১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৫ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • বিশেষ প্রতিবেদন
  • কলারোয়ায় আলোচিত সোনালী ব্যাংকের নৈশ প্রহরী হত্যার দুই বছর! খুনিদের ফাঁসির দাবী পরিবারের ॥

কলারোয়ায় আলোচিত সোনালী ব্যাংকের নৈশ প্রহরী হত্যার দুই বছর! খুনিদের ফাঁসির দাবী পরিবারের ॥

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : জুন ২৩ ২০১৭, ২০:৪৭ | 609 বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার,
সাতক্ষীরার কলারোয়া ইতিহাসে বহুল আলোচিত পবিত্র শবে-কদরের রাতে সোনালী ব্যাংকে ডাকাতি করার সময় নৈশ দুুই প্রহরীকে কুপিয়ে গলাকেটে হত্যা ও জোড়া খুনের ঘটনার আজ দু’বছর পূর্ন হলো। ঘটনাটি ২০১৫ সালের এই দিনে সরকারি কলেজ বাসষ্টান্ড মোড়ে সোনালী ব্যাংক ভবনে ২৭শে রমজান শবে-কদরের গভীর রাতে ঘটে। এই হত্যা ঘটনায় পুলিশ এই পর্যন্ত ৫জন আসামীকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। এদিকে আটক করা যায়নি হত্যার পরিকল্পনাকারী বা ঘাতকদের। রয়েছে তারা ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। আইনের বিভিন্ন ফাঁক ফোঁকড় দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ায় আতংকে দিন কাটাচ্ছে অসহায় নিহত দুই পরিবার। জোড়া খুনের হত্যা মামলার আসামী হল উপজেলার সিংহলাল গ্রামের বদিউজ্জামানের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন (৪২), ব্যাংক ভবনের মালিক গোলাম রব্বানীর বাড়ির কেয়ারটেকার লাঙ্গলঝাড়া গ্রামের আজিবার রহমান (৪৯), পৌরসদরের মির্জাপুর গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে ভূয়া র‌্যাব খ্যাত গোলাম হোসেন (৩৬), ঝিকরা গ্রামের হোসেন আলির ছেলে আবুল কাশেম (৩৭) ও একই গ্রামের মৃত জোহর আলীর ছেলে মনিরুল ইসলাম মনি (৩৯)। এছাড়া আর কয়েকজনকে জিঞ্জাসাবাদের জন্য আটক করা হলে পুলিশ তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম-ঠিকানা না বলায় পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার বিবরণে জানা যায় গত ২০১৫ সালের এই দিনে পবিত্র শবে-কদরের রাতে সোনালী ব্যাংকে ডুকে ব্যাংকের ভোল্ট ভেঙ্গে টাকা ডাকাতি করার সময় ডাকাতি কাজে বাধা দেওয়ায় কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয় ঐই ব্যাংকের কর্মরত দুই নৈশ প্রহরী আনছার সদস্যকে। নিহতরা নৈশ প্রহরীরা হল উপজেলার ঝাঁপাঘাট গ্রামের কাইয়ুম শেখের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩০) ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হরিশপুুর গ্রামের আনারুল ইসলামের ছেলে আসাদুুজ্জামান আসাদ (২৫)। এই জোড়া খুনের ঘটনায় সোনালী ব্যাংক কলারোয়া শাখার ম্যানেজার কালিগজ্ঞ উপজেলার কোমরপুুর গ্রামের রমেশ সরকারের ছেলে মনতোষ সরকার বাদি হয়ে থানায় অঙ্গত ব্যক্তিদের আসামী করে মামলা নং (১৮) তারিখ-১৫/৭/১৫ইং দায়ের করেন। সেই সময় মামলার তদন্তভার তৎকালীন সাতক্ষীরা ডিবি পুলিশের ওসি মোস্তাফিজুুর রহমানের কাছে ন্যাস্ত করা হয়। তিনি হত্যা ঘটনার রহস্য উদঘটনসহ আসামীদের গ্রেফতারের জন্য তৎকালীন ডিবির এসআই ইমরান হোসেনকে দ্বায়ীত্ব প্রদান করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইমরান বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ৫ আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করেন। আদালতে হাজির হয়ে গ্রেফতারকৃত ৫ আসামীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। আসামীরা আদালতে কি বলেছে তা মামলার তদন্তের স্বার্থে এসআই ইমরান সেদিন কিছুই জানাননি। অন্য থায় পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে অন্য স্থানে পালিয়ে থাকা আসামীদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যহত রয়েছে বলে জানান। এদিকে ঘটনাটি লোকালয় এলাকায় ঘটলেও পুলিশ এখনও কোনো কিনারা করতে পারেনি। কলারোয়া পৌর সদরের যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কে সরকারী কলেজ বাসস্ট্যান্ড মোড়ে সোনালী ব্যাংকটি একটি জনবহুল এলাকায় অবস্থিত। ব্যাংকটির সামনে তখন ছিল একটি চায়ের দোকান ও হোটেল যা সারারাত খোলা থাকে। তাছাড়া পাশে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক এটিএম বুথ। এই স্থানটি বাসষ্টান্ড হওয়ায় সারা রাত সেখানে লোকজন থাকে। এ রকম লোকালয়ের একটি ব্যাংকের অভ্যন্তরে কিভাবে এমন দুর্ধর্ষ জোড়া হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে, তা জনেমনে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। কীভাবে ঘাতকেরা এই ব্যাংক থেকে হত্যা ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে গেছে সেটাও আশ্চর্য জনক। এছাড়া কলারোয়া শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য সারারাত একজন এস আই ও একজন এএসআই’র নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ভ্রাম্যমাণ ডিউটিরত থাকে। আবার মোড়ে মোড়ে বাজারের নাইট গার্ডও থাকে। তারপরেও এমন হত্যা ঘটনা নির্বিঘেœ ঘটে যাওয়াটা চরম বিস্মকর বলছেন অনেকেই। ঈদের পূর্ব মুহূর্তে যখন পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপনের জন্য অপেক্ষমান ছিলেন ওই দুই নৈশ প্রহরী, ঠিক তখনই তাদের খুন হতে হলো। এই নিরীহ দুই নৈশ প্রহরীকে হত্যার কী জবাব দেবেন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। যে অস্ত্র নিরাপত্তার জন্য নৈশ প্রহরীদের দেওয়া হয়, রাতে কেন তা ভোল্টে আটকে রাখা হয় এমন প্রশ্নও দেখা দিচ্ছে। আর কিভাবে ঘাতকরা ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ডাকাতি করা কালে বাধা দেওয়ায় চেষ্ঠায় দুই নৈশ প্রহরীকে কেন খুন করা হল তাও রহস্য জনক থেকে যাচ্ছে। এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মামলার উর্দ্ধতন তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, জোড়া খুনের ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত ঘাতকদের ধরার জন্য কলারোয়া থানা পুলিশ তাদের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। অতি দূত সম্ভব জোড়া খুনের রহস্য উদঘটন করে আসল ঘাতকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে মামলার তদন্ত কাজ শেষ করা হবে এবং ঘাতকদের ধরার জন্য পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। এদিকে নিহত নৈশ প্রহরী জাহাঙ্গীর হোসেনের গ্রামের বাড়ি ঝাঁপাঘাট গিয়ে দেখা যায়, তার বাবা কাইয়ুম শেখ বুক চাপড়িয়ে আহাজারি করছেন আর বলছেন এই দিন ব্যাংকে কর্র্মরত অবস্থায় জাহাঙ্গীরকে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের জীবনে রোজা ঈদ আসলেই ছেলে জাহাঙ্গীরের জন্য উন্মত হয়ে যান সদস্যরা। ঘরের বারান্দায় ডুকরে ডুকরে কাঁদছেন নিহত জাহাঙ্গীরের স্ত্রী সুমাইয়া খাতুন। আর স্বামীর অকাল মৃত্যুতে সব কিছু যেন এলোমেলো করে দিল স্ত্রী সুমাইয়ার জীবন। তাছাড়া প্রতিনিয়ত আতংকে থাকেন নিহত জাহাঙ্গীরের পরিবারের সদস্যরা। যেন ঘাতকদের আক্রমন তাড়া করে সব সময়। যে ব্যাংকের আমানত রক্ষার জন্য জাহাঙ্গীর জীবন দিয়ে দিলেন এখন সেই ব্যাংকের লোকজন তেমন খোঁজ খবর রাখেন না। উপার্জনক্ষম এক মাত্র ছেলেকে হারিয়ে নিহত জাহাঙ্গীরের পরিবারের সদস্যরা বহু কষ্টে জীবন যাপন করছেন। ঈদ আসলেই দেখা যায় তাদরে জীবনের কালো অধ্যায়। কাইযুম আরও বলেন, ছেলে জাহাঙ্গীর ও সহপাঠি আসাদকে যারা নির্মম ভাবে কুপিয়ে গলাকেটে হত্যা করছে সেই সব ঘাতকদের গ্রেফতার করে আইনের সর্বচ্ছো শাস্তি ফাঁসি দাবি করি। তাহলে তাদের পরিবার শান্তি পাবেন বলে আক্ষেপ করেন। এদিকে জোড়া হত্যা ঘটনার ১মাস পর সোনালী ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকে কর্র্মরত অবস্থায় খুন হওয়া দুই নৈশ প্রহরী জাহাঙ্গীর আলমের পিতা কাইয়ুম শেখকে ২লাখ টাকার চেক ও তার স্ত্রী সুমাইয়া খাতুনের হাতে ৩ লাখ টাকার চেক এবং আসাদুুজ্জামান আসাদের পিতা আনারুল ইসলামের হাতে ২লাখ টাকার চেক ও তার স্ত্রী রিমা খাতুনের হাতে ৩ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়। তাছাড়া ঘটনার দিন নিহত দুই নৈশ প্রহরীর দাফন-কাফনের জন্য প্রত্যেককে ২৫হাজার করে ৫০হাজার টাকা দেওয়া হয়। নিহত দুুই নৈশ প্রহরীর পরিবারকে সোনালী ব্যাংকের পক্ষ থেকে সর্বমোট ১০লাখ ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সাহয্য প্রদান করেন বলে ব্যাংক ম্যানেজার জানান।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4215186আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 6এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET