ানিকে নির্ভীক ও সাহসী যোদ্ধা বলে উল্লেখ করে গিলানি বলেছেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী যাই বলুন – বুরহান কিছুতেই দেশদ্রোহী নয়, বরং কাশ্মীরের অধিকার অর্জনে এক নিবেদিত সেনা – যে আরও প্রায় ছশো কাশ্মীরি শহীদের মতো দেশের আজাদির জন্য প্রাণ দিয়েছে।”

আর কাশ্মীর যাতে সেই আজাদি পায়, সে জন্যই গিলানি এখন সরাসরি সাহায্য চেয়েছেন জাতিসংঘ ও বিশ্বের প্রায় সব প্রভাবশালী শক্তির কাছে।

অনুরোধ জানিয়েছেন, কাশ্মীর থেকে ভারতীয় সেনাকে সরাতে আর কাশ্মীরিদের নিজেদের ভবিষ্যৎ স্থির করার অধিকার দিতে জাতিসংঘ আর এই সব শক্তিকে এগিয়ে আসতে হবে।

তবে কাশ্মীর-বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক অধ্যাপক অশ্বিনী রায় মনে করছেন এই আবেদনে এখন সাড়া মেলাটা মুশকিল।

তবে কাশ্মীরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের কথা বলে সৈয়দ আলি শাহ গিলানি নতুন করে জিইয়ে তুলেছেন কাশ্মীরে গণভোটের পুরনো দাবিকেও – ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘে গৃহীত প্রস্তাব যাকে সমর্থন করেছিল।

ভারত কিন্তু পরে সেই গণভোটের অঙ্গীকার থেকে সরে আসে – এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে দিল্লি কিছুতেই কাশ্মীরে গণভোট মানবে না বলেই ড: রায়ের ধারণা।

তিনি বলছেন, “১৯৯১ অবধি যখন শীতল যুদ্ধ চলেছে, তখন সোভিয়েতের সমর্থন নিয়ে ভারত সেই গণভোটের দাবিকে ঠেকিয়ে রাখতে পেরেছে। তারপরেও বিশ্ব পরিস্থিতি ভারতের অনুকূলে ছিল, ফলে সেই দাবি না-মেনেও ভারত পার পেয়ে গেছে।”

‘এখন কাশ্মীরে গণভোট যদি সত্যিই হয়, তার ফলাফল কী হবে এটা মোটামুটি সবারই জানা – তাই আমি নিশ্চিত ভারত কিছুতেই কাশ্মীরে গণভোটে রাজি হবে না। আর শুধু একা চীনের সমর্থন নিয়ে পাকিস্তানও এ ব্যাপারে খুব বেশি চাপ দিতে পারবে বলে মনে হয় না,” বলেছেন অধ্যাপক রায়।

ভারত সরকার বিশ্বাস করে আন্তর্জাতিক রাডার থেকে কাশ্মীর এখন অনেকটাই হারিয়ে গেছে – এবং তারা অন্তত কাশ্মীরে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে পারবে।

কিন্তু উপত্যকায় এখন যেভাবে ভারত-বিরোধী বিক্ষোভ তুঙ্গে উঠেছে, তাতে হুরিয়ত নেতারা এখন একটা মরিয়া চেষ্টা করতে চাইছেন, যাতে আবার কাশ্মীরের দিকে আন্তর্জাতিক বিশ্বের মনোযোগ পাওয়া যায়।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4165719আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 1এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET