২২শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

একনজরে মতিউর রহমান নিজামী

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : মে ১১ ২০১৬, ০০:৩৫ | 639 বার পঠিত

index_127253 নয়া আলো- মতিউর রহমান নিজামী ১৯৪৩ সালের ৩১ মার্চ পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার মনমতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা নাম লুৎফর রহমান খান।

নিজ গ্রাম মনমতপুর প্রাইমারি স্কুলে তাঁর লেখাপড়ার সূচনা হয়। এরপর তিনি সাঁথিয়ার বোয়াইলমারী মাদরাসায় ভর্তি হন।

১৯৫৫ সালে তিনি দাখিল পরীক্ষায় ১ম বিভাগ লাভ করেন। ১৯৫৯ সালে পাবনার শিবপুর ত্বহা সিনিয়র মাদরাসা থেকে ১ম বিভাগে বোর্ডে ষোলতম স্থান অধিকার করে আলিম পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জন করেন। ১৯৬১ সালে একই মাদরাসা থেকে তিনি ফাজিল পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন।

পরে মাদরাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের জন্য তিনি ঢাকা আলিয়া মাদরাসা ভর্তি হন। এ মাদরাসায় অধ্যয়নকালেই তিনি ইসলামী ছাত্রসংঘের সংস্পর্শে আসেন।

১৯৬৩ সালে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে কামিল পরীক্ষায় নিজামী ফিকাহ শাস্ত্রে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন। পরবর্তীকালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং ১৯৬৭ সালে কৃতিত্বের সাথে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করেন।

নিজামী ১৯৬২-৬৬ সাল পর্যন্ত ইসলামী ছাত্রসংঘের কেন্দ্রীয় অফিস সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সালে নিজামীর উপর পূর্বপাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতির দায়িত্ব অর্পিত হয়। পরপর তিন বছর তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি নিখিল পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের কেন্দ্রীয় সভাপতি (নাজেমে আ’লা) নির্বাচিত হন। দুই বছর তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।

ছাত্রজীবন শেষে মতিউর রহমান নিজামী ১৯৭১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। তিনি পর্যায়ক্রমে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য হিসেবে ১৯৭৯-১৯৮২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৩ সালে তিনি জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মনোনীত হন এবং ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত এ-দায়িত পালন করেন। ১৯৮৮ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত একটানা ১২ বছর মতিউর রহমান নিজামী জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০০ সালের ১৯ নভেম্বর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী জামায়াতে ইসলামীর আমির নির্বাচিত হন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন। তবে কারাবন্দী থাকার কারণে ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে দলের দায়িত্ব পালন করছেন নায়েবে আমির মকবুল আহমাদ।

মতিউর রহমান নিজামী ১৯৯১ সালে পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া) নির্বাচনী এলাকা থেকে ৫ম জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ওই সময় তিনি জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় দলনেতার দায়িত্ব পালন করেন।

অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে কেয়ারটেকার সরকারের বিধান সংবিধানে অন্তর্ভূক্ত করার জন্য জামায়াতের সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে সংসদে নিজামী বিল উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে কেয়ারটেকার সরকারের বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়।

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং সরকারের মন্ত্রিপরিষদে যোগদান করেন।

মাওলানা নিজামী দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৃষি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের  দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন।

মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী জাতীয় সংসদ ও সংসদের বাইরে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিক পালন করেছেন।

মতিউর রহমান নিজামী বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সংস্থা, ইসলামী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণে বিদেশ সফর করেন। তিনি ব্রিটেন, আমেরিকা, ফ্রান্স, গ্রীস, জার্মানি, চীন, ইটালি, কানাডা, সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, বাহরাইন, কুয়েত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, জাপান, পাকিস্তান, ইরান, তুরস্কসহ প্রায় অর্ধশত দেশ সফর করেন।

২০১০ সালের ২৯ জুন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে করা একটি মামলায় মতিউর রহমান নিজামীকে জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বের হওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করে।

পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর মতিউর রহমান নিজামীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

ওই বছর ২৩ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল আবেদন করেন মাওলানা নিজামী।

২০১৬ সালের ৬ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে রায় দেন। আপিল বিভাগের রায়ে মৃত্যুদণ্ডের তিনটি ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দুটি দণ্ডাদেশ বহাল রাখা হয়।

গত ১৫ মার্চ নিজামীর আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

এর পর গত ২৯ মার্চ মতিউর রহমান নিজামী আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন দায়ের করেন। ৭০ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে মোট ৪৬টি (গ্রাউন্ডে) যুক্তি দেখিয়ে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে খালাস প্রদান এবং অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আরজি জানানো হয়।

গত ৫ মে নিজামীর রিভিউ আবেদন খারিজ করে মৃত্যুদণ্ডবহাল রাখেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ।

৯ মে সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন। এরপর বিকেল ৫টার কিছু পর আপিল বিভাগের একটি প্রতিনিধিদল রায়ের কপি ট্রাইব্যুনালে পৌঁছে দেন।

এরপর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সন্ধ্যা ৭টা পাঁচ মিনিটে রায়ের কপি নিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যান। জ্যেষ্ঠ জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবীর রায়ের কপি গ্রহণ করেন। পরে রাতেই নিজামীকে রিভিউ খারিজ করে দেওয়া পূর্ণাঙ্গ পড়ে শোনান।

১০ মে মঙ্গলবার রাতে মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4151324আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 10এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET