৩১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৩ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

উল্টো তিথি-অশান্ত মুসাফির

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : মে ১৮ ২০১৬, ০২:২১ | 693 বার পঠিত

উল্টো তিথি

লেখকঃ অশান্ত মুসাফির

প্রথমে বুঝতে পারিনি, কেউ একজন এসে বলল, ওদের বিয়ে হয়েছে।ঐ যে দেখছো, মেয়েটি হলো নতুন বউ, ছেলেটি লাজুক লাজুক চরিত্রের ভাব নিয়ে, মুখে রুমাল দিয়ে লাল পাঞ্জাবী আর সাদা পায়জামাতে আবৃত হয়ে রিক্সার মাঝে বসা। আমিতো অবাক, হায় আল্লাহ! এবুঝি নতুন বউ ? লালে লাল শাড়ি, কপালে কাল টিপ, সারা মুখে সাজু গুজু। দৌড়ে আসতে আসতে হাঁপিয়ে উঠলাম।

পাড়া গাঁয়ের সব রকমের, ছোট বড়, নারী পূরুষের উপস্থিতি, মনে হলো বউ দেখার মেলা বসেছে। আমার এ প্রথম, নতুন বর কন্যে দেখার সুযোগ জুটলো। মনের ইচ্ছাতেই, ভাল করে বরের চেয়ে কন্যেকে বেশি দেখতে লাগলাম। পায়ে আলতা আর হিল জুতো, নুপুর যেন চকচকে পকপকে রৌপালি সূর্য। ওর হাটাতে চৈতালি বাতাসের ঢেউর মত ছন্দ খেলে যায়, দু’পায়ের নৃত্যে উকি দেয় নিম্ন কলার সোনালি আবহ। মনে হয়, তাতীর বোনা তাতের শাড়ির ভিতর নতুন অন্যন্যা নারী ! মনে হয় আজন্ম আবৃত সুশীল বসন, সশরীরে পেতে বসে ধাঁন ধুপার পাটির উপর গেরেছে আসন। সেকি হৌ হুল্য, খুনসুটি, লুটাপুটি আর ছুটাছুটি।

কোন এক পোকরা, হঠাৎ করে খেখিয়ে বলে উঠল, একা নয়গো একা নয়, একের সাথে আরো দু’জন ফ্রী! যেন খাটি আলতার মাধুবিলতা। পাড়ার চাচায় চেচিয়ে বলে কোন ছোকরারে ? হাঁসিতে খুনোখুনি, এদিকে সপ্রাণে পালিয়ে বাঁচে গোবেচারা। এই প্রথম জানতে ও বুঝতে পারি, নারী কি কারণে একান্ত হুলকারি, রঙ্গদারি, রকমারি প্রাণঘাতী, পরমঅতি। যে বিন্দুতে গলিত পলিত ললিত পুরো সিন্ধু। আমিতো অতি সকাশে মনের আবেশে, পরশ মেখে, বজ্ররের ডাকে থান্ড হলাম। দুষ্ট দলের ছোকরাদের আনাগোনা আসতে আসতে বেড়ে যাচ্ছে, ওদের টিপাটিপির চোখগুলো গুরুত্বের সাথে কাজ সম্পাদনের শুরু করল। এতদিন খামখা সামাজিক আর পাবিবারিক প্রয়োজনের আকার নিয়ে বেকার ঘাটাঘাটি চাটাচাটি করেছি, এই প্রথম সশরীরের তাগাদায় বুঝতে পারলাম, নারীর অন্য এক প্রয়োজনের অনুভুতি। নিজের অঙ্গের ভঙ্গিমায় নারী যৌবিক প্রয়োজন আর শারীরিক আয়োজনের রহস্য বিধির্ন্য করতে শুরু করলাম।

কন্যের দিকে তাকাব, না উপডোকন নিয়ে ভাববো, এই নিয়ে শুরু হলো গুরুদেশের টানাটানি, কে মানে আর কি মানি, অন্যেরা না জানুক, আমি বেচারার কানাকানি। পুতুলের মতন যতনের যার বসন, হঠাৎ বরের আগমনে তাঁর পাশে আসন, ভাবতে আর যপতে যপতে কন্যা দেখার শুরু, আমার চোখ তাঁর উপর, তাঁর চোখ নিরব ডাগর। যেন দৃষ্টির মোহর, নাকের মাঝে নাসিকা বসে হরিণির মিগ নাভীর ঘ্রাণ। কান দু’খান হাসি আর তামাশার নির্মল শ্রোতা।ঠোটের কোনে মোটের উপর ওহু ওহু শব্দের আলপনার ছবি। সমস্ত বুক যেন চাওয়া আর মায়ায় বেকুল। নাবিতে ধাক্কা দিয়ে বিদ্যুতের ঝাকি। আমি অস্থির, কন্যে স্থির। আচমকা বিদ্যুতের গতিতে, মতি হারিয়ে ঐ উপডোকনের একজন থেকে অন্যজনে দিশেহারার মাতোয়ারা। কাকে রাখি শ্যামে আর কাকে বাদি প্রেমে ? করিব বরণ নাকি, ঐ করিব হরণ ? এ মোর জীবনের,ঐ মোর মরনের কারণ।

ডানে না বামে ? এনিয়ে অলিন্দ্র আর নিলয়ের, ঢোল-তবলার পিটাপিটিতে শান্তের মন, কারলাগি যেন অশান্তের গর্জন-তর্জন। আজ স্বয়ং বিচারকের কাছেই অনিশ্চিত দাবি। চাবির কারিগর তালা খোলার জন্য বেবাচেকা খাচ্ছে। চারদিকে শখানেক মানব-মানবি, দু’শখানেক নয়ন-তারার আলোক পলক খেলা চলছে। আমার দু’চোখ, চার চোখ নিয়ে টোকাটোকি ঠোকাঠোকি, চোখাচোখি দেখাদেখিতে ব্যস্ত। ডানের টান ডানে আর বামের টান বামে, নাক বরাবর দাঁড়িয়ে নিজের কাছে মনের জিজ্ঞাসা। কিরে শান্তরমন ? আজ কিসের টানে এত অশান্ত ? তোর সংসার ধর্ম নাই, আগের কাল, পরের কাল, চিন্তা নাই, ইচ্ছা- অনিচ্ছা, আবেগ-আবেশ, কামনা- বাসনা ছিলনা। কিসের টানে জোয়ার এসে, দু’কুল পাড়ে আঘাত করে ? অন্যের ভিটে মাটির উপর ধ্বংস লীলার মাতলামি শুরু করলি ? হঠাৎ কেউ একজন পিছন থেকে মাথায় টোকা মেরে বলে, কিরে খোকা!

দাড়িয়ে দাড়িয়ে কি দেখছ ? গভীর ঘুমের নেশায় যখন রেলগাড়ির হুইসেলের শব্দ ব্যাঘাত করে, ঠিক তেমনি করে টোকা খেয়ে বোকা বনে, আঘাতের শব্দে জেগে উঠলাম আর মুখ পসকে দপাস করে বলে পেললাম, দেখনা শালা কি করি ? রুপনগরের বাজারের মাল দেখি মাল। এতসুন্দর পরীর মত দেখিনি কোন কাল। যাক বাচা গেল আমারই সমবয়সী বন্ধু বলে, নাহয় জ্বালা নিবারনের জন্য, ধরে নিয়ে পেলে দিত জলে। অনেক পরে, পিছনের ঠেলাঠেলি সামলিয়ে আগ বারিয়ে বললাম, কে গো তুমি ললনা ? নামটি তোমার বলনা ? হঠাৎ ব্যারেক করে হাসি দিয়ে, দু’জন মিলে কাশি, আমার গলার ফাসি। মুখ বেকিয়ে কনা, মাথার উপর ফণা , দু’ঠোট চেপে মুখে, বলল আমায় সুখে, আজ পূর্ণিমারাশি, আমরা সর্বনাশী। বাজবে তোমার বাঁশি। অনেক কসরত আর মহরত করে বের করলাম, অমাবস্যার মাঝে লুকিয়ে থাকা চাঁদনীকে। এতেই বুঝিলাম, শান্তর নদী তীরে ঢেউয়ের আগমনী কারণ। যে চাঁদনীর টানে নদী আজ দিশেহারা, পাগল পারা। সে আর অন্য কেউ নয়, ওরা আমার প্রথম দেখা অমাবস্যার উল্টো তিথি।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4167224আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 14এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET