১২ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে জিলহজ, ১৪৪১ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

কাপাসিয়ার হ্যান্ডশেক এগ্রো বেকার তরুণদের অনুপ্রেরণা

সাইফুল আলম সুমন, গাজীপুর করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : জুলাই ২৫ ২০২০, ২১:৩৪ | 633 বার পঠিত

কেউ চাকুরিজীবী, কেউ ব্যবসায়ী, কেউবা প্রবাসী। সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব আর সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে মিলিত হয়েছেন এক প্ল্যাটফর্মে। নাম দিয়েছেন হ্যান্ডশেক (প্রাঃ) লিমিটেড। নির্ধারণ করা হয়েছে সদস্যদের মাসিক চাঁদা। সেই জমানো টাকা দিয়ে গ্রহণ করা হয় ব্যতিক্রম উদ্যোগ। ৩ বছর আগে ২৫ জন কর্মজীবী নিরাপদ আমীষ উৎপাদনের লক্ষে গবাদি পশু লালন-পালনের কাজ শুরু করেন। ২০১৬ সালের দিকে ১০০ টি গবাদিপশু লালন-পালনের জন্য সুপরিকল্পিত ভাবে তৈরি করা হয় বৃহৎ খামার। ২০১৮ সালের ৬ জুন ১৯ টি গরু দিয়ে তরুণদের নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নের যাত্র শুরু করা হয় হ্যান্ডশেক এগ্রোর। তিন বছরে খামারে এখন ৫০টি গরু। গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ইকুরিয়া বাজার এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে খামারটি। গত কোরবানি ঈদে এ খামার থেকে ৩০টি গরু বিক্রি করা হয়েছে।

চলতি বছর কোরবানির ঈদের জন্য অনলাইনে ৩৬টি গরু বিক্রি করা হয়েছে। আরো বিক্রিয়যোগ্য গরু আছে ১৪টি। ক্রেতাদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে খামারে রাখা হয়েছে সব দেশী জাতের গরু। এ বছর বৈশ্বিক মহামারি করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে হ্যান্ডশেক এগ্রো আকর্ষনীয় সার্ভিস দিচ্ছে। অর্থাৎ বিক্রিত গরু ক্রেতা ইচ্ছে করলে এখান থেকে জবাই করে নিতে পারবে। বর্তমানে ১৮ বিঘা জমিতে চলছে খামারের কার্যক্রম। ৩ বিঘায় গরুর মূল খামার। বাকী জায়গাতে গরুর জন্য সবুজ ঘাস ও ভূট্টা উৎপাদন করা হয়। ভূট্টা গাছ থেকে তৈরি করা হয় সাইলেজ। নিজস্ব খামারের চাহিদা মিটিয়ে তা বাহিরে বিক্রি করা হয়। গরু লালন পালনের জন্য দুটি পরিবারের ৫-৬ জন ব্যক্তি নিয়মিত কাজ করছে। খামারের পাশেই রয়েছে তাদের থাকার সুব্যবস্থা।

সরেজমিনে খামারে গিয়ে দেখা যায়, আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশী জাতের গরু দিয়ে সাজানো হয়েছে খামার। শ্রমিকদের কাজের নিয়মিত তদারকি করছেন হ্যান্ডশেক এগ্রোর চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া রুবেল। খামারের পরিবেশ খুব সাজানো-গোছানো। প্রতিটি গরুর গলায় তাদের নিজস্ব স্টিকার ঝুলে আছে। যেখানে ওই গরুর যাবতীয় তথ্য রয়েছে। খামার দেখতে আসা ব্যক্তিদের বসার জন্য রয়েছে আলাদা সুসজ্জিত কক্ষ। তরুণদের এমন উদ্যোগের সফলতা দেখে আশপাশ এলাকার অনেকেই খামার প্রতিষ্ঠা করছেন।

একই এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক গরুর খামার। অনেকে খামার প্রতিষ্ঠার জন্য শরণাপন্ন হচ্ছে তরুণদের।

হ্যান্ডশেক এগ্রোর চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া রুবেল বলেন, কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করতে গিয়ে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। আমাদের লক্ষ হচ্ছে নিরাপদ আমিষ উৎপাদন করে মানুষের ঘরে পৌঁছে দেয়া। খামারের প্রায় গরুই অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে।

পরিচালক মাহফুজুর রহমান মামুন বলেন, চলতি বছর অনলাইনে গরু বিক্রির কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এতে করে ক্রেতারা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা থাকছে না।

কাপাসিয়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আনিসুর রহমান সরেজমিনে হ্যান্ডশেক (প্রাঃ) লিমিটেড পরিদর্শন করে জানান, কাপাসিয়ায় মোট ১ হাজার ৫২০ জন খামারি রয়েছে।

এদের মধ্যে মোট ৮ হাজার ৩৬০টি কোরবানি পশু বিক্র করার উপযোগী। এ খামার থেকে অনলাইনে গরু বিক্রয়ে ব্যপক সাড়া পাচ্ছে। উপজেলার খামারিদের মধ্যে হ্যান্ডশেক এগ্রো স্থানীয় তরুণদের উৎসাহিত করছে।

 

 

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4011051আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 3এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET