৩১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৩ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

উত্তরায় সেনাকর্মকর্তার মাকে কুপিয়ে হত্যা

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : জুন ০৬ ২০১৬, ০৮:৪১ | 635 বার পঠিত

Kill_sm_742054719_8নয়া আলো ডেস্ক- রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম এলাকায় এক সেনাকর্মকর্তার মাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের নাম মনোয়ারা সুলতানা (৬৪)। ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। ঠিক কি কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা পরিবার ও পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ৯ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর রোডের ১১ নম্বর নিজ বাসার দ্বিতীয় তলায় একাই থাকতেন মনোয়ারা সুলতানা। শনিবার রাত ৩টার দিকে ওই বাসা থেকে নিহতের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গতকাল বিকালে ওই বাড়িতে গেলে দেখা যায় র‌্যাব-১ এর এএসপি আজমিরা নাসরিনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা সেখানে অবস্থান করছেন। ঘটনাস্থল দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটটি পুলিশ তালাবদ্ধ করে রেখেছে। গত সোমবার থেকে বাড়িতে কোনো প্রহরী নেই। তার আগে রবি নামে এক প্রহরী ছিলেন। ঘটনার আগে গেইটটি তালা দেয়া হয়েছিলো কি-না তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি কেউ। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা সন্ধ্যা ৭টার পর দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকতে পারে। তাকে নির্বিঘ্নে হত্যার পর তারা পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় ওই বাড়ির কেউ জড়িত কি-না বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তারা। শনিবার রাত ৯টার দিকে মনোয়ারার জন্য খাবার পাঠান তৃতীয় তলার ভাড়াটে লাইলি খাতুন। তার কলেজ পড়ুয়া ছেলে মেহেদি খাবার নিয়ে গেলে দরজা বন্ধ পান। দরজায় বেশ কয়েকবার নক করে ফিরে যান তিনি। বিষয়টি তার মা লাইলিকে জানানোর পর লাইলিও নিচে নেমে মনোয়ারাকে ডাকাডাকি করেন। দ্বিতীয় তলার দুটি ইউনিটের ডানদিকের ফ্ল্যাটে মনোয়ারা সুলতানা থাকতেন। অন্যটিতে সাতজন ছাত্র মেস করে থাকে। ওই মেসের প্রতীক, পলাশ, নাঈম জানান, দরজায় জোরে জোরে শব্দ হচ্ছিলো শুনে তারা বের হন। বের হয়ে দেখতে পান লাইলি ও তার ছেলে দরজায় দাঁড়িয়ে ডাকাডাকি করছেন। প্রতীকের কাছে লাইলি জানতে চান, মনোয়ারা বাইরে গেছেন কি-না। তারা জানেন না বলে জানান। এ বিষয়ে লাইলির ছেলে মেহেদি বলেন, পরে নিচতলার বাসিন্দা এ্যানি আন্টিকে  ডেকে আনি। এ্যানি ও তার স্বামী অপু উপরে উঠে ডাকাডাকি করে সাড়া-শব্দ না পেয়ে মনোয়ারার ছেলে কর্নেল খালেদ বিন ইউসুফকে ফোনে বিষয়টি জানান। প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশসহ মনোয়ারার ছেলে খালেদ ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। এ সময় দরজার লক খুলেই রক্ত দেখে মা বলে চিৎকার করে উঠেন কর্নেল খালেদ। দরজার পাশে গ্লাসঘেরা ড্রয়িংরুম। গ্লাস সরাতেই সোফার উপরে মায়ের গলাকাটা লাশ দেখতে পান তারা। কারা, কেন তাকে হত্যা করেছে এ বিষয়ে কিছুই জানেন না আশপাশের লোকজন। ঘটনার পর লাইলি, অপু ও এ্যানিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। প্রতিবেশীরা জানান, একজন গৃহপরিচারিকা দুপুরে বাসায় গিয়ে মনোয়ারার কাজ করে দিতেন। তবে রান্নাবান্না খুব কম করতেন মনোয়ারা। বাইরের কেনা খাবার বেশি খেতেন। কেনাকাটা করে দিতেন গৃহপরিচারিকা। এছাড়া, বাসায় থেকে ফেরিওয়ালার কাছ থেকে কেনাকাটা করতেন তিনি। বাসায় বাইরে যেতেন খুব কম। বাইরের তেমন কেউ এ বাসায় আসা-যাওয়া করতো না। বাসায় নামাজ পড়ে, টিভি দেখে ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে গল্প করেই সময় কাটাতেন তিনি। তার তিন ছেলের মধ্যে কর্নেল খালেদ বিন ইউসুফ চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত। মেজো ছেলে ইকবাল ইবনে ইউসুফ অস্ট্রেলিয়ায় ও ছোট ছেলে আরমান ইবনে ইউসুফ আমেরিকায় থাকেন। ১২ বছর যাবৎ ওই বাড়িতে বসবাস করছিলেন মনোয়ারা সুলতানা। তার সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল কিনা তা তাদের জানা নেই। এদিকে নিহতের ভাই মির্জা আজম ঢামেক হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, কয়েক বছর আগে মনোয়ারা সুলতানার স্বামী ডা. আবু ইউসুফ মারা যান। তাদের তিন সন্তান রয়েছে। তবে ওই বাড়িতে তারা থাকতো না। চাকরির জন্য তারা অন্যস্থানে থাকে। তিনি আরো জানান, মনোয়ারা ওই বাড়িতে একাই থাকতেন। বাড়িতে একজন গৃহকর্মী, একজন কেয়ারটেকার ছিল। মূলত তারাই মনোয়ারাকে দেখাশুনা করতো। মির্জা আজম জানান, রাতের বেলায় তাকে অনেক ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে আশেপাশের লোকজনকে বিষয়টি জানান। এরপর পুলিশ খবর পেয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। নিহতের বোনের মেয়ে সানজিদা খাতুন জানান, তার খালা শুধু নিয়মিত শরীর চর্চা করার জন্য সকালে হাঁটতে বের হতেন। জরুরি কাজ ছাড়া তেমন বাড়ির বাইরে বের হতেন না। তার তিন ছেলে আছে। এক ছেলে কর্নেল, এক ছেলে চিকিৎসক ও এক ছেলে প্রকৌশলী। একজন বিদেশে থাকেন আর দুইজন দেশেই থাকেন।  তারা মাঝে মধ্যে ওই বাসায় এসে খালার সঙ্গে দেখা করে যেতেন। আমাদের জানা মতে তার কোনো শত্রু ছিল না। অত্যন্ত দানশীল নারী ছিলেন তিনি। তাকে কেন হত্যা করা হলো তা বুঝতে পারছি না। নিহতের গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলার ভাণ্ডারিয়া এলাকায়। উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি আলী হোসেন খান জানান, নিহতের গলায়, পিঠে ও পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4167130আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 10এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET