২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৬ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তেলেসমাতি রক্ষাকবজে রুগী আছে ডাক্তার নেই ।

হুমায়ন আরাফাত, আশুলিয়া করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : মে ১৭ ২০১৭, ২২:৫২ | 659 বার পঠিত

 

স্টাফ রিপোর্টার,ঝিনাইদহঃ

কোনো কাজ করেন না, অথচ প্রতি মাসের শেষে ঠিকই বেতন-ভাতা তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। নেই কোনো বাধা, তাই তো মাসের পর মাস নিজ কর্মস্থলে থাকছেন না ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক চিকিৎসক ও নার্সসহ অনেকেই। তারা ‘ডেপুটেশন’ নামের এক তেলেসমাতি কাগজের বদৌলতে যোগদানস্থলে কাজ করবেন না বলে অন্য শহরে চলে গেছেন। বাস্তবে সেখানেও নামমাত্র স্বাক্ষর দেখিয়ে ওই চিকিৎসকরা ব্যক্তিগত চেম্বার ও বিভিন্ন ক্লিনিকে দাপিয়ে বেড়ান। ফলে সেবাদাতার সংকটে কালীগঞ্জের ৫০ শয্যার হাসপাতাল ও গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর বেহাল দশা। ধারাবাহিক এ অনিয়মের মধ্যেই ভেঙে পড়েছে উপজেলার স্বাস্থ্য সেবার মেরুদন্ড। তবে চিকিৎসকদের কেউ কেউ বলেছেন, এমন অনিয়মের চিত্র নাকি দেশের সব উপজেলা সদরেই চলছে। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালটিতে চিকিৎসক থাকার কথা ২১ জন। তবে কাগজ-কলমে আছেন মাত্র ৭ জন। সেই ৭ জনের খোঁজ নিয়ে বাস্তবে দেখা গেছে কর্মক্ষেত্রে ডাক্তার আছেন মাত্র ৫ জন। বাকি ২ জন ডা. আলাউদ্দিন ও ডা. নাহিদুল ইসলাম ডেপুটেশন কাগজ নিয়ে রয়েছেন ঝিনাইদহ শহরে। কিন্তু তারা মাসে মাসে ঠিকই এ হাসপাতালে এসে স্বাক্ষর করে বেতন-ভাতা তোলেন।

চিকিৎসকদের দেখাদেখি একই পন্থায় এ হাসপাতালের ৩ নার্স প্রভাব খাটিয়ে থেকে গেছেন জেলা সদরে। তাদের মধ্যে নার্স হালিমা খাতুন ও লক্ষ্মীরানী রয়েছেন ঝিনাইদহ সদরে এবং শাহানাজ পারভীন রয়েছেন যশোরের বক্ষব্যাধি হাসপাতালে। তারাও কাজ না করে মাসে মাসে এসে বেতন তোলেন। তাদের এসব বিষয়ে কেউ কেউ বলেছেন, বাইরে থাকা ওইসব চিকিৎসক-নাসে উপরমহলে ব্যাপক খুঁটির জোর রয়েছে। সেই ক্ষমতার জোরেই তারা নাকি ডেপুটেশন নামের এক তেলেসমাতি কাগজ ব্যবহার করেছেন। যার বদৌলতে মাসের পর মাস ডাক্তার ও নার্স হাসপাতালে না এলেও তাদের কোনো সমস্যা হয় না।

এ হাসপাতালে যোগদান করার পর ‘ডেপুটেশন’ কাগজ নিয়ে বাইরে থাকলেও হাসপাতালে এসে বেতন তুলে নিচ্ছেন, এ বিষয়ে জানতে কথা বললে ডা. নাহিদুল ইসলাম ও আলাউদ্দিন জানান, কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশনের রোগী কম হয়। তাই জেলা সিভিল সার্জন তাদের জেলায় নিয়ে এসেছেন। আর নার্স হালিমা খাতুন জানান, বাচ্চাদের স্কুল ও পারিবারিক কারণে তিনি ডেপুটেশন নিয়ে ঝিনাইদহে আছেন, অন্যজন লক্ষ্মীরানী বিশ্বাসের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। এরপর আরও বেহাল অবস্থায় রয়েছে উপজেলার দুটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ ১১টি কমিউনিটি ক্লিনিক। এতে ১১ চিকিৎসকের মধ্যে আছেন মাত্র ৩ জন, বাকি ৮টি পদ শূন্য রয়েছে।

৩ জনের মধ্যে ১ জন চিকিৎসক গত ২ বছর আগে বলরামপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগদানের পরদিন সেই যে চলে গেছেন আর ফিরে আসেননি। আর ১১টি ইউনিয়নে ১১ জন মেডিকেল অ্যাসিস্টেনটের (সেকমো) মধ্যে ৫ জনই রয়েছেন বড় জেলা শহরে। তাদের মধ্যে ইয়াসমিন আরা রয়েছেন কুষ্টিয়ার মিরপুরে, জয়নাল আবেদিন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে, তাসলিমা খাতুন কুষ্টিয়া বক্ষব্যাধি হাসপাতালে, মাহাবুবার রহমান ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুুতে ও সালাউদ্দিন রয়েছেন ঝিনাইদহের সাধুহাটিতে। তারাও কাজ না করে প্রতি মাসে বেতন-ভাতা তুলে নিচ্ছেন। বেতন-ভাতা তুলে নেওয়ার পেছনে তাদের সবারই রয়েছে ডেপুটেশন নামের এক তেলেসমাতি রক্ষাকবজ।

জয়নাল আবেদিন জানান, তার স্ত্রীও একই চাকরি করেন আর ছোট ছেলে-মেয়ে, বৃদ্ধ বাবা-মা পরিবারের দেখাশোনার জন্য তিনি ডেপুটেশন নিয়ে সেখানে আছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. প্রফুল্য কুমার জানান, চিকিৎসক, নার্স ও জনবলসহ নানা সংকটে সেবাদান কিছুটা সমস্যা হয়ে থাকে। তবে এ হাসপাতালে পোস্টিং নিয়ে যারা বাইরে আছেন তারা ডেপুটেশনে থাকায় তিনি তাদের কিছু বলতে পারেন না।

 

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4218192আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 10এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET