৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ই সফর, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

একটি উজ্জল নক্ষত্র ও রাজপথের একজন সংগ্রামী নেতাকে হারালো আ’লীগ!

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, নয়া আলো।

আপডেট টাইম : জুন ১৩ ২০২০, ২০:৩৫ | 715 বার পঠিত

এম.দুলাল উদ্দিন আহমেদ:- আজ সকল সকল জল্পনা-কল্পনা চাওয়া-পাওয়ার অবসান ঘটলো। একজন বিশাল ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক নেতা আলহাজ্ব মোহাম্মাদ নাসিমের চিরো বিদায়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ বিশাল ক্ষতিগ্রস্ত হলো। দল একজন নিবেদিত নেতাকে হারালো। এ অভাব পূরণ হবার নয়। উত্তরাঞ্চলের নেতা-কর্মীদের পাশে ছুটে যাওয়ার মানুষটি চিরোকালের জন্য হারিয়ে গেল। সিরাজগঞ্জের উন্নয়ন থেকে শুরু করে আপদে বিপদের ভরসারস্থল ও একজন অবিভাবককে হারালো সিরাজগঞ্জ জেলার সকল উপজেলার আ’লীগ নেতা-কর্মীরা। এমন একটি মূহুর্তে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি মারা গেলেন যে সময়ে তাকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলো সিরাজগঞ্জবাসী। তবে সিরাজগঞ্জে আনা হলে তাকে এক নজর দেখার জন্য বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারের মতো আ’লীগ নেতা-কর্মীসহ দলমত নির্বিশেষে শুভাকাঙ্ক্ষীরা ছুটে আসতো,যা হয়ে যেতো করোনাকালিন পরিস্থিতে ঝুঁকিপূর্ণ। যার জন্য আ’লীগ ও পরিবারের সদস্যরা মোহাম্মাদ নাসিমকে সিরাজগঞ্জে আনার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ঢাকার বনানীতে জানাজা ও মায়ের কবরের পাশে বনানী কবরস্থানে দাফনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।তাআত্নার মাগফিরাত কামনায় সিরাজগঞ্জ জেলা আ’লীগ শোক পালনসহ ৭দিনের কর্মসুচী ঘোষনা করেছে। ১৯৪৮ সালের ২ রা এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুরে এক সম্ভ্রান্ত রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম গ্রহন করেছিলেন মোহাম্মদ নাসিম। বাবা ছিলেন জাতীয় নেতা ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও মাতা আমেনা মনসুর। বাবা ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সরকারের অর্থমন্ত্রীসহ শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে বাকশাল গঠনের পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। মোহাম্মদ নাসিম পাবনায় ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেন। এদিকে ১৯৬৭-৬৮ সালের দিকে পাবনায় আওয়ামীলীগের এক জনসভায় যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এসেছিলেন,তখন জনসভা শেষে পাবনাস্থ ক্যাপটেন মনসুর আলীর বাসায় খাবার খান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই সময়ে বঙ্গবন্ধু মোহাম্মদ নাসিমকে কাছে ডেকে বলেন বাবা আওয়ামীলীগ নেতা আর ছেলে ইউনিয়ন করে এটা কিন্তু বেমানান দেখায়। সেদিন থেকে মোহাম্মদ নাসিম বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যোগ দেন। এরপর তিনি ছাত্রলীগ,যুবলীগ হয়ে ১৯৮১ সাল থেকে আওয়ামীলীগের মূল সংগঠনে যুব সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১৯৮৭ সালের সন্মেলনে প্রচার সম্পাদক, ১৯৯২ সালে সাংগঠনিক সম্পাদক,২০০২ সালে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ২০০৮ সালে কার্যকরী কমিটির ১ নং সদস্য মনোনীত দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি ২০১২ সাল থেকে মৃত্যুর পুর্ব পর্যন্ত সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছিলেন। মোহাম্মদ নাসিম জাতীয় সংসদে পাঁচ বার সিরাজগঞ্জ-১ কাজিপুর থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯৬ সালে কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর দু’টি আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে সিরাজগঞ্জ সদর আসন রেখে কাজিপুরের আসনটি তার বড় ভাই তৎকালীন আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়ামের সদস্য মোহাম্মদ সেলিম এর জন্য ছেড়ে দেন। মোহাম্মদ নাসিম ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০১, ২০১৪ ও ২০১৯ সালের সংসদ সদস্য নির্বাচন করে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করলে মোহাম্মদ নাসিম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী,গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী হয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি ২০০১ সালে সংসদে বিরোধী দলের চীফ হুইপ ছিলেন। ১/১১ তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে নাসিমকে গ্রেফতার করে নির্মম ভাবে নির্যাতন করা হয়। সেই সময়ে একবার বন্দী থাকাকালীন স্ট্রোক করেছিলেন। অসুস্থ ও মামলার কারনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে তার পুত্র তানভীর সাকিল জয় নির্বাচন করে জয়ী হয়। মোহাম্মাদ নাসিম ২০১৪ ও ২০১৯ সালের নির্বাচনেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। মোহাম্মদ নাসিম রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন নির্ভীক ও সক্রিয় সংগঠক । তিনি মাঠের নেতা। তিনি রাজনৈতিক জীবনে জেল জুলুম,অত্যাচারের স্বীকার হয়েছেন বার বার। তার বাবা ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ১৯৭৫ সালের ৩ রা নভেম্বরে জেলখানায় জীবন দিয়েছেন তবুও আপোষ করেননি। বাবা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আস্থাভাজন একজন নেতা। বাবার আদর্শের পথধরে মোহাম্মদ নাসিম ছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার আস্থাভাজন। ১৪ দলের নেতা-কর্মীদের প্রিয় ভাজন। সিরাজগঞ্জের উন্নয়নে তার গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। গত ১ জুন ২০২০ খ্রিস্টাব্দ মোহাম্মদ নাসিম শারীরিকভাবে দুর্বলতা নিয়ে রাজধানীর শ্যামলীতে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে তার করোনা টেষ্ট করা হলে পজিটিভ রেজাল্ট আসে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার স্ট্রোক করলে মস্তিষ্কে রক্ত ক্ষরণ করায় জরুরী ভিত্তিতে অপারেশন করা হয়। মোহাম্মাদ নাসিম একজন জাতীয় নেতা হিসেবে একদিনে তৈরী হয়নি। তৈরি হতে তিনি তিলে তিলে পরিশ্রম করেছেন এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করে তিনি হয়েছিলেন জাতীয়নেতা। অবহেলিত উত্তরবঙ্গ থেকে কেন্দ্রে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের হাল ধরার মতো কিংবা নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করা সহজ কথা নয়। রাজনীতির নেতৃত্বে অবস্থান তৈরীতে চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্মুখীন হতে হয়। মোহাম্মাদ নাসিম তেমনি একজন নেতা। শুধু সিরাজগঞ্জ নয় মোহাম্মদ নাসিমের জন্য উদ্বিগ্ন ছিল সমগ্র রাজনৈতিক অঙ্গন। আজ সকাল ১১ টায় একজন রাজনৈতিক বীরের জীবনাবসানের মধ্য দিয়ে আওয়ামীলীগ একজন সংগ্রামী নেতাকে হারালো। সিরাজগঞ্জবাসী তথা সমগ্র উত্তরাঞ্চল একজন অবিভাবককে হারালো। প্রয়াত জাতীয় এ বর্ষীয়ান নেতার বিদেহী আত্নার মাগফিরাত কামনা করছি।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4107989আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 2এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET